হালিশহর রবীন্দ্র বিদ্যামন্দিরে গত ৯ই জুলাই অনুষ্ঠিত হয়ে গেল সম্পূর্ণ ভিন্নধারার এক অনুষ্ঠান। বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত হল বিদ্যালয়ের দেওয়াল পত্রিকা সারস্বতের ‘ পশ্চিমবঙ্গ ও সংস্কৃতি ‘ সংখ্যা। পত্রিকার এই পর্বটিকে একটি অসাধারণ এবং অনন্য বিন্যাসে সজ্জিত করে প্রকাশ করা হয়। এই মহতী উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক প্রকাশ করেন বীজপুর বিধানসভার সম্মানীয় বিধায়ক শ্রী সুদীপ্ত দাস।
এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক, হালিশহর চক্র, শ্রী সমীর মজুমদার মহাশয়।
বিদ্যালয় দেওয়াল পত্রিকা স্বারস্বতের ইতিহাস দূর অতীতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তৎকালীন সংস্কৃতিমনা শিক্ষকদের ঐকান্তিক ইচ্ছা ও প্রয়াসে। ইতিহাসের সেই ধারা আজও বিদ্যালয়ে প্রবাহিত হয় একই উৎসাহে।
এবারের সংখ্যার বিশেষত্ব এর অনবদ্য বুননশৈলী, যা প্রাথমিকভাবে বিদ্যালয় প্রধান শ্রী সঞ্জীব ঘোষের ভাবনা সঞ্জাত। পরবর্তীতে সেই কাঠামোতে মৃন্ময় রূপদান করেছেন বিদ্যালয়ের সকল ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী।
সময়স্রোতের এই পর্যায়ে দাঁড়িয়ে প্রতিটি শিক্ষার্থীর আপন জন্মভূমিকে গভীরভাবে বুঝে নেওয়ার এবং তাঁর সংস্কৃতিকে সুরক্ষিত রাখার প্রয়োজনীয়তা যে কতখানি তা অনুধাবন করেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। মোট দশটি ভাগে সমগ্র রাজ্যের সাংস্কৃতিক মানচিত্র তুলে ধরা হয়। তাতে ছিলেন বিখ্যাত বাঙালি মনীষী, যাঁরা পৃথিবীতে পশ্চিমবঙ্গের নাম উজ্জ্বল করেছেন, বাংলার উৎসব ও পালাপার্বণ, খাদ্য কুটির শিল্প, সংগীত, লোকসংস্কৃতির বিভিন্ন ধারা এবং বাংলার বিভিন্ন গৌরবময় ঐতিহ্য। সমগ্র বিষয়টিকে বাচ্চাদের হাতে বানানো মডেল, ছবি , লেখা দিয়ে সাজিয়েছিলেন শিক্ষকরা।
মাননীয় বিধায়ক বিদ্যালয়ে এসে রবীন্দ্রনাথের আবক্ষ মূর্তিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন। অনুষ্ঠান মঞ্চে এরপর বিধায়ককে আপ্যায়িত ও সম্বর্ধিত করা হয় একটি সুন্দর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। বিদ্যালয় প্রাক্তনী তথা আকাশবাণীর ঘোষিকা শ্রীমতি সংগীতা দত্ত বিধায়কের সামনে হালিশহর রবীন্দ্র বিদ্যামন্দিরের ছাত্র-ছাত্রীদের আকাশবাণীতে অংশগ্রহণ ও সম্মাননা স্মারক প্রাপ্তির বিষয়টি তুলে ধরেন। এরপর সম্মানীয় বিধায়ক তাঁর সংক্ষিপ্ত ও সুন্দর বক্তব্য পেশ করেন এবং শিক্ষার্থীদের সঠিক মানুষ হিসাবে গড়ে ওঠার বিষয়টিতে সর্বাধিক গুরুত্ব দেন।
এরপর প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে তিনি প্রদর্শনী কক্ষ তথা ‘ পশ্চিমবঙ্গ ও সংস্কৃতি ‘ সংখ্যার শুভ উদ্বোধন করেন এবং বিষয়বস্তুর নিবিড় পর্যবেক্ষণ করেন। বিদ্যালয়ের এই উদ্যোগকে তিনি সাধুবাদ জানান এবং সর্বতঃভাবে বিদ্যালয়ের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন। পরিশেষে তিনি মিড ডে মিল প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করেন।
মাননীয় অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক শ্রী সমীর মজুমদার মহাশয় এই সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের ভূয়সী প্রশংসা করে ছাত্রছাত্রীদের এই রকম সৃজনশীল কাজে আরও অগ্রবর্তী হওয়ার অনুপ্রেরণা যোগান। সাথে সাথে শিক্ষক শিক্ষিকাদের এই ধরনের শিক্ষণ-অতিরিক্ত ছাত্রছাত্রীদের সার্বিক বিকাশমূলক কর্মকান্ডে উজ্জীবিত এবং অনুপ্রানিত করে তোলার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ এবং অভিনন্দন জানান।
সমগ্র অনুষ্ঠান শেষ হয় ছাত্র শিক্ষক সমন্বয়ে ‘ বন্দেমাতরম ‘ গাওয়ার মধ্য দিয়ে।
