ভারত–যুক্তরাজ্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আওতায় যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে প্রথম গহনা রপ্তানির সূচনা করল কলকাতা
কলকাতা, ১৫ জুলাই ২০২৬: কলকাতা, ভারতের অন্যতম প্রধান গহনা উৎপাদন ও কারুশিল্পের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই শহর আজ এক ঐতিহাসিক মাইলফলকের সাক্ষী থাকল। ভারত–যুক্তরাজ্য কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক অ্যান্ড ট্রেড এগ্রিমেন্ট (CETA)-এর আওতায় কলকাতা এয়ার কার্গো কমপ্লেক্স থেকে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে প্রথম গহনা রপ্তানির চালান আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠানো হয়েছে।
এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের মাননীয় মন্ত্রী শ্রী তাপস রায়, কাস্টমস বিভাগের সদস্য শ্রী যোগেন্দ্র গর্গ (IRS), ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড (DGFT)-এর অতিরিক্ত মহাপরিচালক শ্রী চন্দ্র কান্ত মিশ্র (ITS), পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের ব্রিটিশ ডেপুটি হাই কমিশনার ড. অ্যন্ড্রু ফ্লেমিং, জিজেইপিসি-র পূর্বাঞ্চলীয় আঞ্চলিক চেয়ারম্যান শ্রী পঙ্কজ পারেখ এবং শেফেক্সিল-এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ড. দেবযানী রায়।
কলকাতায় এই উদ্বোধনী রপ্তানি কার্যক্রমটি দিল্লি, মুম্বই, সুরাট, জয়পুর এবং চেন্নাই-সহ দেশের বিভিন্ন শহরে একযোগে আয়োজিত একটি জাতীয় উদ্যোগের অংশ। এই ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তির আওতায় যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে ভারতের প্রথম গহনা রপ্তানিকে স্মরণীয় করে তুলতেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
কলকাতার শীর্ষস্থানীয় গহনা রপ্তানিকারক সংস্থাগুলি- যেমন জেস জুয়েলারি প্রাইভেট লিমিটেড, মডার্ন ইম্পেক্স, এল গোপাল অ্যান্ড সন্স জুয়েলার্স, এবি জুয়েলস প্রাইভেট লিমিটেড, জেএস জুয়েলস প্রাইভেট লিমিটেড এবং হাসমুখ পারেখ জুয়েলার্স— এই ১ কোটি মার্কিন ডলার (প্রায় ১০ মিলিয়ন ইউএস ডলার) মূল্যের এই উদ্বোধনী অলঙ্কার রপ্তানির অংশীদার। এই প্রথম রপ্তানির মধ্যে সোনা, হিরে, রুপো এবং প্ল্যাটিনামের তৈরি চমৎকার ও বৈচিত্র্যময় সব জুয়েলারি সামগ্রী রয়েছে।
ভারত–যুক্তরাজ্য কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক অ্যান্ড ট্রেড এগ্রিমেন্ট (CETA) ভারতের রত্ন ও গহনা শিল্পের জন্য এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার দিন থেকেই ভারতীয় গহনা যুক্তরাজ্যের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে এবং যুক্তরাজ্যের আরোপিত সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক সম্পূর্ণভাবে তুলে দেওয়া হবে। এই যুগান্তকারী দ্বিপাক্ষিক চুক্তিটি যুক্তরাজ্যের ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিশাল অলঙ্কার আমদানি বাজারে ভারতীয় রপ্তানিকারকদের জন্য এক অনন্য এবং অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা নিশ্চিত করছে, যা আগামী দিনে রপ্তানি বৃদ্ধি, নতুন বিনিয়োগের আগমন এবং বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির পথকে আরও প্রশস্ত করবে।
এই বিষয়ে শ্রী কিরিট ভানসালি, চেয়ারম্যান, জিজেইপিসি বলেন, “ভারত–যুক্তরাজ্য কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক অ্যান্ড ট্রেড এগ্রিমেন্ট (CETA)-এর আওতায় আজ যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে প্রথম গহনা রপ্তানির চালান পাঠানোর মাধ্যমে ভারতের রত্ন ও গহনা শিল্প এক গর্বের এবং ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল। এটি শুধুমাত্র পণ্য রপ্তানির সূচনা নয়, বরং ভারতের বৈশ্বিক বাণিজ্যযাত্রার এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। এই ঐতিহাসিক চুক্তি সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য এবং