রাজনীতি

মেহবুব খানের প্রার্থী না হলে জামালপুরে হারবে তৃণমূল!

সেখ সামসুদ্দিন,

সপ্তাহ খানেক আগে বিজেপি যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতি সৌমিত্র খাঁর সভার পাল্টা এক সপ্তাহের ব্যবধানে দুটি সভা করে জবাবে দিল তৃণমূল। পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের চকদিঘিতে সভা পাল্টা সভা ঘিরে রবিবারও রাজনৈতিক তাপপ্রবাহ বজায় থাকল। বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে জনসভার আয়োজনে তৃণমূল ও বিজেপি কার্যত পরস্পর একপ্রকার প্রতিযোগিতায় নেমেছে । তবে উল্লেখযোগ্যভাবে বলা যায় রাজনীতির ময়দানে এখনও সিপিএম ও কংগ্রেস নামতে পারেনি। ফলে দলের কর্মী ও সমর্থকরা একপ্রকার হতাশ। গত ২০ জানুয়ারি কৃষি বিলের সমর্থনে জামালপুরের চকদিঘির মাঠে বিজেপি সভা করে। ঐ সভায় উপস্থিত ছিলেন বিষ্ণুপুরের সাংসদ তথা রাজ্য বিজেপির যুব মোর্চার সভাপতি সৌমিত্র খাঁঁ। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্রভাবে আক্রমণ করেন সৌমিত্র খাঁ বক্তব্য রাখেন। তার ঠিক একদিন পরেই ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি শ্রীমন্ত রায়ের নেতৃত্বে জামালপুর ব্লকের চকদিঘিতে পাল্টা জনসভা করা হয়। তারও একদিন পর সৌমিত্র খাঁ যে মাঠে সভা করে গিয়েছিলেন সেই মাঠেই আজ সভা করে বিজেপিকে চুড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিলেন জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মেহেমুদ খান ও ব্লক যুব সভাপতি ভুতনাথ মালিক। এদিনের সভা জনজোয়ারের ভেসে যায়, আর এই সভা থেকে দুই নেতৃত্ব ঘোষণা করেন বিজেপির ’হুমকির হিসাব হবে ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে’। রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে হিসাব মেলানোর গুঞ্জন। বিজেপির একদিনের ক্ষমতা প্রদর্শনের পাল্টা তৃণমূল দু’দিন ক্ষমতা দেখালো। অবশ্যই এর কৃতিত্ব তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠী রাজনীতি। ২০ জানুয়ারি
বিজেপির সৌমিত্র খাঁর সভায় তেমন লোক হয়নি। সেদিন প্রায় সন্ধ্যা ৬ টা নাগাদ ফাঁকা মাঠেই সৌমিত্র খাঁ বক্তব্য রাখেন। তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি বিজেপির পাল্টা যে জনসভা করেন, বিজেপির থেকে বেশী লোক হলেও তেমন উল্লেখযোগ্য ছিল না। কিন্তু ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি শ্রীমন্ত রায় ওই দিন তার বক্তব্যে পরিস্কার জানান দিয়েছিলেন জামালপুর বিধানসভায় বিজেপিকে এক ইঞ্চিও জায়গা ছাড়া হবে না। আজ বিকেলে চকদিঘির মাঠে ফের তৃণমূলের জনসমুদ্রে মাঠে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। জমায়েতের লড়াইয়ে সবাইকে টেক্কা দিতে পেরে মেহেমুদ খান প্রকাশ‍্য হুঁশিয়ারি দেন বিজেপিকে । এদিনের সভায় শতাধিক বিজেপি কর্মী গেরুয়া শিবির ছেড়ে মেহেমুদ খানের হাত ধরে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেন। ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের যুব সভাপতি তথা পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ ভূতনাথ মালিক বলেন,“সভায় উপস্থিতিই প্রমাণ করে দিয়েছে জামালপুরের মানুষ মেহেমুদ খানের সঙ্গে আছে।” যদিও এদিন কৃষিবিলের বিরুদ্ধে সভা বলা হলেও আসলে মেহেমুদ খানের শক্তি প্রদর্শনের সভা ছিল এবং তিনি সফল। সভায় মহিলাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত। যদিও মেহমুদ খান বলেন, “কোন পাল্টা সভা নয়, কেন্দ্রীয় কৃষি আইনের বিরুদ্ধে সভার আয়োজন করা হয়েছিল। হাজার ২৫ মানুষ সভায় যোগ দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন তাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গেই আছেন। দলের উচ্চ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলে সভার আয়োজন করা হয়েছে। এবার জামালপুর বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীই জয়ী হবে।” ২০১৬ নির্বাচনে শিক্ষা নিয়ে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দল মেহেমুদ খানের মনোনিত ব্যক্তিকে প্রার্থী না করলে ফের জামালপুর বিধানসভা আসন হাতছাড়া হবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র দেবু টুডু বলেন, “এদিন চকদিঘিতে দলের সভায় বহু মানুষের জমায়েত হয়েছে, সেটাই প্রমাণ করে বিজেপি নয় সাধারণ মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আছে।” তবে মেহমুদ খান ও উজ্জ্বল প্রামানিকের দ্বন্দ্ব নিয়ে দেবু টুডু কোন মন্তব্য করেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *