কামালগ্রামে শতাব্দী প্রাচীন কমলেকামিনী পুজোয় উৎসবের আমেজ
রাহুল রায়,কাটোয়া: বৃহস্পতিবার,কাটোয়া ১ নম্বর ব্লকের সরগ্রাম অঞ্চলের কামালগ্রামে শতাব্দী প্রাচীন কমলেকামিনী (মা কমলা) পুজো ধুমধামের সঙ্গে পালিত হলো। ঐতিহ্যবাহী এই পুজোকে ঘিরে সকাল থেকেই ভক্ত ও দর্শনার্থীদের ভিড় জমে মন্দির চত্বরে। বর্তমানে মন্দিরে দেবীর অষ্টধাতুর মূর্তি পূজিত হলেও, একসময় এখানে সোনার মূর্তি প্রতিষ্ঠিত ছিল বলে স্থানীয়দের বিশ্বাস।
এলাকাবাসীদের কাছ থেকে জানা যায়, বহু বছর আগে গ্রামের কমলা দিঘিতে জেলেরা মাছ ধরতে গিয়ে জালে একটি সোনার দেবীমূর্তি পান। পরে সেই মূর্তিটি গ্রামের রায় পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তাঁদের উদ্যোগে গ্রামে একটি মন্দির প্রতিষ্ঠা করে সেখানে মা কমলা দেবীর সোনার মূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয়।
তবে কয়েক বছর আগে সেই সোনার মূর্তি চুরি হয়ে যায়। এরপর দেবীর অষ্টধাতুর মূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং সেই মূর্তিতেই আজও নিয়মিত পূজা হয়ে আসছে। প্রতিবছরের মতো এবছরও আষাঢ় নবমী তিথিতে চিরাচরিত প্রথা মেনে কমলেকামিনীর পুজো অনুষ্ঠিত হয়।
পুজো উপলক্ষে দেবীকে মন্দির থেকে চতুরদোলায় করে গ্রাম পরিক্রমায় বের করা হয়। চতুর্ভুজা দেবীর উপরের ডান হাত বরাভয় মুদ্রায়, বাম হাতে পদ্ম এবং নিচের দুই হাত ধ্যানমুদ্রায় রয়েছে। দেবীর দু’পাশে দুই হাতি শুঁড় দিয়ে দেবীর ওপর জল ছিটিয়ে দিচ্ছে—এমন মনোমুগ্ধকর রূপ ভক্তদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে।
গ্রাম পরিক্রমার দায়িত্ব পালন করেন জেলে সম্প্রদায়ের মানুষ। শোভাযাত্রা কমলা দিঘির পাড়ে পৌঁছালে দেবীকে প্রতীকীভাবে স্নান করানো হয়। এরপর গাছতলায় বিশেষ পূজা সম্পন্ন করে পুনরায় দেবীকে মন্দিরে ফিরিয়ে আনা হয়।
পুজোকে কেন্দ্র করে কামালগ্রামে বসেছে ঐতিহ্যবাহী মেলা। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে শতাব্দী প্রাচীন এই কমলেকামিনী পুজোকে ঘিরে গোটা গ্রামজুড়ে উৎসবের আবহ বিরাজ করছে।
