প্রশাসন

আগুনে সর্বশান্ত গলসির এই পরিবার

জ্যোতিপ্রকাশ মুখার্জি,

     ভয়াবহ আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল  খড়ের চালযুক্ত আস্ত একটা মাটির বাড়ি এবং শত শত মানুষ চোখের সামনে অসহায় ভাবে সেই করুণ দৃশ্যের সাক্ষী থাকল। ৬ ই ফেব্রুয়ারি দুপুর দুটো নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমান জেলার গলসী ২ নং ব্লকের সাটিনন্দী গ্রামের ৪৪ নং  বুথের খিড়কিপাড়ায়। স্ত্রী-পুত্র সহ ঐ বাড়িতে রতন দাস ও ভরত দাস নামে দুই ভাই বসবাস করতো। ঘটনার সময় পেশায় ক্ষেত মজুর দুই ভাই স্ত্রীদের নিয়ে অন্যের জমিতে বোরোধান রোপণে ব্যস্ত ছিল। তাদের দুই সন্তানও বাড়ির বাইরে ছিল। ফলে বাড়িতে থাকা সমস্ত জিনিসপত্র, ধান,  টাকা, পোশাক পরিচ্ছদ, বাসনপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। 
     স্হানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে গ্রামের অধিকাংশ মানুষ ক্ষেত মজুর। ঘটনার সময় তারা বোরো ধান রোপণের কাজে ব্যস্ত ছিল। আগুন লাগার খবর পেয়ে তারা দ্রুত গ্রামে ফিরে আসে এবং ৩ টি পাম্পের সাহায্যে  ঘণ্টা দু'য়েকের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণ করে। আগুন যখন নিভে যায় তখন দেখা যায় আগুনের গ্রাসে সব শেষ। ঘরের কোনো কিছুই উদ্ধার করা যায়নি। গ্রামবাসীদের অনুমান শর্টসার্কিট থেকে আগুন লেগেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গলসী থানার পুলিশ আসে।
    এদিকে আগুন লাগার খবর পেয়েই  ঘটনাস্থলে হাজির হন স্হানীয় বাসিন্দা তথা জেলা পরিষদের সদস্য সুভাষ পুইলে। তিনি সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাওয়া  দাস পরিবারের পাশে দাঁড়ান। প্রাথমিকভাবে তিনি প্রতিবেশীদের বাড়িতে তাদের থাকার ব্যবস্হা করেন। সরকারি  সাহায্যের জন্য স্হানীয় সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক ও জেলা পরিষদের সভাধিপতি শম্পা ধারাকে অনুরোধ করেন এবং তার দাবি উভয়েই সমস্ত রকমের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। একইসঙ্গে দাস পরিবারকে সাহায্যের জন্য  তিনি স্হানীয় পঞ্চায়েত প্রধানকে এবং  অগ্রিম খাদ্য-সামগ্রী দেওয়ার জন্য স্হানীয় ডিলারকে অনুরোধ করেন।
      সব হারিয়ে নিঃস্ব বন্দনাদেবী কাঁদতে কাঁদতে বললেন - সরকার থেকে বাড়ি করার টাকা দিয়েছিল। ভেবেছিলাম এবার দালান বাড়ি করব। কিন্তু সব শেষ। সব হারিয়ে স্বামী-পুত্রদের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার চিন্তায় দুই জা দিশেহারা।
     অন্যদিকে সুভাষ বাবু বললেন -  জনপ্রতিনিধি হিসাবে আমি আমার পক্ষে যতটা সম্ভব পরিবারটি সাহায্য করব। এমনকি দলের পক্ষ থেকেও আমরা তাদের পাশে থাকব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *