।। টানা দু’মাসের বর্ষণে মাটির ঘর ভেঙে বিপাকে পরিবার, পাকা বাড়ির আশ্বাস মিললেও মেলেনি ঘর ।।
বসিরহাট : টানা দু’মাসের বৃষ্টিতে মাটির ঘর ভেঙে বিপাকে পড়েছে হিঙ্গলগঞ্জের এক অসহায় পরিবার। ঘর ভেঙে পড়ায় আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটছে পরিবারের সদস্যদের। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মাটির ঘরে বসবাস করলেও পাকা বাড়ির জন্য বারবার জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের জানিয়েও কোনও স্থায়ী সমাধান মেলেনি। প্রতিশ্রুতি মিলেছে, কিন্তু ঘর মেলেনি এমনই অভিযোগ পরিবারের। ঘটনাটি বসিরহাটের হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের সাণ্ডেলেরবিল গ্রাম পঞ্চায়েতের বাঁকড়া গায়েনপাড়া এলাকার। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত দুর্বল মাটির ঘরের মধ্যেই কোনওরকমে বসবাস করে আসছিলেন তারা। বর্ষা শুরু হওয়ার পর থেকেই টানা বৃষ্টিতে ঘরের মাটি ক্রমশ নরম হয়ে যেতে থাকে। শেষ পর্যন্ত বৃষ্টির প্রবল ধাক্কা সামলাতে না পেরে মাটির ঘরের একটি অংশ ভেঙে পড়ে। এতে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই তারা পাকা বাড়ির জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক নেতাদের কাছে আবেদন জানিয়ে আসছেন। হিঙ্গলগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শহিদুল্লাহ গাজী থেকে শুরু করে স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যদেরও বিষয়টি একাধিকবার জানানো হয়েছে বলে দাবি পরিবারের। কিন্তু প্রতিবারই তাদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কাজ হয়নি।
পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য, “বর্ষার সময় মাটির ঘরে থাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। ঘরের দেওয়াল ও অন্যান্য অংশ দীর্ঘদিন ধরেই দুর্বল ছিল। টানা বৃষ্টিতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।” ঘর ভেঙে পড়ার পর এখন কোথায় কীভাবে দিন কাটাবেন, তা নিয়েই চিন্তায় পরিবারটি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই এলাকায় এখনও বহু পরিবার দুর্বল মাটির বাড়িতে বসবাস করে। বর্ষাকালে সামান্য বেশি বৃষ্টি হলেই সেই বাড়িগুলিতে বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত সমীক্ষা করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করার দাবি উঠেছে। তবে পরিবারের দাবি, বর্তমানে বিজেপির সরকার তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং বাড়ির সমস্যাটি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। বিজেপির পক্ষ থেকে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ায় তারা উপকৃত হয়েছেন বলেও জানান পরিবারের সদস্যরা।
