প্রশাসন

জলস্বপ্ন প্রকল্পে সাতলক্ষ বাড়িতে জলের সংযোগ পাথুরে জেলা বীরভূমে

খায়রুল আনাম (সম্পাদক আয়না টেলি নিউজ)


প্রকৃতিগতভাবে জেলা বীরভূমের একটা বড় অংশই পাথুরে এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। জেলার বেশকিছু এলাকার মাটির নীচে রয়েছে কয়লা ও পাথর।  এইসব কারণে ওইসব এলাকায় ভূগর্ভস্থ জলোত্তলন করে তা পানীয় জল হিসেবে ব্যবহার করাটা প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে। আবার তা যথেষ্ট ব্যয়বহুল হওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের কাছে পরিস্রুত পানীয় জল প্রায় অধরা থেকে গিয়েছে। তাই বার বার দাবি উঠেছে, জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত নদী, কাঁদর দিয়ে যে জল প্রবাহিত হয়ে যায় তা উত্তোলন করে পরিস্রুত করে পাইপ  লাইনের মাধ্যমে পানীয় জল হিসেবে সরবরাহ করা হোক।  রাজ্য  জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতর পার্শ্ববর্তী মুর্শিদাবাদ জেলার ভাগীরথী নদী থেকে জলোত্তলন করে তা পরিস্রুত করে পাইপ লাইনের মাধ্যমে এনে জেলায় সরবরাহ করার একটি পরিকল্পনা নেয়। এজন্য প্রাথমিকভাবে একটি সমীক্ষা করা হলেও তা  বাস্তবায়িত হয়নি।  সেচের কাজে ভূগর্ভস্থ জলোত্তলন করে তা মাত্রাতিরিক্তভাবে ব্যবহার করার ফলে এমনিতেই ভূগর্ভস্থ জলে টান পড়ছে এবং জলে আর্সেনিকের মাত্রাও বাড়ছে।  তাই সাধারণভাবে জলের যে উৎসগুলি রয়েছে, সেগুলিকে কাজে লাগিয়ে পানীয় জলের চাহিদা মেটাবার উপরে জোর দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করা হয়।  দেখা যাচ্ছে যে, জেলার পুরসভাগুলির বহুলাংশে এখনও প্রয়োজনীয় পানীয় জলের চাহিদা মেটানো যায়নি। গ্রামাঞ্চলে এই সমস্যাটা আরও প্রকট।          এই পরিস্থিতিতে এবার আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ‘জলস্বপ্ন’ প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলের সাত লক্ষ পরিবারকে নলবাহী পরিস্রুত পানীয় জল  সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় আনার পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতর। এবং সম্পূর্ণ বিনা খরচায় এই পানীয় জলের সংযোগ দেবে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতর। রাজ্য সরকারের ‘জলস্বপ্ন’ প্রকল্পে চলতি বছরে এক লক্ষ পরিবারকে  এই প্রকল্পের আওতায় আনার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। এই কাজ খুব শীঘ্রই শুরুও করা হবে।        এই প্রকল্পের সুবিধা কেবলমাত্র গ্রামাঞ্চলের মানুষই পাবেন। প্রতিদিন মাথাপিছু ৫৫ লিটার করে পানীয় জল বরাদ্দ থাকবে। অপচয় না করলে, ওই পরিমাণ জলেই তাঁদের চাহিদা মিটবে বলেই আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে জেলায় যে চালু  প্রায় ৪০টি জল প্রকল্প রয়েছে, তার মাধ্যমেই এই জলস্বপ্ন প্রকল্পে পানীয় জল সরবরাহ করা হবে বলে ঠিক হয়েছে। তাই এই জল প্রকল্পে নামের বাহুল্যতা থাকলেও, তাতে মানুষ কতটা উপকৃত হবেন, সে প্রশ্ন অনিবার্যভাবেই আসছে। চালু যে জল প্রকল্পগুলি রয়েছে তা অনেক ক্ষেত্রেই অচল অবস্থায় রয়েছে এবং অনেক জল প্রকল্প থেকে সঠিকভাবে জল সরবরাহও হয় না। তাই মনে করা হচ্ছে যে, নতুন কোনও জলের উৎস তৈরী না করে, এই ধরনের প্রকল্প তৈরী করা হলেও, তা মানুষের পানীয় জলের চাহিদা মেটাতে খুব একটা কার্যকরী হবে না ।।    

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *