জুলফিকার আলি

একাদশ শ্রেণীর অসমাপ্ত বার্ষিক পরীক্ষা (২০২০)-র ভিত্তিতে দ্বাদশ শ্রেণীতে উত্তীর্ণ করা নিয়ে বিদ্যালয় পরিচালন সমিতির সিদ্ধান্ত কে চূড়ান্ত বলে পশ্চিমবঙ্গ উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাসংসদের সভাপতি র গতকালের বিজ্ঞপ্তি নিয়ে শিক্ষা মহল তোলপাড়। শিক্ষার অঙ্গনে শাসকদলের মাতব্বরির অভিযোগ বহুচর্চিত। কিন্তু পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে সরকার মনোনীত শাসকদলের কর্তাদের নিয়ে গঠিত পরিচালক সমিতির প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপের সরকারী ছাড়পত্রে শিক্ষা নিয়ে দলবাজির মুখোশ খুলে পড়ল।এতদিন বিদ্যালয়ের পঠনপাঠন, শৃঙ্খলা, পরীক্ষার ফলপ্রকাশ সহ শিক্ষা সংক্রান্ত সমূহ দায়িত্ব প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষক -শিক্ষিকা দের গঠিত অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের উপর ন্যস্ত ছিল। বিরোধী রাজনৈতিক পরিবারের পড়ুয়া দের প্রধান শিক্ষক সহ শিক্ষক -শিক্ষিকা দের উপর ভরসার ঘাটতি পরিলক্ষিত হয় নি।উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফলপ্রকাশে নম্বর প্রদানের নীতির ভিত্তিতে একাদশ শ্রেণীর বিভিন্ন বিষয়ের না হওয়া পরীক্ষার নম্বর প্রদান করলে বা উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ সারা বাংলা জুড়ে একই গাইড লাইন প্রদান করলে সমস্যা মিটেই যেত।তা নাহলে প্রধান শিক্ষক ও অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের উপর পরীক্ষার ফলপ্রকাশের পরিপূর্ণ দায়িত্ব অাগের মত থাকলে কোন বিতর্কের অবকাশ থাকত না।কিন্তু পরীক্ষার ফলপ্রকাশের চূড়ান্ত দায়িত্ব সরকার মনোনীত পরিচালক সমিতি প্রদান করে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের রাজনীতি করনের মুখোশ খুলে পড়ল। তাহলে উচ্চ মাধ্যমিক বা মাধ্যমিক পরীক্ষা র ফলাফলে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রতিফলন বেঅাব্রু হয়ে পড়ল।তাছাড়া বিদ্যালয়ের শিক্ষা পরিচালনায় প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষক -শিক্ষিকাদের স্বাধীকারকে বরবাদন করা হল।এমনিতেই পরিচালক সমিতির গনতান্ত্রিক নির্বাচনের পাট অনেক অাগেই চুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। সরকার মনোনীত পরিচালক সমিতি বা প্রশাসক দিয়ে স্কুল চালানো হচ্ছে। শিক্ষক -শিক্ষিকা নিয়োগের ক্ষমতা পরিচালক সমিতি র হাত থেকে কেড়ে মধ্য শিক্ষা পর্ষদ কে কেন্দ্রীয় ভাবে দেওয়া হয়েছে। শাসকদলের কথামতো না চললে শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মীদের বদলী এখন ভবিতব্য। বাকী প্রমোশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব সরকার মনোনীত পরিচালক সমিতি কে অর্পণ করে শিক্ষার রাজনীতি করনের ষোল কলা পূর্ণ হল।প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক মামুদ হোসেন উপরোক্ত অভিযোগ করে একাদশ শ্রেণীর বার্ষিক পরীক্ষা র ফলাফলের চূড়ান্ত দায়িত্ব পরিচালক সমিতির উপর প্রদানের বিজ্ঞপ্তি বাতিল করা র দাবী জানিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি কে ই-মেইল বার্তা পাঠিয়েছেন। বনমালীচট্টা হাইস্কুলে র প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক মামুদ হোসেন বলেন একাদশ শ্রেণীর বার্ষিক পরীক্ষা র ফলাফল নিয়ে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের পথ প্রশস্ত হল।এটা কোনভাবে মেনে নেওয়া যায় না।

Leave a Reply

Your email address will not be published.