অসহায় মানুষদের হাতে শীতবস্ত্র তুলে দিল ‘খোলা জানলা’,

জ্যোতি প্রকাশ মুখার্জ্জী

        করোনা গত প্রায় দু'বছর ধরে আমাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশকে পুরোপুরি স্তব্ধ করে দিয়েছে। বহু পরিবার এখনো তাদের প্রিয়জন হারানোর শোক কাটিয়ে উঠতে পারেনি। বহু মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। তারপরও প্রতিটি অন্ধকারের পেছনে যেমন আলোর দিশা খুঁজে পাওয়া যায় তেমনি করোনা জনিত লকডাউন চারদেওয়ালের মাঝে আবদ্ধ কাব্য-সাহিত্য প্রেমী বাঙালির জীবনে এনে দিয়েছে অখণ্ড সময়। বিভিন্ন সমাজ মাধ্যমে গড়ে উঠেছে একের পর এক সাহিত্যচর্চা গ্রুপ। এরকমই একটি গ্রুপ হলো 'খোলা জানালা'। মূলত সাহিত্য প্রেমী গৃহবধূরা এই গ্রুপটি প্রতিষ্ঠা করে।

      প্রসঙ্গত সাহিত্যচর্চা, স্বরচিত কবিতা পাঠ ইত্যাদির সঙ্গে সঙ্গে প্রবীণ কবিদের কবিতা পাঠের ভিডিও কাব্য রসিকদের সামনে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে মাস সাত-আট  আগে গ্রুপটি গঠিত হয়। যেহেতু সদস্যরা গৃহবধূ এবং সন্তানদের মা, তাই শুধু সাহিত্যচর্চার মধ্যেই নিজেদের আবদ্ধ রাখেনি। চলার পথে যেসব  অসহায় মানুষ বা পথশিশুদের দেখা যায় নিজেদের সীমিত আর্থিক সামর্থ্য দিয়ে বারবার তাদের দিকে সাহায্যের হাতও বাড়িয়ে দেয়।

    তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও গত কয়েকদিন ধরে ঠান্ডা ছিল মারাত্মক। আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় বারাসত স্টেশন বা তিতুমীর বাসস্ট্যান্ডের বেশ কিছু অসহায় মানুষ শীতবস্ত্র কিনতে পারেনি। এদের সংখ্যা কমপক্ষে ত্রিশ। প্রকৃতির কাছে অসহায় ভাবে তারা আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। চলার পথে এদের দেখে 'খোলা জানলা'-র কোনো কোনো সদস্যের মনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। তারপরই সংস্হার পক্ষ থেকে এইসব অসহায় মানুষের হাতে শীতবস্ত্র তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শুধু শীতবস্ত্র নয়, প্রত্যেকের হাতে কিছু খাবারও তুলে দেওয়া হয়। প্রচন্ড ঠাণ্ডার সময় শীতবস্ত্রগুলি পেয়ে অসহায় মানুষগুলি খুব খুশি। প্রবীণা মালতি দেবীতো দু'হাত তুলে তাদের আশীর্বাদও করলেন।

    শীতবস্ত্র বিতরণের সময় সংস্হার পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন চৈতালী রায়, শাশ্বতী দাস, লিলি নন্দী, দীপ বিশ্বাস, আদিত্য সরকার, দেবশ্রী বসু ও ববি সরকার। পারিবারিক কাজে ব্যস্ততার জন্য ইচ্ছে থাকলেও বাকি সদস্যরা আসতে পারেনি। আসতে না পারলেও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে কার্পণ্য করেনি।

       আর্থিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে গ্রুপের পক্ষ থেকে ববি সরকার বললেন – শীতের  সময় আমরা শীতের   পোশাক পড়ব আর আর্থিক সামর্থ্য না থাকার জন্য ঐসব অসহায় মানুষগুলো শীতের পোশাক পড়তে পারবেনা এটা ভেবে খুব খারাপ লাগছিল। আমরা নিজেদের সামর্থ্যের মধ্যে কয়েকজনকে শীতের  পোশাক কিনে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। আমাদের সিদ্ধান্তের কথা জানতে পেরে পরিবারের কর্তারাও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। সবার সহযোগিতায় আজ আমাদের ইচ্ছে পূরণ হলো। তিনি আরও বলেন - যদি এলাকার সহৃদয় মানুষেরা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন তাহলে হয়তো আরও বেশি সংখ্যক মানুষকে আমরা সাহায্য করতে পারব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *