বিদেশি অর্থের তদন্তে বসিরহাটে ইডি-এটিএসের ম্যারাথন তল্লাশি, নিশানায় খারিজি মাদ্রাসা
বসিরহাট : বসিরহাটের হাড়োয়া ও হাসনাবাদে খারিজি মাদ্রাসা এবং বিদেশি অর্থ লেনদেনের অভিযোগ ঘিরে ফের তৎপর হলো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি। বৃহস্পতিবার সকালে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম স্কোয়াড (এটিএস) এবং এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) যৌথভাবে একাধিক জায়গায় ম্যারাথন তল্লাশি চালায়। তদন্তকারীদের এই অভিযানে এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় দুই বছর আগে হাড়োয়ার একাধিক খারিজি মাদ্রাসা এবং সংখ্যালঘুদের জন্য পরিচালিত একটি বেসরকারি হাসপাতালের মাধ্যমে বিদেশি অর্থ বা বৈদেশিক মুদ্রা গ্রহণের অভিযোগ সামনে আসে। সেই মামলার তদন্তে উত্তরপ্রদেশ এটিএস হাড়োয়ার ওই প্রতিষ্ঠানগুলির সঙ্গে যুক্ত আব্দুল সামাদের জামাই আবু সালামকে গ্রেপ্তার করেছিল। একই মামলায় হাসনাবাদের রামেশ্বরপুর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল্লা গাজীকেও গ্রেপ্তার করা হয়। পরে দু’জনেই জামিনে মুক্তি পান। তবে তদন্ত থেমে থাকেনি। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই বৃহস্পতিবার ফের অভিযান চালানো হয়।
এদিন হাড়োয়া থানার পণ্ডিতপোল, কালিকাপুর সহ তিনটি খারিজি মাদ্রাসায় তল্লাশি চালান তদন্তকারীরা। পাশাপাশি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের চিকিৎসার জন্য পরিচালিত ‘তাহেরিয়া’ নামে একটি বেসরকারি হাসপাতালেও দীর্ঘ সময় ধরে নথিপত্র খতিয়ে দেখা হয়। হাসপাতালের আর্থিক লেনদেন, অনুদানের উৎস, নথিভুক্ত হিসাব এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কাগজপত্র পরীক্ষা করেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।
অন্যদিকে, হাসনাবাদ থানার রামেশ্বরপুর এলাকায় আব্দুল্লা গাজীর বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়। তদন্তকারী দলের সদস্যরা বাড়ির বিভিন্ন নথি, আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইস পরীক্ষা করেন বলে সূত্রের খবর। অভিযানের সময় কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তায় গোটা এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছিল। এটিএস সূত্রের দাবি, বিদেশ থেকে অবৈধ উপায়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ এনে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় খারিজি মাদ্রাসা গড়ে তোলা হয়েছে বলে তদন্তে প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। বিদেশি অনুদানের প্রকৃত উৎস, সেই অর্থ কীভাবে দেশে এসেছে এবং কোথায় কীভাবে খরচ হয়েছে, তা নিয়েই তদন্তের মূল ফোকাস। তদন্তকারী সংস্থাগুলির দাবি, বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত আইন এবং আর্থিক লেনদেনের একাধিক দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযানের সময় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথি সংগ্রহ করা হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। সেগুলি খতিয়ে দেখেই তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করা হবে। যদিও অভিযুক্তদের পরিবার বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এদিনের তল্লাশি নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তদন্তকারীরাও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বিবৃতি দেননি। তবে কেন্দ্রীয় সংস্থার এই যৌথ অভিযানের ফলে বসিরহাট জুড়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে বিদেশি অর্থের উৎস এবং খারিজি মাদ্রাসাগুলির আর্থিক কার্যকলাপ নিয়ে।
