বসিরহাটের সীমান্তে জমজমাট ফুটবল টুর্নামেন্ট, মোবাইল ছেড়ে যুবসমাজকে মাঠমুখী করার উদ্যোগ
বসিরহাট : বসিরহাটের সীমান্তে জমজমাট ফুটবল টুর্নামেন্ট, মাঠে ফেরানোর উদ্যোগ যুবসমাজকে। বর্তমান স্মার্টফোন ও সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে যুবসমাজের একটা বড় অংশ দিনের দীর্ঘ সময় কাটাচ্ছে ডিজিটাল দুনিয়ায়। মাঠে খেলাধুলার পরিবর্তে মোবাইলের প্রতি বাড়তে থাকা এই আসক্তি নিয়ে উদ্বেগের মাঝেই তরুণ প্রজন্মকে ফের মাঠমুখী করার প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিল বসিরহাটের সীমান্তবর্তী এলাকার শাঁকচূড়া ফ্রেন্ডস ইউনিয়ন। সংগঠনের উদ্যোগে পেয়ারাতলা এলাকার একটি মাঠে অনুষ্ঠিত হল আকর্ষণীয় ফুটবল টুর্নামেন্ট।
সীমান্তবর্তী গ্রামে এই ফুটবল প্রতিযোগিতাকে ঘিরে সকাল থেকেই তৈরি হয় উৎসবের আবহ। বসিরহাটের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি দূরদূরান্ত থেকেও একাধিক ফুটবল দল প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। টানটান উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ দেখতে মাঠের চারপাশে ভিড় জমান বিভিন্ন বয়সের শত শত দর্শক। দর্শকে পরিপূর্ণ মাঠের পরিবেশ মনে করিয়ে দেয় গ্রাম বাংলার সেই পুরনো ফুটবল ঐতিহ্যের কথা, যখন ছুটির দিনে মাঠে খেলা দেখতে ভিড় জমত গোটা গ্রামের।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন ফুটবলার তথা পুলিশ আধিকারিক বরুণ কুমার রায়, স্বাধীন মণ্ডল, সেক্রেটারি সাবির গাজি, প্রাক্তন ফুটবলার হাবিবুর রহমান, প্রাক্তন ফুটবলার সুরজিৎ চক্রবর্তী সহ একাধিক নেতৃত্ব ও বিশিষ্ট ব্যক্তি। তাদের উপস্থিতিতে প্রতিযোগিতার উৎসাহ আরও বেড়ে যায়।
উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, বর্তমানে যুবসমাজের একটি বড় অংশ খেলাধুলা ও শরীরচর্চা থেকে দূরে সরে গিয়ে মোবাইল ফোন, নেটমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় অতিরিক্ত সময় কাটাচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে তাদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার উপরও। সেই কারণেই তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল দুনিয়ার অতিরিক্ত আসক্তি থেকে বের করে এনে ফের খেলাধুলার মাঠে ফিরিয়ে আনাই এই ফুটবল টুর্নামেন্টের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।
শাঁকচূড়া ফ্রেন্ডস ইউনিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়, “আমরা চাই যুবসমাজ আবার খেলাধুলার দিকে এগিয়ে আসুক। ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, এটি শরীরচর্চারও অন্যতম মাধ্যম। এই ধরনের উদ্যোগ তরুণদের বিভ্রান্তি ও অতিরিক্ত আসক্তি থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করবে।” দিনভর প্রতিযোগিতায় একাধিক দলের মধ্যে চলে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। প্রতিটি ম্যাচ ঘিরেই দর্শকদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ। খেলার গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলিতে দর্শকদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। শেষ পর্যন্ত প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী ও বিজিত দলের হাতে ট্রফি তুলে দেন ক্লাবের কর্মকর্তারা। সীমান্তবর্তী এলাকার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ফুটবলপ্রেমীরা। তাদের মতে, মোবাইলের পর্দায় বন্দি হয়ে থাকা যুবসমাজকে মাঠের সঙ্গে যুক্ত করতে নিয়মিত এই ধরনের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন প্রয়োজন। শাঁকচূড়া ফ্রেন্ডস ইউনিয়নের এই উদ্যোগ শুধু একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট নয়, বরং গ্রাম বাংলার ক্রীড়া সংস্কৃতিকে ফের চাঙ্গা করার একটি বার্তাও বহন করছে।
