রাজ্যের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র মুকুট মণিপুরে বসতে চলেছে স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর শহীদ সিধু ও কানুর মূর্তি।
সৌমী মন্ডল, বাঁকুড়া:—-রাজ্যের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র বাঁকুড়া জেলার রানী মুকুটমণিপুর ।এখানেই কাঁসাই ও কুমারী নদীর সংযোগস্থলে ষাটের দশকে তৈরি হয়েছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মাটির বাঁধ। এই মুকুটমণিপুর জলাধার দেখতে প্রতিবছর লাখো লাখো পর্যটকের আগমন ঘটে এখানে। পিকনিকের মরশুমে বিশেষ করে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভীড়ে ঠাসা থাকা থাকে মুকুট মণিপুরের জলাধার এলাকা। এবার সেই মুকুটমণিপুরে ইতিহাসের গৌরবময় অধ্যায় যুক্ত হতে চলেছে । মুকুটমণিপুর জলাধারের পাড়ে ঢোকার মূল প্রবেশদ্বারের নিকট বিশ্ব বাংলা গ্লোব ও হরিণের ভাস্কর্যের জায়গায় এবার উঠে আসছে সাঁওতাল বিদ্রোহের দুই মহান স্বাধীনতা সংগ্রামী বীর শহীদ সিধু-কানুর মূর্তি। আগামী ৩০ জুন হুল দিবসেই এই মূর্তির আবরণ উন্মোচন করতে পারেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। হুল দিবস উপলক্ষে রাজ্যস্তরের অনুষ্ঠানের প্রস্তুতিতে এখন সরগরম মুকুটমণিপুর। একলব্য মডেল আবাসিক বিদ্যালয়ের মাঠে এবছর হুল দিবসের রাজ্য স্তরের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে ,চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি,। অন্যদিকে জোরকদমে চলছে সিধু-কানুর মূর্তি বসানোর কাজ।
যে স্থানে এতদিন হরিণের ওপর বিশ্ব বাংলা গ্লোব ছিল, সেই জায়গাতেই এখন স্থাপন করা হচ্ছে সাঁওতাল বিদ্রোহের দুই বীর শহীদ সিধু ও কানুর মূর্তি। , দ্রুতগতিতে চলছে নির্মাণের কাজ। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও জানানো হয়নি যে কোন্ দপ্তরের উদ্যোগে বা কোন প্রকল্পের অর্থে এই মূর্তি স্থাপন করা হচ্ছে। প্রশাসন সূত্রে জানা যায় ৩০ জুন হুল দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীই এই মূর্তির আবরণ উন্মোচন করতে পারেন।
মুখ্যমন্ত্রীর সফরকে সামনে রেখে দফায় দফায় বৈঠক করছেন প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা। নিরাপত্তা থেকে শুরু করে অনুষ্ঠানস্থল ও পর্যটন কেন্দ্র সব ক্ষেত্রেই চলছে জোর প্রস্তুতি। প্রতিটি বৈঠকে উপস্থিত থাকছেন জঙ্গলমহল এলাকার বিধায়কগণ ও রাজ্যের মন্ত্রী তথা রানিবাঁধ বিধানসভার বিধায়ক ক্ষুদিরাম টুডু। রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারীর প্রথম দক্ষিণবঙ্গে পদার্পণ। তার আগমন উপলক্ষে কোনরকম ত্রুটি যাতে না থাকে তার জন্য সতর্ক নজর রেখেছেন মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু, বিধায়ক ক্ষেত্র মোহন হাঁসদা , বিধায়ক শৌভিক পাত্র সহ জেলাশাসক, খাতড়া মহকুমা শাসক ,জেলা পুলিশ সুপার,খাতড়া মহকুমা পুলিশ আধিকারিক অন্যান্য বিধায়ক গন সহ সমস্ত বিভাগের আধিকারিক বৃন্দ । দফায় দফায় চলছে বৈঠক।
