ক্রীড়া সংস্কৃতি

গুসকারার ফুটবলার সাগর পাত্রের সুনাম দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে

জ্যোতিপ্রকাশ মুখার্জি,

     বাম প্রান্ত ধরে অবলীলায় একের পর এক বিপক্ষের বাধা অতিক্রম করে বল নিয়ে এগিয়ে চলেছেন সাগর পাত্র। তারপর বাঁ-পা থেকে বেড়িয়ে আসত জোরালো 'পাঞ্চ'। শুধু বিপক্ষ দল নয় দর্শকরাও বুঝতে পারতনা বল নিয়ে এগিয়ে চলা ফুটবলারটি 'লেফট' উইং ব্যাক না লেফট উইংগার। এভাবেই শুধু অবিভক্ত বর্ধমান নয় দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন দলের গোলকিপারদের কাছে  আতঙ্ক হয়ে উঠেছিলেন পূর্ব বর্ধমানের গুসকরার বিখ্যাত ফুটবলার সাগর পাত্র।
    সামনে শুধু গোলকিপার। নিশ্চিত গোল। হঠাৎ ত্রাতার ভূমিকায় উদয় হতেন রক্ষণভাগের খেলোয়াড় উদয় গড়াই। এভাবে কতবার যে নিজের দলের পতন রোধ করেছেন তার কোনো ইয়ত্তা নাই। ইনিও অতীত দিনের এক দিকপাল ফুটবলার।
      ঘড়ির কাঁটা ইঙ্গিত দিচ্ছে মধ্যরাত পেরিয়ে গেছে। দূরে কোনো শহর বা গ্রামের মাঠে ফুটবল ম্যাচ খেলে গুসকরা স্টেশনে নামল গুসকরা স্পোর্টিং ইউনিয়নের ফুটবলাররা। অনেকের বাড়ি গুসকরার বাইরে। সবার প্রিয় 'শরৎ' স্যারের বাড়ির কাছে যেতেই আওয়াজ এল 'প্রেমা' বাড়ি যেতে হবেনা। আমার বাড়িতে থাকবি। শুধু প্রেমা নয় সন্তান সম খেলোয়াড়দের জন্য তখনও জেগে আছেন শরৎ স্যার। অর্থাৎ শরৎ গড়াই।
       সবাইকে হতবাক করে দিয়ে কয়েক দিন আগে হঠাৎ না ফেরার দেশে চলে গেলেন সাগর পাত্র। ব্যবসা কেন্দ্র থেকে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন  উদয় গড়াই এবং বার্ধক্য জনিত কারণে মারা গেলেন শরৎ গড়াই। দুই বিখ্যাত ফুটবলার সাগর পাত্র ও উদয় গড়াই এবং দক্ষ ক্রীড়া সংগঠক তথা জনপ্রিয় শিক্ষক শরৎ গড়াই এর স্মৃতির উদ্দেশ্যে ৩১ শে জানুয়ারি গুসকরা কলেজ মাঠে এক স্মরণ সভার আয়োজন করে 'আমরা ক্রীড়াপ্রেমী' নামক এক সংগঠন। প্রসঙ্গত সংগঠনের প্রতিটি সদস্যই অতীতের দুই দিকপাল ফুটবলারের সমসাময়িক  এবং শরৎ বাবুর হাতে তৈরি।
        উপস্থিত ব্যক্তিরা তিন জনের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করেন। সাগর পাত্রের সহ-খেলোয়াড় প্রসাদ ঘোষ এবং উদয় গড়াই এর সহ-খেলোয়াড় আশীষ গাঙ্গুলি উভয়ের স্মৃতিচারণ করেন। শরৎ বাবুর স্মৃতিচারণ করেন বিশিষ্ট ডাক্তার শ্যামল দাস। প্রত্যেকের একটাই দাবি যদি গুসকরায় খেলাধুলার অতীত ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা যায় তাহলে সেটাই হবে এদের প্রতি সঠিক সম্মান প্রদর্শন।
    স্মরণ সভা উপলক্ষ্যে 'লোকো কোচিং সেণ্টার, বর্ধমান' ও ' জৌগ্রাম কোচিং সেণ্টার' এর মধ্যে একটি প্রদর্শনী ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হয়। গোলশূন্য ভাবে শেষ হলেও খেলার মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল। বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। জৌগ্রামের গোলকিপার রাজ ঘরামি অন্তত তিনটি ক্ষেত্রে দলের পতন রোধ করে। দ্বিতীয়ার্ধে জৌগ্রামও বেশ কয়েকবার গোলের সুযোগ পায়। আক্রমণ ভাগের খেলোয়াড়দের ব্যর্থতার জন্য ম্যাচ গোলশূন্য ভাবে শেষ হয়। খেলার শেষে উভয় দলের খেলোয়াড়দের পুরষ্কৃত করা হয়।
   আজকের স্মরণ সভায় আশির দশকের শতাধিক দিকপাল ফুটবলার উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ছিলেন তিনজনের পরিবারের সদস্যরা এবং গুসকরা ও তৎসংলগ্ন এলাকার ক্রীড়াপ্রেমী মানুষেরা।
  'আমরা ক্রীড়াপ্রেমী'-র পক্ষ থেকে উদয়ন ঘোষ বললেন- আমাদের লক্ষ্য ফুটবলে গুসকরার অতীত ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা। খুব শীঘ্রই আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে একটা নির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি করব। সংগঠনের পক্ষ থেকে তিনি উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *