সুরের মূর্ছনায় দেশপ্রেম: বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর পূর্তিতে পন্ডিত তরুণ ভট্টাচার্যের জাদুকরী সন্তুর বাদন
কলকাতা: বন্দে মাতরম্—এই দুটি শব্দ কেবল একটি গান নয়, বরং ভারতীয়দের হৃদস্পন্দনের নাম। সেই সুরের জন্মের সার্ধশতবর্ষে দাঁড়িয়ে দেশাত্মবোধ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অভূতপূর্ব মেলবন্ধন দেখল তিলোত্তমা। ১২ই জুলাই, লেক টাউনের শ্রীপল্লী ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন ক্লাব প্রাঙ্গণে ওঙ্কারনাথ মিশন (সেবা সঙ্ঘ ও চিকিৎসক সঙ্ঘ, লেকটাউন শাখা), সংস্কারভারতী দক্ষিণবঙ্গ ও আরোগ্যভারতী দক্ষিণবঙ্গ আয়োজিত “চেতনে ও মননে বন্দে মাতরম্” অনুষ্ঠানটি পরিণত হয়েছিল এক মিলনমেলায়।
পন্ডিতজীর সন্তুরে নতুন প্রাণ
অনুষ্ঠানের সূচনাপর্বেই দর্শকদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখেন প্রখ্যাত সন্তুর বাদক পদ্মশ্রী পণ্ডিত তরুণ ভট্টাচার্য। তাঁর আঙুলের ছোঁয়ায় সন্তুরের তারে যখন বন্দে মাতরমের সুর ধ্বনিত হয়ে উঠল, তখন উপস্থিত শ্রোতাদের মধ্যে এক ভাবগম্ভীর ও দেশাত্মবোধক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পন্ডিতজীর এই বিশেষ কম্পোজিশনটি ছিল অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ, যা সঙ্গীতপ্রেমীদের মনে এক গভীর দাগ কেটেছে।
নাগরিক সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক আবেশ
এই বিশেষ অনুষ্ঠানে পদ্মশ্রী তরুণ ভট্টাচার্যকে নাগরিক সংবর্ধনায় ভূষিত করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অখিল ভারত জয়গুরু সম্প্রদায় ও ওঙ্কারনাথ মিশনের আচার্য পরমপূজ্য কিঙ্কর বিঠল রামানুজ মহারাজ, যিনি অনুষ্ঠানটির উদ্বোধন করেন, উপস্থিত ছিলেন ওঙ্কারনাথ মিশনের সর্বভারতীয় সভাপতি ও অখিল ভারত জয়গুরু সম্প্রদায়ের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক কিংকর শ্রী প্রিয়নাথ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানের গাম্ভীর্য আরও বৃদ্ধি পায়।
পরবর্তীতে, পণ্ডিত তরুণ ভট্টাচার্যের পরিচালনায় পরিবেশিত বৃন্দবাদন এবং সংস্কার ভারতী (পশ্চিমবঙ্গ বিভাগ) ও ওঙ্কারনাথ মিশন পরম্পরার সমবেত সঙ্গীত এক আবেশ তৈরি করে। আয়োজকদের পক্ষে শ্রী শীর্ষেন্দু হাজরা জানান, জাতীয় গানের সার্ধশতবর্ষ উদযাপনে দেশপ্রেমের এই বার্তার প্রসারই তাঁদের মূল লক্ষ্য।
ঐতিহ্যের অঙ্গীকার
অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ও ওঙ্কারনাথ মিশনের রাজ্য আহ্বায়ক অধ্যাপক (ড.) সৌরভ হালদার বলেন, “জাতীয় চেতনায় বন্দে মাতরম্ আজও আমাদের মূল শক্তি। তরুণ ভট্টাচার্যের মতো শিল্পীর মাধ্যমেই আমরা তরুণ প্রজন্মের কাছে এই ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে চেয়েছি।”
বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর পূর্তির এই আয়োজন কেবল একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়, বরং বাঙালির সাংস্কৃতিক ও জাতীয়তাবাদের প্রতি দায়বদ্ধতার এক সার্থক প্রতিফলন। উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী সৌরভ চক্রবর্তী, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের শ্রী অভিজিৎ ব্যানার্জি সহ প্রমূখ।
