MSME-র জন্যে রফতানি ফাইন্যান্সিংয়ে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করল ক্রেডলিক্স
২০২৭ আর্থিক বর্ষে ভারত-মেক্সিকো করিডোরের জন্যে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার লগ্নির দায়বদ্ধতা
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬: মোগলিক্সের আন্তর্জাতিক ফাইন্যান্সিং প্ল্যাটফর্ম ক্রেডলিক্স রফতানি ফাইন্যান্সিংয়ে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে। তারা ভারত, মেক্সিকো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্য ও সিঙ্গাপুর জুড়ে ১,০০০-এর বেশি MSME রফতানিকারীর সহায়তা করেছে। ক্রেডলিক্স ভারতের রিজার্ভ ব্যাংকের নিয়মের অধীন একটি NBFC আর IFSCA-র নিয়মের অধীন একটি GIFT সিটি এন্টিটিকে একত্র করেছে। এ এমন এক সংমিশ্রণ যা ক্রেডলিক্সকে দেশে নির্মাতা আর বিদেশে ক্রেতার সহায়তা করার সুযোগ দেয়। মেক্সিকো এমন এক করিডোর, যেখানে সেই সংমিশ্রণকে কাজে লাগানো হচ্ছে।
কোম্পানি ২০২৭ আর্থিক বর্ষে মেক্সিকান কোম্পানিগুলিকে ফাইন্যান্স করতে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি খরচ করতে দায়বদ্ধ হয়েছে। এর মাধ্যমে সেইসব ভারতীয় নির্মাতার সহায়তা করা যাবে, যাঁরা মেক্সিকোর ক্রেতাদের মাল সরবরাহ করেন। দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে। এই আদানপ্রদানের প্রতিফলন হিসাবে ভারতীয় দূতাবাস সম্প্রতি মোগলিক্স, ক্রেডলিক্স আর কগনিলিক্সের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও রাহুল গর্গ; মেক্সিকোয় ভারতের দূত ডঃ পঙ্কজ শর্মা; কোপারমেক্সের প্রেসিডেন্ট হোসে মোরা মেদিনা এবং একই সংগঠনের সিইও হুয়ান পাওলো মেদিনা মোরা ইসাকাকে একত্রে এনেছিল ভারত-মেক্সিকো ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও গভীর করার সুযোগ নিয়ে আলোচনা করতে।
এই করিডোর দেখে এক বৃহত্তর প্রয়োজন টের পাওয়া যাচ্ছে। ভারতের মার্চেন্ডাইজ রফতানি ২০২৭ আর্থিক বর্ষের জোরালোভাবে শুরু হয়েছে। এপ্রিল থেকে জুলাই মাসের মধ্যে ১৭৩.৭৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, অর্থাৎ বৃদ্ধি ১৭.০৪%। ভারতীয় ব্যবসাগুলি বিদেশে যত সম্প্রসারিত হচ্ছে, যথাসময়ে কার্যকরী পুঁজি পাওয়া ক্রমশ তত জরুরি হয়ে দাঁড়াচ্ছে, বিশেষ করে সেইসব MSME রফতানিকারীদের জন্য, যাঁরা দীর্ঘতর পেমেন্ট সাইকেল চালান। এক্সপোর্ট ফ্যাক্টরিং, বিদেশের রিসিভেবলসের সাপেক্ষে রফতানিকারীদের টাকা জুগিয়ে এই ব্যবধান দূর করতে সাহায্য করতে পারে। এর ফলে তাঁরা নগদের জোগান সামলাতে পারেন এবং বৃহত্তর আন্তর্জাতিক অর্ডার নিতে পারেন।
এই মাইলফলকে পৌঁছনো সম্পর্কে রাহুল গর্গ, ক্রেডলিক্সের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও, বললেন “ভারতের এক্সপোর্ট ফ্যাক্টরিং বাজার এখনো আরও উন্নত বাজারগুলির তুলনায় প্রাথমিক স্তরে আছে। সেইসব বাজারে ফ্যাক্টরিং বেশি প্রতিষ্ঠিত। ভারতের ফ্যাক্টরিংয়ের আওতা রফতানির ১%-এর কম, তাই MSME-গুলোকে রফতানির ফাইন্যান্স সুরক্ষিত করার আর তাদের আন্তর্জাতিক ব্যবসা বড় করতে সাহায্য করার জন্যে আরও বেশি সচেতনতা গড়ে তোলার এবং বিশেষ সক্ষমতা গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। ক্রেডলিক্সে আমরা এই সক্ষমতাগুলো গড়ে তোলার ব্যাপারে এবং আরও বেশি ভারতীয় রফতানিকারীকে আন্তর্জাতিক বাজার জুড়ে কার্যকরী পুঁজি গড়ে তোলার ব্যাপারে সাহায্য করায় জোর দিচ্ছি।”
ক্রেডলিক্সের এক্সপোর্ট ফ্যাক্টরিং মডেল, ডলার, ইউরো ও পাউন্ডের মত প্রধান রফতানি মুদ্রাগুলোতে ফাইন্যান্সিং সম্ভব করে। ২০২৭ আর্থিক বর্ষের জন্য কোম্পানির লক্ষ্য কেবল ভারত থেকেই ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি মূল্যের রফতানিকে ফাইন্যান্স করা।
প্রমিত যোশী, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট, ক্রেডলিক্স, বললেন “MSME-গুলোর জন্যে ডিজিটাল ও বিধিবদ্ধ ফাইন্যান্সিং পরিকাঠামো গড়ে তোলার ব্যাপারে ভারত তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি ঘটিয়েছে। আর রফতানির ফাইন্যান্সিংয়ের জন্য তার পাশাপাশি আরেক গুচ্ছ সক্ষমতা গড়ে তোলা দরকার। TReDS-এর মত ঘরোয়া ব্যবস্থা ডিজাইন করা হয়েছিল অন্য কারণে, যেখানে ক্রেতা যাচাই, KYC, রিকভারি প্রক্রিয়া এবং নিয়ামক সংস্থার প্রয়োজনগুলো বিদেশি বাণিজ্যের থেকে আলাদাভাবে কাজ করে। বিদেশি ক্রেতাদের আরও বেশি শক্তিশালী অংশগ্রহণ এবং অন্য দেশ থেকে আসা রিসিভেবলসের ব্যবস্থাপনা করার সক্ষমতা গড়ে তোলা আরও বেশি ভারতীয় MSME-কে রফতানি ফাইন্যান্সের নাগাল পাওয়ার, আরও বড় আন্তর্জাতিক অর্ডার নেওয়ার এবং নতুন বাজারে ছড়িয়ে পড়ার ক্ষমতা দিতে পারে। যত ভারত FTA-গুলোর দ্বারা তৈরি হওয়া বাজারের নাগালের সুযোগ বুঝতে পারবে, তত এই ব্যাপারটা ক্রমশ বেশি জরুরি হয়ে উঠবে। কারণ এই চুক্তিগুলোর সুযোগসুবিধা শেষমেশ নির্ভর করবে বাজারের নাগালকে সুস্থায়ী রফতানির বৃদ্ধিতে পরিণত করতে পারার আমাদের ক্ষমতার উপর।”
