আজ 13 এপ্রিল 2022 মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি মাননীয় কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছে সর্বভারতীয় গৃহ শিক্ষক সংগঠনের পক্ষ থেকে এক ডেপুটেশন দেওয়া হয়েছে।

আজকের ডেপুটেশনের মূল উদ্দেশ্য হলো সরকার বা সরকার ঘোষিত স্কুল শিক্ষক বা শিক্ষিকা গন বাড়িতে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে টিউশন পড়াচ্ছেন তার প্রতিবাদে। সরকারি আইন থাকা সত্ত্বেও তারা টিউশন করিয়ে যাচ্ছে। সেই সমস্ত অভিযুক্ত শিক্ষকদের নাম সহ (সারা রাজ্যের) জমা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আমাদের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শুনলেন এবং যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেন।

সারা রাজ্যের বিভিন্ন সদস্যদের উপস্থিতিতে সর্বভারতীয় সভাপতি স্বপন দত্ত (উজ্জ্বল) এবং সর্বভারতীয় সম্পাদক সোহম ভট্টাচার্য ডেপুটেশনের copy সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের কাছে তুলে দিয়েছেন। আজ শতাধিক সদস্য সারা রাজ্য থেকে উপস্থিত ছিলেন।

স্কুল শিক্ষকরা প্রজেক্ট এবং প্র্যাকটিক্যালের ভয় দেখিয়ে ছাত্রদেরকে ধরছেন ,তাদের বাধ্য করছেন পড়তেই হবে।

” সমাজ গঠনে টিউটরস দের ভূমিকা আজ অবধি কোন সরকার স্বীকার করেনি। এবং আমাদের সংগঠনের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো শিক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্নীতি মুক্ত করা।” বলেন স্বপন দত্ত ( উজ্জ্বল) , সর্বভারতীয় সভাপতি।

টিউটরস রা সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও তারা সবসময় সমাজে কেমন যেন অবহেলিত শ্রেণীর প্রতিনিধি হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং তাদের সরকারি প্রকল্পের আওতায় আনা হয়না।

করোনা মহামারীর সময় সারা দেশেই স্কুল বা সর্বপ্রকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। চালু ছিল অনলাইনের মাধ্যমে পড়াশুনো। কিন্তু, ভারতের বিভিন্ন শহর বা শহরতলী বাদ দিলে কোথায় হল স্মার্ট ফোনের মাধ্যমে অনলাইন ক্লাস ? এমতাবস্থায় সেই সব অঞ্চলে ছাত্র ছাত্রীদের পড়াশুনো চালিয়ে গেছেন গৃহ শিক্ষকরা সরকারি কোভিড বিধি মেনে। আমাদের গ্রামীন আর্থসামাজিক অবস্থায় ন্যূনতম পারিশ্রমিক নিয়ে বা না নিয়ে। তবুও গৃহ শিক্ষকদের এই অবদানের কথা রাজ্য তথা কেন্দ্র সরকার জানা স্বত্বেও একথা তারা স্বীকার করেননি বা সেই শিক্ষকদের প্রাপ্য টুকু দেয়নি।

নাচ , গান , আবৃত্তি, karate , অঙ্কন , তবলা সহ বিভিন্ন বাদ্য যন্ত্রের ও খেলাধুলার প্রশিক্ষকগণ এই মহামারীর সময়ে সামান্য পারিশ্রমিকের বিনিময়ে আবার কখনো বিনা পারিশ্রমিকে দিনের পর দিন তাদের কাজ করে গেছেন ছাত্র ছাত্রীদের সার্বিক উন্নতির কথা ভেবে।

সংগঠনের *দাবী সমূহ

ক) সারা দেশে R.T.E Act , 2009 এর সঠিক প্রয়োগ।
খ) সরকারী বা সরকারী সাহায্য প্রাপ্ত স্কুলের অসংখ্য শিক্ষকগণ স্কুলের সিলেবাস শেষ করাতে পারেন না। তার অন্যতম কারণ হলো সরকারি স্কুল শিক্ষকদের সরকারী আইন ভেঙে গৃহ শিক্ষকতা। এর ফলে, তারা R.T.E Act এর 24 এবং 28 ধারা লঙ্ঘিত হচ্ছে।

