প্রশাসন

ফুসফুসের সংক্রমণের চিকিৎসা হলো স্বাস্থ্যসাথীর কার্ডে

জ্যোতিপ্রকাশ মুখার্জি,

      প্রথমে সুযোগ পাচ্ছিল কিছু নির্দিষ্ট সংখ্যক মানুষ। ফলে রাজ্যের একটা বড় অংশের মানুষ স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের মাধ্যমে চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল। সেই অসুবিধা দূর করার জন্য সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জ্জী রাজ্যের সমস্ত মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের কথা ঘোষণা করেন। 'দুয়ারে সরকার' কর্মসূচির মাধ্যমে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড তৈরির কাজও শুরু হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে জরুরি ভিত্তিতে কার্ডও তৈরি করে দেওয়া হয়। সেই দৃষ্টান্তের সাক্ষী থাকল পূর্ব বর্ধমানের গলসী বাসী।    
       সম্প্রতি গলসী ২ নং ব্লকের গলসী গ্রামের বাসিন্দা সুলেখা আঁকুরের (৩১) ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ে। ২৫ শে জানুয়ারি তাকে বর্ধমান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সুলেখার স্বামী সমীর কুমার আঁকুরে সামান্য বেতনে একটা মোবাইল দোকানে কাজ করে। বাড়িতে আছে বছর সাতেকের এক বাচ্চা ও বৃদ্ধা শাশুড়ি। একদিকে অর্থনৈতিক দুর্বলতা, অন্যদিকে পরিবারে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড না থাকার  জন্য ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ বহন করা সমীর বাবুর পক্ষে দুঃসাধ্য হয়ে ওঠে। পরিবারটির অসহায় অবস্থার খবর পৌঁছায় গলসী ২ নং ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি তথা পঞ্চায়েত সমিতির সেচ ও কৃষি কর্মাধ্যক্ষ সুজন মণ্ডলের কাছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পেরে তিনি তৎপর হয়ে ওঠেন। দ্রুত ব্লক প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং গলসী ২ নং সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক সঞ্জীব সেনের সঙ্গে আলোচনা করেন। তারপর টেকনিক্যাল  টিম নিয়ে হাজির হয়ে যান বর্ধমান হাসপাতালে। হাসপাতালের বেডেই শুয়ে থাকা অবস্থায় সুলেখা দেবীর ছবি তুলে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড তৈরি করা হয়। এদিকে খবর পৌঁছে যায় স্হানীয় বিধায়ক অলোক মাজির কাছে। তিনিও সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে এসে হাজির হন। সবার উপস্থিতিতে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড ও মুখ্যমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বার্তা তুলে দেওয়া হয় সুলেখা দেবীর হাতে। এমনকি পরিবারটির পাশে থেকে সবরকম সহযোগিতার আশ্বাসও দেওয়া হয়।
      সমীর বাবু বলেন - একসময় ভেবেছিলাম বিনা চিকিৎসায় আমার স্ত্রী হয়তো মারা যাবে। কিন্তু যেভাবে প্রশাসন আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে তাতে আমি তৃণমূল সরকার তথা 'দিদি'-র কাছে কৃতজ্ঞ।
       অন্যদিকে বিধায়ক বলেন -এই একটা ঘটনায়  প্রমাণ করে দেয় আমাদের দলের নেতা-কর্মীরা সাধারণ মানুষের জন্য কতটা সচেতন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *