ওয়ালমার্ট বৃদ্ধি এমএসএমই কানেক্ট কলকাতা ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গের উদ্যোক্তাদের জন্য বাজারে প্রবেশাধিকার ও রপ্তানি প্রস্তুতিকে অগ্রাধিকার দিল
কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ — আইডিয়াস টু ইমপ্যাক্ট ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ওয়ালমার্ট বৃদ্ধি কলকাতায় আয়োজন করল ‘ওয়ালমার্ট বৃদ্ধি এমএসএমই কানেক্ট ২০২৬’। এতে অংশ নেয় অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (এমএসএমই), পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এমএসএমই ও বস্ত্র দপ্তর, বৈদেশিক বাণিজ্য মহানির্দেশালয়, ভারতীয় ক্ষুদ্র শিল্প উন্নয়ন ব্যাঙ্ক, ওয়ালমার্ট মার্কেটপ্লেস, ফ্লিপকার্ট এবং অন্যান্য অংশীদাররা।
এই উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল এমএসএমইগুলিকে ব্যবসায়িক ও ডিজিটাল সক্ষমতা বাড়ানোর বাস্তবসম্মত পথ দেখানো, রপ্তানির প্রস্তুতির গুরুত্ব বোঝানো এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ তুলে ধরা। উদ্যোক্তারা ওয়ালমার্ট মার্কেটপ্লেস ও ফ্লিপকার্টের মাধ্যমে ডিজিটাল বাণিজ্য ও বাজারে প্রবেশাধিকার নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। আলোচনা ও কর্মশালার মাধ্যমে উদ্যোক্তারা ব্যবসায়িক প্রস্তুতি, ডিজিটাল বাণিজ্য এবং আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা লাভ করেন।
কলকাতা পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র। এখানকার উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন এবং ডিজিটাল বাণিজ্য ও বৃহত্তর বাজারের জন্য প্রস্তুতি জোরদার করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ তৈরি করেছে এই আয়োজন। বিশেষ প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ও আলোচনাচক্রের মাধ্যমে ওয়ালমার্ট বৃদ্ধি এমএসএমইগুলির দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক প্রস্তুতিতে সহায়তা করার লক্ষ্যে তৈরি হয়েছে।
“এমএসএমই পশ্চিমবঙ্গের অর্থনৈতিক পরিমণ্ডলের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং রাজ্যজুড়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। ডিজিটাল সরঞ্জাম ব্যবহার করে এমএসএমইগুলির সক্ষমতা জোরদার করা এবং ই-কমার্স মঞ্চের মাধ্যমে বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ানো তাদের দীর্ঘস্থায়ী বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য। যথাযথ সহায়তা ও সুযোগ পেলে আমাদের এমএসএমইগুলি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ব্যবসা বাড়াতে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে এবং বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতামূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারবে,” বলেছেন এমএসএমই ও বস্ত্র দপ্তরের সচিব শ্রী সুমিত গুপ্ত।
“আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের পরিধি বাড়ানোর ক্ষেত্রে এমএসএমইগুলির উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে। আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য সম্পর্কে ধারণা দৃঢ় করা এবং প্রয়োজনীয় সক্ষমতা গড়ে তোলার মাধ্যমে উদ্যোক্তারা আন্তর্জাতিক সুযোগ কাজে লাগাতে পারবেন,” বলেছেন বৈদেশিক বাণিজ্য মহানির্দেশালয়ের যুগ্ম মহাপরিচালক শ্রী বিষ্ণু কান্ত।
“পশ্চিমবঙ্গে ওয়ালমার্ট বৃদ্ধি উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বিকাশ, ডিজিটাল সরঞ্জাম গ্রহণ ও নতুন বাজারে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী ব্যবসা গড়ে তুলতে সহায়তা করছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা এমএসএমইগুলিকে সেই দক্ষতা ও বাজারে প্রবেশের পথ করে দিচ্ছি, যা তাদের টেকসইভাবে ব্যবসা সম্প্রসারণ, প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়ানো এবং বৃদ্ধির নতুন সুযোগ তৈরি করতে সাহায্য করবে,” বলেছেন ওয়ালমার্টের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি অবনীশ গুপ্ত।
পশ্চিমবঙ্গের এমএসএমই পরিমণ্ডলে হস্তশিল্প, বস্ত্র, তাঁত, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, চর্মশিল্প, প্রকৌশল পণ্য ও পাটশিল্পে সুপ্রতিষ্ঠিত ও উদীয়মান শিল্পগুচ্ছ রয়েছে। কলকাতার পাশাপাশি হাওড়া, দুর্গাপুর, শিলিগুড়ি, আসানসোল, খড়্গপুর ও মালদার উদ্যোক্তাদের সঙ্গেও যুক্ত হচ্ছে এই কর্মসূচি। এর ফলে বিভিন্ন ক্ষেত্র এবং ব্যবসায়িক বৃদ্ধির বিভিন্ন পর্যায়ে থাকা উদ্যোগগুলির কাছে পৌঁছতে পারছে এই কর্মসূচি।
বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য মাথায় রেখে তৈরি হয়েছে ওয়ালমার্ট বৃদ্ধি। ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়ন, অনলাইন বাজারে সক্ষমতা বৃদ্ধি, ব্যক্তিগত পরামর্শ ও সরাসরি সহায়তার মাধ্যমে এমএসএমইগুলিকে শক্তিশালী ও টেকসই ব্যবসা গড়তে সাহায্য করছে। অর্থব্যবস্থা, বিপণন, কর্মী ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশগত স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যাতে উদ্যোক্তারা পরিবর্তনশীল বাজারে ব্যবসা বৃদ্ধি ও প্রতিযোগিতার জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা গড়ে তুলতে পারেন।
২০১৯ সালে সূচনার পর থেকে ওয়ালমার্ট বৃদ্ধি ভারতজুড়ে ১,১৫,০০০-এরও বেশি এমএসএমইকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। ২০২৮ সালের মধ্যে মোট ১,৭০,০০০ এমএসএমইকে সহায়তা করার লক্ষ্য নিয়ে এটি উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বাড়াতে এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যবসা সম্প্রসারণে সহায়তা করছে।