গ) TWAI এর সদস্য হওয়ার আগে আমরা রাজ্যের সব জেলার District Inspector of Schools দের কাছে নিদিষ্ট করে কিছু স্কুল শিক্ষকের নামে অভিযোগ করা হয়েছে যারা R.T.E Act ও রাজ্য সরকারের 2018 এর আইন অমান্য করে টিউশন করে চলেছেন। D.I অভিযুক্ত শিক্ষকদের থেকে মুচলেখা নিয়েই দায় এড়িয়ে গেছেন কোন তদন্ত না করেই। বেশিরভাগ স্কুলের H.M স্কুলের শিক্ষকদের এই বেআইনি কাজ সমর্থন না করলেও শিক্ষকরা H.M এর কথায় কর্ণপাত করেননা। যে কারণে স্কুলের H.M দের স্কুল পরিচালনা করা কঠিন হচ্ছে শিক্ষকরা সময়মত স্কুলে না আসার জন্য।
NCPCR ও WBCPCR কেও জানানো হয়েছে। কিন্তু সেখান থেকেও এই অবৈধ কাজের বিরুদ্ধে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি।আমরা অভিযুক্ত শিক্ষকদের নামে সব স্তরের প্রশাসনিক দফতরে ডেপুটেশন দিয়েছি স্কুলগুলির হেড মাস্টারমশাইয়ের কাছে , ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির কাছে, পৌরসভার পৌরপ্রধান, পৌরপিতা , পঞ্চায়েত স্তরের প্রধান , সভাপতি , এমনকি B.D.O এর কাছেও ডেপুটেশন দিয়েছি।
District Magistrate , District Inspector of Schools , Nibedita Bhawan , Derozio Bhawan এর সভাপতিদের কাছেও স্মারকলিপি জমা দিয়েছি। এমনকি 31 শে জুলাই, 2018 য় তৎকালীন শিক্ষা মন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জির কাছেও আবেদন করা হয়েছিল কিন্তু আমাদের অভিযোগ এবং আবেদনের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

ঘ)অভিযোগ পাওয়ার পরে D.I বা স্কুল পরিদর্শক অভিযুক্ত স্কুল শিক্ষকদের থেকে মুচলেখা সংগ্রহ করে অভিযোগের কোনরকম তদন্ত না করেই ক্ষান্ত থাকেন।

ঙ) ড্রপ আউট হয়ে যাওয়া ছাত্র ছাত্রীদের পুনরায় স্কুলে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের কাছে আবেদন রাখছি।
চ) ছাত্র ছাত্রীর অভাবে বা পরিকাঠামোর অভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া সরকারী স্কুলগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করতে হবে।

ছ) সরকারের উচিত নিয়মিত স্কুল শিক্ষকদের উপর নজরদারী করা এবং দেখা স্কুল শিক্ষকরা তাদের দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করছেন কিনা দেখতে।

জ) Tutors দের জন্য একটি “পর্ষদ” গঠনের দাবী জানাচ্ছি ।

ঝ) একটি Grievance Cell গঠনের দাবী জানাচ্ছি যাতে অভিভাবক , অভিভাবিকা থেকে শুরু করে অন্যান্যরাও স্কুল সংক্রান্ত বা কলেজ সংক্রান্ত অভিযোগ জানাতে পারেন ।

ঞ) সরকারী শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতার দাবী জানানো হচ্ছে।

ট) শিক্ষার মধ্যে থাকা নৈরাজ্যের অবসানের দাবী জানাচ্ছি।

দেশের বর্তমান আর্থসমাজিক অবস্থার কথা মাথায় রেখে সরকারি স্কুল গুলোর পরিকাঠামো এবং পরিদর্শন বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছি যাতে সবাই শিক্ষার আলো পেতে পারে। সবাই বেসরকারি স্কুলে পড়াশোনা করতে পারে না।

About Tutors Welfare Association of India :

এই সংগঠন ভারতবর্ষের Tutors দের পাশে থাকতে অঙ্গীকারবদ্ধ। শিক্ষার উন্নতি এবং শিক্ষার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জাঁকিয়ে বসা দুর্নীতি ও নৈরাজ্যতার অবসান ঘটাতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। TWAI সংকল্পবদ্ধ শিশুদের অধিকার সুরক্ষিত করতে এবং পর্ষদ গঠন করতে সরকারের সহযোগিতায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *