প্রশাসন

করোনায় নাগরিক কর্তব্য পালনে অনিহা কেন?

জ্যোতিপ্রকাশ মুখার্জি,


আর মাত্র কয়েকদিন পর পালিত হতে চলেছে দেশের ৭৪ তম স্বাধীনতা দিবস। অথচ আজও দেশের এক শ্রেণির তথাকথিত শিক্ষিত নাগরিক বুঝতে পারলনা বা বুঝতে চাইছেনা দেশের প্রতি, সমাজের প্রতি সর্বোপরি নিজের পরিবারের প্রতি তাদের একটা দায়িত্ব ও কর্তব্য আছে। করোনার আবির্ভাব না ঘটলে এইসব দায়িত্ব জ্ঞানহীন নাগরিকদের কথা কোনো দিনই জানা যেতনা। করোনার ইতিহাস লেখা হলে করোনা বিস্তারে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সঙ্গে এদের ভূমিকা কিন্তু স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
আমাদের দেশে এবছর ৩০ শে জানুয়ারি প্রথম করোনা রুগীর সন্ধান পাওয়া যায়। কেন্দ্রীয় স্বাস্হ্য দপ্তর পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে ব্যর্থ হলেও জানুয়ারির শুরু থেকেই বিশ্ব স্বাস্হ্য সংস্থা ‘হু’ এবং বিশেষজ্ঞরা রোগ মোকাবেলা করার জন্য বারবার সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দিয়ে গেছে। চোখের সামনে মৃত্যু মিছিল দেখেও আমাদের দেশের সরকার, এক শ্রেণির নাগরিক উদাসীন থেকে গেছে। ২৫ শে মার্চ থেকে সার্বিক লকডাউন ঘোষণা করা হলেও সেটাও মানতে অনেকের অনীহা। তারই জন্য পৃথিবীর দীর্ঘতম লকডাউন চলছে ভারতে।
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একেবারে সামনে দাঁড়িয়ে করোনার মোকাবেলা করে চলেছে ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্হ্য কর্মীরা এবং পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা। মানুষের প্রাণ রক্ষা করার জন্য দিনের পর দিন পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থেকে তারা লড়াই করে যাচ্ছে। একটানা কাজের ক্লান্তি গ্রাস করলেও তারা বিশ্রাম নেয়নি। ইতিমধ্যে বহু ডাক্তার, নার্স, স্বাস্হ্যকর্মী, পুলিশ কর্মী, প্রশাসনিক আধিকারিকরা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। অনেকে না-ফেরার দেশে চলেও গেছেন। অথচ এখনো আমাদের হুঁশ ফেরেনি। ভাবখানা এমন আমাদের পরিবারের তো কেউ মারা যায়নি। তাই তারা অকারণে বিভিন্ন জায়গায় ভিড় করছে। ফল স্বরূপ আমাদের রাজ্য সহ দেশের সমস্ত রাজ্যে করোনা রুগীর সংখ্যা হু হু করে বেড়ে চলেছে।
সম্প্রতি আমাদের রাজ্যে সপ্তাহে দু’দিন করে লকডাউন পালন করা হচ্ছে। ব্যাঙ্গালুরুর দুই বিশেষজ্ঞের মতে এরফলে করোনার ‘চেন’ ভাঙবে এবং সংক্রমণ নাকি অনেকটা কমবে। কি হবে সেটা ভবিষ্যত বলবে। কিন্তু মাথায় রাখতে হবে কিছু নিয়ম পালন করার ফলে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে করোনা আজ নিয়ন্ত্রণে আছে।
ইতিমধ্যে আমাদের রাজ্যে তিনদিন এই ধরণের লকডাউন পালিত হয়েছে। কোথাও কোথাও চোর-পুলিশ খেলা হলেও পুলিশ সক্রিয় হতেই কার্যত সারা রাজ্যের রাস্তাঘাট ফাঁকা। কিন্তু নির্দিষ্ট দিনের আগে বা পরে নুন্যতম স্বাস্হ্যবিধি না মেনে বাজারে বা রাস্তায় উপচে পড়া ভিড় দেখে বিশেষজ্ঞরা আতঙ্কিত হয়ে উঠেছেন। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে নাগরিকদের দায়িত্ব জ্ঞান দেখে।
এটা ঠিক দীর্ঘদিন ঘরে বসে থাকা যায়না। তারজন্য সরকার একটানা লকডাউন করছেনা। বেশ কিছু ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে ছাড়ও দিচ্ছে। এরপর যদি পুলিশ দিয়ে লকডাউন সফল করতে হয়, এক শ্রেণির মানুষকে দায়িত্ব সম্বন্ধে সচেতন করতে হয় তাহলে শিক্ষার বড়াই করে কি লাভ?
বিশিষ্ট মনোবিদ তানেয়া মুখার্জ্জী বললেন – যে শিক্ষা চেতনা আনে আমাদের দেশে সেই শিক্ষার বড়ো অভাব। সুতরাং সেদিকে নজর দিতে হবে। হাতে দামি গাড়ির চাবি বা দামি মোবাইল তুলে দেওয়ার আগে অভিভাবকদের নিজের সন্তানদের প্রকৃত ‘মানুষ’ হওয়ার শিক্ষা দিতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *