কাজ হারানোর আশঙ্কা থেকে স্থায়ী করণের দাবিতে অনির্দিষ্ট কালীন অবস্থান বিক্ষোভ, খয়রাশোলে

সেখ রিয়াজুদ্দিন বীরভূম:- বীরভূম জেলার খয়রাশোল ব্লক এলাকায় WBPDCL এর অধীনে GMPL অর্থাৎ গঙ্গারামচক মাইনিং প্রাইভেট লিমিটেড নামক সংস্থার পক্ষ থেকে দুটি এলাকায় কয়লা উত্তোলনের কাজ চলছে।গঙ্গারামচক- ভাদুলিয়ায় রয়েছে একটি সাইড অপরটি কৃষ্ণপুর- বড়জোর এলাকায় অবস্থিত। কয়লা উত্তোলন যতদিন কাজ থাকবে ততদিন, এই আশঙ্কায় হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে কৃষ্ণপুর- বড়জোর এলাকায় কর্মরত প্রায় ২০০ জন। যার পরিপ্রেক্ষিতে গত ১২ দিন যাবৎ চাকরিতে স্থায়ীকরণের দাবি নিয়ে অবস্থান বিক্ষোভ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু একটানা এতদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যেতে দেখেও GMPL কর্তৃপক্ষ সহ স্থানীয় এবং জেলা প্রশাশনের কোনো হেলদোল নেই বলে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ।

জানা যায় GMPL এর কৃষ্ণপুর- বড়জোড়া শাখার কর্মীরা স্থানীয় কোল মাইনস চালুর দিন থেকেই কর্মী হিসেবে কাজে নিযুক্ত রয়েছেন কিন্তু অস্থায়ী কর্মী হিসেবে পরিচিত। আন্দোলনকারীদের দাবি যে,যতক্ষণ না চাকরি স্থায়ীকরণ হচ্ছে ততক্ষণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে। আর যদি চাকরির কোনো সুরাহা না হয় তাহলে পরিবার পরিজন নিয়ে রাস্তায় নামতে বাধ্য হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন। জেলাশাসক, খয়রাশোল ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক, খয়রাশোল থানা এবং কাঁকরতলা থানায় লিখিত ভাবে তাদের অবস্থান বিক্ষোভ কর্মসূচির কথা জানানো হয়েছে কিন্তু আন্দোলনের ১২ দিন অতিক্রান্ত হলেও এখন পর্যন্ত তাঁদের কাছে কেউ না আসায় শীতকালীন অবস্থার মধ্যেও দিনরাত লাগাতার আন্দোলন চালানো হচ্ছে বলে একরাশ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। GMPL এর কর্মী মানস রায় জানান, আমরা এই কোল মাইনসে দীর্ঘ ১৫ বছর কাজ করছি। কিন্তু আজ আমাদের কোম্পানি বলছে যতদিন এখানে কাজ হবে ততদিন আমাদের কাজ থাকবে। তারপর আমাদের আর কাজ থাকবে না। এমনকী খয়রাশোল ব্লকের অধীনে একই কোম্পানি দু জায়গায় কোল মাইনস রয়েছে। যেমন ভাদুলিয়া-গঙ্গারামচক মাইনিং রয়েছে। তাহলে এখানে বন্ধ হলে আমাদের আর একটি সাইডিংয়ে কাজ দেওয়া হোক। নাহলে আমরা আমাদের পরিবার পরিজনদের নিয়ে রাস্তায় নামতে বাধ্য হব। পাশাপাশি আর এক কর্মী সন্দীপ পাল জানান, আমাদের ১২ দিন ধরে এই অবস্থান বিক্ষোভ চলছে। কিন্তু GMPL কর্তৃপক্ষ এখনও আমাদের সাথে দেখা করেনি। আমাদের এই সাইডিং বন্ধ হয়ে গেলে আমাদের কাজ ছেড়ে চলে যেতে হবে। কিন্তু আর একটি সাইডিংয়ে কাজ চলছে ভিন রাজ্যের লোকদের নিয়ে। তাহলে ওখানে আমাদের কেন নেওয়া হচ্ছে না। তাই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আমাদের অনুরোধ আমাদের বিষয়টি একটু দেখুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *