অসহায় রোগীর পাশে সমাজকর্মী মনি শংকর দত্ত।
সৌমী মন্ডল, বাঁকুড়া:—সারেঙ্গা ব্লকের চিলতোড় গ্রাম পঞ্চায়েতের সাঁইতোড়া গ্রামের বাসিন্দা শ্রীমন্ত সনগিরি জটিল রোগে আক্রান্ত ।দীর্ঘদিন ধরে তার চিকিৎসা চলছে বর্তমানে অর্থের অভাবে চিকিৎসা প্রায় বন্ধ। সম্প্রতি ডাক্তার বাবুরা বলেছেন অবিলম্বে সিটি স্ক্যান করা প্রয়োজন তার জন্য ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ হবে কিন্তু অসহায় পরিবারের হাতে এত পয়সা নেই। অসহায় হয়ে পড়েছে পরিবার । ছেলের চিকিৎসার দুশ্চিন্তায় মা ও বৃদ্ধ বাবা। এই দুশ্চিন্তার মাঝে ঈশ্বরের দূত হয়ে এলেন রাইপুরের বিশিষ্ট সমাজকর্মী মনি শংকর দত্ত। মনি বাবু সারা বছর ধরেই জেলা সহ পড়শী জেলার অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ান। তাদের যতটা পারেন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। এই খবর বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সম্প্রচারিত হয়ে থাকে নিয়মিত। সেই সংবাদ দেখে শ্রীমন্ত সনগিরির জনৈক আত্মীয়া মনি শংকর বাবুর ফোন নাম্বার জোগাড় করে শ্রীমন্ত সনগিরির অসুস্থতার ও পরিবারের অসহায়তার কথা জানান। মনি শংকর বাবু তাকে বলেন আপনার দেওয়া তথ্য আমি সরেজমিনে দেখে অবশ্যই পাশে দাঁড়াবো ।পরে খবর নিয়ে পরিবারের বর্তমান পরিস্থিতি জানতে পারেন এবং তিনি পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন ।সেই কথা রাখতে আজ তিনি শ্রীমন্ত সনগিরির বাড়িতে যান ও তার মা বাবার হাতে পাঁচ হাজার টাকা আর্থিক সাহায্য তুলে দিয়ে আসেন তাদের এই মুহূর্তে চিকিৎসা করানোর জন্য। আগামী দিনেও তিনি তাদের পাশে থাকবেন বলেও আশ্বাস দেন।
মনি বাবুর এই সাহায্য ও আশ্বাসে কৃতজ্ঞতা জানান বৃদ্ধ বাবা মা সহ রোগী শ্রীমন্ত সনগিরি। আজ মনি বাবুর সাথে ছিলেন তার প্রাণপ্রিয় বন্ধু সাথী বিশিষ্ট শিক্ষক পার্থ ঘোষ। মনি বাবু সম্পর্কে পার্থ বাবু বলেন মনি শংকর কে নিয়ে কোন কথাই হবে না। কোন মানুষের দুঃখ দেখলে তিনি দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন না।এই ধরনের মানুষের আজ খুব প্রয়োজন। অসহায় মানুষদের পাশে মনিবাব ু যেমন ভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন সেই অসহায় পরিবার গুলির পাশে যদি আরো কেউ এভাবে এগিয়ে আসেন তাহলে হয়তো পরিবার গুলি বেঁচে যাবে। এই প্রসঙ্গে মনিশঙ্কর সমাজকর্মী মণিশঙ্কর দত্ত বলেন মানুষ মানুষের জন্য। আমার যতটুকু আছে ততটুকুই থাকবে। তার মাঝে যদি কোন মানুষের সেবা করতে পারি, সেটাই হবে আমার কাছে বড় কর্তব্য। আমার বাবার শিক্ষা থেকেই আমার এই সেবার কাজ। উনি বলেছিলেন নিজের প্রয়োজন টুকু রেখে যা থাকবে অসহায় মানুষদের বিলিয়ে দিবি। দেখবি তোর কোনদিন অভাব হবে না।