আমাদের শিল্পের প্রতি নিরন্তর সমর্থন ও দূরদর্শী নেতৃত্বের জন্য আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ভারত সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। ভারত–যুক্তরাজ্য CETA-র ফলে যুক্তরাজ্যের আরোপিত সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত হয়েছে। এর ফলে প্রায় ৪০০ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের যুক্তরাজ্যের গহনা আমদানি বাজারে ভারতীয় রপ্তানিকারকেরা উল্লেখযোগ্য প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা পাবেন। শূন্য শুল্কে বাজারে প্রবেশের এই সুযোগের ফলে আগামী তিন বছরে যুক্তরাজ্যে ভারতের রত্ন ও গহনা রপ্তানি বর্তমান প্রায় ৭৫ কোটি ৪০ লক্ষ মার্কিন ডলার থেকে বেড়ে প্রায় ২৫০ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছাবে বলে আমরা আশা করছি। এই প্রবৃদ্ধি রপ্তানিকারক, উৎপাদক, এমএসএমই, কারিগর এবং ডিজাইনারদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে। একই সঙ্গে, কারুশিল্প, উদ্ভাবন এবং মূল্য সংযোজিত গহনা উৎপাদনে বিশ্বনেতা হিসেবে ভারতের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে।“
এই বিষয়ে শ্রী পঙ্কজ পারেখ, পূর্বাঞ্চলীয় আঞ্চলিক চেয়ারম্যান, জিজেইপিসি বলেন, “ভারত–যুক্তরাজ্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বিশ্বের অন্যতম বিচক্ষণ ও উচ্চমানসম্পন্ন গহনার বাজারে ভারতের অনন্য গহনা-কারুশিল্পকে তুলে ধরার এক যুগান্তকারী সুযোগ এনে দিয়েছে। শূন্য শুল্কে বাজারে প্রবেশের সুবিধার ফলে আগামী তিন বছরে যুক্তরাজ্যে ভারতের রত্ন ও গহনা রপ্তানি বর্তমান প্রায় ৭৫ কোটি ৪০ লক্ষ মার্কিন ডলার থেকে বেড়ে প্রায় ২৫০ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। গহনা নির্মাণ ও কারুশিল্পের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের জন্য পরিচিত কলকাতা এই প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের জন্য অত্যন্ত উপযুক্ত অবস্থানে রয়েছে। এই চুক্তি কারিগর, উৎপাদক এবং রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক বাজারে তাঁদের উপস্থিতি আরও বিস্তৃত করতে সহায়তা করবে এবং বিশ্বমানের কারুশিল্পের নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে ভারতের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে।“
ভারত–যুক্তরাজ্য কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক অ্যান্ড ট্রেড এগ্রিমেন্ট (CETA) পশ্চিমবঙ্গের রত্ন ও গহনা শিল্পের জন্য উল্লেখযোগ্য সুফল বয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই চুক্তির ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশাধিকার আরও সহজ হবে, মূল্য সংযোজিত গহনা উৎপাদন উৎসাহিত হবে, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, দক্ষতা উন্নয়নে গতি আসবে এবং কারিগর, এমএসএমই ও রপ্তানিকারকদের অংশগ্রহণ আরও শক্তিশালী হবে। সূক্ষ্ম গহনা নির্মাণে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য এবং উৎকর্ষের জন্য পরিচিত কলকাতা এই ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তির অন্যতম প্রধান সুবিধাভোগী অঞ্চল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে।
প্রথম রপ্তানি চালানের এই ঐতিহাসিক ফ্ল্যাগ-অফ ভারতের রত্ন ও অলঙ্কার রপ্তানি ক্ষেত্রে কলকাতার ধারাবাহিক অবদানকে যেমন পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করে, তেমনই ভারত-যুক্তরাজ্য CETA-র মাধ্যমে তৈরি হওয়া নতুন বাণিজ্যিক সুযোগের প্রতি দেশীয় রপ্তানিকারকদের গভীর আত্মবিশ্বাসকেই প্রতিফলিত করে। এই প্রথমবার ভারতীয় অলঙ্কার যুক্তরাজ্যের বাজারে সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাওয়ায় বিশ্বমঞ্চে ভারতের জুয়েলারি রপ্তানিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে কলকাতার প্রস্তুতকারক ও দক্ষ কারিগরেরা এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে চলেছেন।
