ক্রীড়া সংস্কৃতি

কলেজ স্ট্রিট পাড়ায় নেতাজি জন্মদিন উপলক্ষে সাহিত্য মজলিস

সুভাষ চন্দ্র বসুর ১২৫ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কলকাতায় সূর্যসেন স্ট্রিটের কৃষ্ণপদ ঘোষ মেমোরিয়াল হলে নেতাজির জীবন আলোকে বক্তৃতা ও রাজ্যের বিশিষ্ট কবি ও সাহিত্যিকদের কে স্মারক প্রদান করা হয় । এদিন ২২ জন কবি ছড়াকার ও সাহিত্যিককে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু নামাঙ্কিত স্মারক প্রদান করা হয়। আলোচকগণ তাদের বক্তব্যে নেতাজির চিন্তাভাবনা ও বর্তমান দেশের পরিস্থিতি বিষয়ে দীর্ঘ আলোকপাত করেন।

সুজাতা প্রকাশনী আয়োজিত উক্ত মনোজ্ঞ সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অধ্যাপক প্রণব চক্রবর্তী বলেন, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ছিলেন উদার ব্যক্তিত্ব। সম্প্রদায়ের ভেদাভেদে বিশ্বাসী ছিলেন না। তিনি নিজের বিবেককে বিক্রি করেননি। প্রকৃত অর্থে দেশ কল্যাণকামী ছিলেন। একটা সময় এদেশে এক লক্ষ টাকার নোট চালু ছিল। সেই টাকায় মহাত্মা গান্ধী নয়, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ছবি থাকতো।

দলিত সাহিত্য একাডেমীর পশ্চিমবঙ্গ শাখার সভাপতি সুশান্ত সাঁতরা বলেন, দেশে দলিতরা বঞ্চিত ও উপেক্ষিত। বাবু জগজীবন প্রতিষ্ঠা করে ন উক্ত সংগঠন।
সাহিত্যিক পরেশ সরকার বলেন, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু কেবল বাংলার নয়, সারাদেশের গর্ব। স্বাধীনতা আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা ছিল স্মরণ করার মতো। নেতাজি সহ দেশপ্রেমিকগণ ঐক্যের ও সম্প্রীতির গান গেয়ে গেছেন। বিদেশি আগ্রাসী শক্তি ইংরেজদের হটিয়ে স্বাধীনতার স্বাদ আনেন। পরিতাপের বিষয় দেশ দীর্ঘ বছর স্বাধীনতা অর্জন করলেও স্বাধীনতার স্বাদ ফিকে হয়ে যাচ্ছে। দেশে চলছে হানাহানি কাটাকাটি। এক দুর্যোগময় অবস্থা মুখোমুখি।

আরো কয়েকজন দলিত সাহিত্যিক তাদের বক্তব্যে বলেন, দেশ ফ্যাসিবাদের দিকে এগোচ্ছে। বিপর্যয়ের দিকে এগোচ্ছে। আমাদেরকে ভাবতে হবে। অন্যথা দেশের মধ্যে বিপর্যয় আসবে।

উক্ত সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাংলার রেনেসাঁ পত্রিকার সম্পাদক আজিজুল হক বলেন, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ছিলেন দেশবাসীর চোখের মনি। প্রিয় নেতা। তিনি ছিলেন উদারমনা ব্যক্তিত্ব। এর ফলে সাহচর্য পেয়েছিলেন কর্নেল নিজামুদ্দিন, আবিদ হাসান, আব্দুল হাবিব ইউসুফ মারফানির মত সহযোদ্ধাদের। কর্নেল নিজামুদ্দিন ছিলেন নেতাজির গাড়ির চালক ও দেহরক্ষী। ১৯৪৩ সালে নেতাজি যখন মায়ানমারে জান সেই সময় সন্ধিক্ষণে আক্রান্ত হন। তাঁকে প্রাণে বাঁচাতে গিয়ে পরপর তিনটি গুলিবিদ্ধ হন। তা সত্ত্বেও নেতাজিকে আঁচড় লাগতে দেননি।

তিনি আরো বলেন, নেতাজির আর এক সঙ্গি আবিদ হাসান ছিলেন অত্যন্ত কাছের। নেতাজি যখন ইউরোপ, এশিয়া, জার্মানি ও জাপানে যান তখনও সঙ্গী হিসেবে ছিলেন আবিদ হাসান। সর্বাবস্থায় নেতাজিকে পাহারা দিতেন। তিনি ছিলেন জয়হীন্দ স্লোগান এর স্রষ্টা। সেই ধ্বনি নেতাজির কণ্ঠে ধ্বনিত হত লক্ষ লক্ষ দেশবাসীর জনসমুদ্রে।

উক্ত সভায় উত্তরীয়, গোলাপ, মানপত্র ও স্মারক প্রদানের মধ্য দিয়ে উপস্থিত কবি সাহিত্যিক কে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু স্মারক সম্মাননা জানানো হয় সম্পাদক ও ছড়াকার আজিজুল হক, রাধেশ্যাম ঘোষ, পরেশ সরকার ,প্রণব কুমার চক্রবর্তী ,রুমানা চন্দ্রবতী মুখোপাধ্যায়, শ্যামল প্রামানিক ,অর্পনা বণিক, অসীম কুমার মাইতি, রমিতা মজুমদার ,শর্মিষ্ঠা বসু, অশোক কুমার আচার্য , পঙ্কজ সাধুখা, সংগীতা রায় , যুথিকা পান্ডে ,মনীষা মন্ডল ,সুশান্ত সাঁতরা ,অলক মন্ডল কাত্তিক হালদার মোট ২২ জনকে সম্মাননা জানানো হয়। সবার হাতে স্মারক তুলে দেন সুজাতা প্রকাশনীর সুজাতা দে পাল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *