স্বামীকে খুন করে গ্রেপ্তার স্ত্রী পখন্না বারুইপাড়ার ঘটনা।
সাধন মন্ডল বাঁকুড়া :—গলায় পরপর কুড়ুলের কোপ! ভাইদের সাথে পৃথক সংসারে না থাকার অভিযোগে ভোররাতে স্বামীকে নৃশংস ভাবে খুন করে গ্রেফতার স্ত্রী। পখন্না গ্রামের বারুইপাড়ার চক্রবর্তী পরিবারে এই নিশংস ঘটনাটি ঘটেছে আজ শুক্রবার ভোরে। মৃতের নাম উজ্জ্বল চক্রবর্তী (৫৩)।চক্রবর্তী পরিবারের মেজ ভাই সনৎ চক্রবর্তী বলেন আচমকাই ঘরের ভিতর থেকে ভারী কিছু আছড়ে পড়ার শব্দ পাই আমাদের বাড়ির কোনও অংশ ভেঙে পড়েছে বলে মনে হয়েছিল । কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই ভাই উজ্জলের ঘর থেকে ওর মেয়ের কান্না শুনে ঘরের ভেতরে যাই গিয়ে দেখি ভয়াবহ দৃশ্য। ঘরের ভিতরে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে ভাই উজ্জ্বল চক্রবর্তী। অভিযোগ, নিজের মেয়ের সামনেই স্বামীর গলায় পরপর কুড়ুলের কোপ বসিয়েছেন স্ত্রী ঝুমা। গলায় গভীর ক্ষত, চারদিকে রক্ত। বাধা দিতে গিয়ে কুড়ুলের কোপ লাগে উজ্জ্বলের দাদা সনৎ চক্রবর্তীর হাতেও। শুক্রবার ভোররাতের এই নৃশংস ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছেন অভিযুক্ত স্ত্রী। পরিবার সূত্রে জানা যায়
২০১৭ সালে উজ্জ্বলের সঙ্গে বড়জোড়ার মনোহর গ্রামের বাসিন্দা ঝুমার বিয়ে হয়। তাঁদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, স্বামীর ভাইদের সঙ্গে এক বাড়িতে থাকা নিয়ে আপত্তি ছিল ঝুমার। পৃথক সংসারের দাবি নিয়ে প্রায়ই অশান্তি হত। স্বামীর সংসার ছেড়ে অন্যত্র থাকা এবং অন্য সম্পর্কের সম্ভাব্য টানাপোড়েন নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। মৃতের দাদা
সনৎ চক্রবর্তীর অভিযোগ, বিয়ের পর থেকে বেশিরভাগ দিন বৌমা বাপের বাড়ি চলে যেত। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ ক্যাম্পের তখনকার পুলিশ অফিসার জয়দেব বাবুর সাথে আলোচনা হয়েছিল তারপর থেকে কিছুদিন ঠিক ছিল। এক বছর আমরা আলাদাই ছিলাম দুর্গাপূজার সময় একসাথে খাওয়া দাওয়া করেছিলাম। এটাই কাল হল। আমি বাধা দিতে গেলে আমার হাতে কুড়ুলের কোপ মারে বৌমা।মাঝে মাঝেই ভাইকে মেরে দেওয়ার হুমকি দিত। আজ ঘটে গেল সেই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ভোরে ভাইয়ের ঘরে ছুটে গিয়ে কুড়ুল হাতে ঝুমাকে দেখতে পাই। বাধা দিতে গেলে তাঁর হাতেও কোপ মারা হয়। তাঁর দাবি, ভাইয়ের গলায় পরপর কুড়ুলের কোপ মেরেই খুন করা হয়েছে।
পুলিশ উজ্জ্বলের দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠিয়েছে। মৃতের স্ত্রী ঝুমা চক্রবর্তী কে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বড়জোড়া থানা পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়।
