রাজনীতি

বাদুড়িয়ায় সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থী সাত্তার জেতাটা সময়ের অপেক্ষা?

ড. আবদুস সাত্তারের জয় সুনিশ্চিত শুধু সময়ের অপেক্ষা

সংবাদদাতা: পেশায় কলেজ শিক্ষক, লেখালেখি নিয়েই থাকেন। প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব তাঁকে অনুরোধ করেছিলেন তাঁদের দলে যোগ দিতে এবং বিধানসভা নির্বাচনে ভোটে দাঁড়াতে। শেষ পর্যন্ত সেই অনুরোধে সাড়া দিয়েছেন ড. আবদুস সাত্তার জাতীয় কংগ্রেস দলে বছর দুই আগেই যোগ দিয়েছিলেন। ২০২১ বিধানসভার নির্বাচনে তিনি সংযুক্ত মোর্চা জোটের পক্ষে কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন বাদুড়িয়া থেকে। মানুষের ভালবাসায় পরিপূর্ণ সমর্থন নিয়ে বিধানসভায় মানুষের হয়ে গলা ফাটাতে হাজির হওয়া এখন সময়ের অপেক্ষা। তার জয় সুনিশ্চিত বলে তিনি মনে করেন।

বাম জমানায় সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন ড. আবদুস সাত্তার। তিনি জানিয়েছেন, “বিভাজনের রাজনীতি ও রাজনীতির বিভাজনের বিরুদ্ধে লড়াই কংগ্রেসের মতো শক্তির নেতৃত্বেই করতে হবে। এই বাংলায় তৃণমূলের ১০ বছরের শাসনে যে ভাবে সাম্প্রদায়িকতার উত্থান হয়েছে, কংগ্রেস ও বামেদের ৬৪ বছরের শাসনে তা অভাবনীয় ছিল! প্রথমে সংখ্যালঘু তোষণ এবং এখন সংখ্যাগুরু তোষণের নামে তৃণমূল বিভাজন তীব্র করছে, তাতে বিজেপিরও দাপট বাড়ছে।’’

ড. আবদুস সাত্তার জানালেন, “হুগলি মাদ্রাসার যে পরিকাঠামো আছে তাকে কাজে লাগিয়ে উন্নত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা যাবে। হাজী মুহাম্মদ মহসিনের স্বপ্ন যদি সাকার করতে হয় তাহলে শুধু মহসিন কলেজের উন্নয়ন নয়, মাদ্রাসারও উন্নয়ন করতে হবে। আজ যিনি শিক্ষামন্ত্রী তিনি যখন বিরোধী দলের নেতা ছিলেন তখন তিনি হুগলি মাদ্রাসার উন্নয়ন নিয়ে অনেক কথা বলতেন। আজ তাঁর আমলেই একই সময়ে গড়ে ওঠা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিন্দু স্কুলের ২০০ বছর ঘটা করে উদযাপন করা হয়, আর ওই সময়ই বাংলার নবজাগরনের অন্যতম পীঠস্থান হুগলি মাদ্রাসাকে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ থেকে সরকারের আলো-আধাঁরি চরিত্রটা স্পষ্ট হয়। এই প্রসঙ্গে বলা যেতে পারে হুগলি মাদ্রাসা কোন অংশেই হিন্দু স্কুলের তুলনায় মেধা বিকাশে কম ছিল না। এই মাদ্রাসার কৃতি ছাত্র ছিলেন স্যার সৈয়দ আমির আলি, ফুরফুরা শরীফের পীর আবু বকর সিদ্দিকী (রহ), বাংলাদেশের দুই বিখ্যাত রাজনীতিবিদ এবং সেদেশের প্রাক্তণ প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ ও শাহ আজিজুর রহমান, প্রখ্যাত বিঞ্জানী আতাউর রহমান এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্যিক মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর মত ভারত তথা উপমহাদেশের এই সব কৃতি সন্তানরা হুগলি মাদ্রাসার ছাত্র ছিলেন। এক সময় হুগলী মাদ্রাসার ছাত্ররা ভারত তো বটেই সমগ্র উপমহাদেশ জুড়ে শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *