।। সীমান্তে মানব পাচার রুখতে সচেতনতার বার্তা, স্বরূপনগরে বিএসএফের বিশেষ কর্মসূচি ।।
বসিরহাট : বসিরহাটের সীমান্তবর্তী ব্লকে মানব পাচার, বাল্যবিবাহ ও শিশু শ্রমের মতো সামাজিক অপরাধ রুখতে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশেষ উদ্যোগ নিল বিএসএফ। ১৪৩ ব্যাটালিয়ন বিএসএফের উদ্যোগে এবং হাকিমপুর বিএসএফ বিওপির অ্যান্টি হিউম্যান ট্র্যাফিকিং ইউনিটের ব্যবস্থাপনায় বুধবার বসিরহাটের স্বরূপনগর ব্লকের সীমান্তবর্তী বিথারী কে.পি. হাইস্কুলে একটি সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিতে বিদ্যালয়ের ১৪৫ জন ছাত্র-ছাত্রী অংশগ্রহণ করে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএসএফের ইন্সপেক্টর নির্মল ঘোষ ও তার প্রতিনিধি দল, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রতিনিধি সুব্রত দুলুই, সমাজসেবী রিন্টু মণ্ডল, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনীন্দ্রনাথ মণ্ডল, সহকারী প্রধান শিক্ষক পলাশ সরকার, শিক্ষক দুর্যোধন ঘোষ সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
কর্মসূচিতে বক্তারা সীমান্তবর্তী এলাকায় মানব পাচারের কৌশল, পাচারকারীদের বিভিন্ন প্রলোভন এবং সেসব থেকে কীভাবে সতর্ক থাকতে হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীদের উদ্দেশে জানানো হয়, অপরিচিত ব্যক্তি বা ভুয়ো চাকরির প্রলোভনে পা না দেওয়ার পাশাপাশি কোনও সন্দেহজনক ঘটনা নজরে এলে দ্রুত প্রশাসন বা বিএসএফকে জানানো উচিত। এদিনের শিবিরে মানব পাচার প্রতিরোধের পাশাপাশি বাল্যবিবাহমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা এবং শিশু শ্রম বন্ধে সকলের ভূমিকার ওপর জোর দেন বক্তারা। অল্প বয়সে বিয়ের কুফল, শিক্ষার গুরুত্ব এবং শিশুদের অধিকার সম্পর্কে ছাত্র-ছাত্রীদের সচেতন করা হয়। একই সঙ্গে শিশু শ্রমের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বানও জানানো হয়।
বর্তমান সময়ে সামাজিক মাধ্যমের ক্রমবর্ধমান ব্যবহারকে সামনে রেখে তার সুফল ও কুফল নিয়েও বিশদ আলোচনা করেন উপস্থিত আধিকারিকরা। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম সহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। ভুয়ো পরিচয়, সাইবার প্রতারণা এবং অনলাইন মাধ্যমে মানব পাচারের ফাঁদ সম্পর্কে ছাত্র-ছাত্রীদের সতর্ক করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ইন্সপেক্টর নির্মল ঘোষ, সুজিত সিং, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনীন্দ্রনাথ মণ্ডল-সহ অন্যান্য অতিথিরা। তারা বলেন, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে মানব পাচার রোধে শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, এর জন্য প্রয়োজন সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ। ছাত্র-ছাত্রীদের সচেতন করাই ভবিষ্যতে এই ধরনের অপরাধ রোধের অন্যতম কার্যকর উপায় বলেও মত প্রকাশ করেন তারা বিএসএফের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ভবিষ্যতেও এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীদের সামাজিক দায়বদ্ধতা সম্পর্কে আরও সচেতন করে তোলা হবে।
