দিল্লি পুলিশের নাম করে লাখ লাখ টাকা সাইবার প্রতারণা, খোয়া যাওয়া টাকার সিংহভাগ উদ্ধার করল মেমারি থানার পুলিশ
আনোয়ার আলি আনসারী, মেমারি
‘দিল্লি পুলিশ’-এর ভুয়ো পরিচয় দিয়ে ভয় দেখিয়ে সাইবার প্রতারণার ফাঁদে ফেলে হাতিয়ে নেওয়া টাকার একটি বড় অংশ উদ্ধার করল মেমারি থানার পুলিশ।
মেমারির চেকপোস্ট এলাকার বাসিন্দা তথা বিএসএফ (BSF) কর্মী নেপালচন্দ্র ঘোষ ও তাঁর স্ত্রী ঝুমা ঘোষের সঙ্গে ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগকারীর আত্মীয় অমরেশ কোলে জানান, গত মে মাসে তাঁদের কাছে দিল্লি পুলিশের নাম করে একটি ফোন আসে। ফোনে জানানো হয়, তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বিপুল আর্থিক গরমিল ও অবৈধ লেনদেনের হদিস মিলেছে। তদন্তের কথা বলে নানা হুমকি ও ভয় দেখিয়ে তাঁদের আধার কার্ড, ছবি ও যাবতীয় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য সংগ্রহ করে প্রতারকরা। এরপর অ্যাকাউন্ট ‘ভেরিফিকেশন’-এর নামে এবং ১০ দিনের মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মোট ৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যাঙ্কের মাধ্যমে অন্য অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করিয়ে নেওয়া হয়।
নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও টাকা ফেরত না পেয়ে এবং প্রতারকদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা বুঝতে পারেন তাঁরা সাইবার অপরাধের শিকার হয়েছেন। এরপরই মেমারি থানার দ্বারস্থ হয়ে অভিযোগ দায়ের করেন তাঁরা। একই সাথে সাইবার ক্রাইম পোর্টালেও অভিযোগ জানানো হয়।
অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত তদন্তে নামে মেমারি থানার সাইবার শাখা। তদন্ত চালিয়ে প্রতারকদের হাত থেকে ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা সফলভাবে উদ্ধার করে অভিযোগকারী পরিবারের হাতে তুলে দিতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। বাকি টাকা উদ্ধারের জন্যও তদন্ত চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। খোয়া যাওয়া টাকার সিংহভাগ ফেরত পেয়ে মেমারি থানার পুলিশকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন প্রতারিত পরিবারের সদস্যরা।
