হরিনাম সংকীর্তন উপলক্ষে ঢেপুয়া গ্রামের সকলের বাড়িতে তিন দিনের অরন্ধন উৎসব ও মিলন মেলা।
সৌমী মন্ডল বাঁকুড়া:—কলিযুগে হরিনাম সংকীর্তন মহামন্ত্র এই হরিনাম সংকীর্তন ছাড়া বছর ধরেই বিভিন্ন গ্রামেগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। ব্যতিক্রম নয় জঙ্গলমহলের সারেঙ্গা ব্লকের চিলতোড় গ্রাম পঞ্চায়েতের ঢেপুয়া গ্রাম। এই গ্রামে বুধবার থেকে তিন দিনের অখন্ড হরিনাম মহাযজ্ঞ ও মহোৎসব শুরু হয়েছে আজ আজ জাগরণ রাত্রি। এই হরিনাম মহাযজ্ঞ কে কেন্দ্র করে বিশেষ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয় মঙ্গলবার। এই দিন সন্ধ্যায় রায়পুর সবুজ বাজারের বর্তমান বাসিন্দা বিশিষ্ট সমাজকর্মী তারাপদ মহাপাত্রের বাড়ির মন্দির থেকে গৌউর নিতাই দেব মূর্তিকে আলোক মালায় সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে চাপিয়ে হরিনাম সংকীর্তন এর দল, মহিলা ঢাকির দল ও মতুয়া ব্যান্ড পার্টি বাদ্যযন্ত্রের সহযোগে হাজারেরও বেশি মানুষের সুশৃংখল নাম কীর্তনের মধ্য দিয়ে শোভাযাত্রা শোভাযাত্রা সহকারে সারেঙ্গা ব্লকের ঢেপুয়া গ্রামে নিয়ে আসা হয়। তিন কিলোমিটার পথ যেতে তিন ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে। এখানে উল্লেখ্য এই গ্রামেই আদি জন্মস্থান বিশিষ্ট সমাজকর্মী তারাপদ মহাপাত্রের মূলত তারই উদ্যোগে ও গ্রামবাসীদের সহযোগিতায় তার বাড়ি থেকে বিশেষ শোভাযাত্রা সহকারী গৌর নিতাই কে হরি মন্দিরে নিয়ে আসা হয়।। তিন দিন ধরে এখানে চলে অখন্ড নাম সংকীর্তন এই উপলক্ষে চলে মিলন মহোৎসব এই তিন দিন এবং ভোগের দিন গ্রামের কারো বাড়িতে রান্না চড়েনি । গ্রামবাসী সহ গ্রামে আসা কুতুম্ব আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধব সকলেই হরিনাম সংকীর্তন উপলক্ষে হরিবাসরে অন্নপ্রসাদ গ্রহণ করেন। এই ব্যাপারে সমাজকর্মী তারাপদ মহাপাত্র বলেন এটি আমাদের গ্রামের চিরাচরিত ঐতিহ্য ।আজ ১১ বছর ধরে এই মহোৎসব মহা ধুমধাম এর সঙ্গে উদযাপিত হচ্ছে সকলের সার্বিক সহযোগিতায়। তারাপদ বাবুর সহধর্মিনী ভক্তি প্রাণা মিঠু মহাপাত্র বলেন ২০১৬ সালে প্রথম মানসিক করেছিলাম গৌর নিতাই কে আমার বাড়ি থেকে কোলে করে নিয়ে যাব আমার শ্বশুরবাড়ি গ্রাম ঢেপুয়াতে এবং সেখানে নাম সংকীর্তন মহোৎসবে অংশ নেব। শরীর অসুস্থ থাকলেও মনের জোরে গোবিন্দের আশীর্বাদে প্রায় তিন কিলোমিটার পথ গোবিন্দকে কোলে নিয়ে হেঁটে এসেছিলাম। সেই থেকেই আমার রায়পুরের বাড়ি থেকে প্রতিবছর শোভাযাত্রা সহকারে গৌড় নিতাইয়ের যুগল মূর্তি নিয়ে আসা হয় ডেপুয়া গ্রামে ও নাম সংকীর্তন এর পর যথাযোগ্য মর্যাদায় শোভাযাত্রা সহকারে আবার মন্দিরে নিয়ে আসা হয়। এখানেই সারা বছর ধরেই পুজো পান দেবতারা।নাম সংকীর্তন উপলক্ষে গ্রামে হাজার হাজার ভক্তের ভিড় জমে। তিনি আরো বলেন কয়েক লক্ষ টাকা ব্যয় করে এবারের হরি মন্দিরটি নতুন রূপে সাজানো হয়েছে। হরি মন্দির সাজানো ও শোভাযাত্রার সমস্ত ব্যয় ভার তারাপদ বাবু করেছেন বলে উদ্যোক্তাদের অন্যতম গ্রামবাসী বিশিষ্ট শিক্ষক প্রশান্ত মহাপাত্র জানালেন। গ্রামবাসী রঞ্জিত মহাপাত্র বলেন এই হরিনাম সংকীর্তন উপলক্ষে আমাদের গ্রামে অরন্ধন কর্মসূচি পালিত হয় চারদিন ধরে। সকলেই হরিবাসরে রাধারানীর ভান্ডারে প্রসাদ গ্রহণ করেন।
