হাইকোর্ট সংবাদ

ছত্রধর মামলায় এনআইএর হলফনামা দেখবে হাইকোর্ট

মোল্লা জসিমউদ্দিন টিপু,

বুধবার দুপুরে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির এজলাসে উঠবে এনআইএর দায়ের করা ছত্রধর মাহাতোর মামলা। গত সোমবার এই মামলার শুনানিতে  পিটিশনকারী কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএর কাছ থেকে হলফনামা চেয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। যা পেশ করার কথা রয়েছে। ইতিমধ্যেই এই মামলায় তদন্তে সহযোগিতার জন্য শালবনীর কোবরা ক্যাম্পে অভিযুক্ত ছত্রধর মাহাতো দুবার জিজ্ঞাসাবাদের সম্মুখীন হয়েছেন। গতবছর ফেব্রুয়ারি মাসে হাইকোর্টের রায়ে জেল থেকে ছাড়া পেয়েছিলেন ছত্রধর মাহাতো।এর মধ্যে তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক পদ পান।তারপর থেকেই দুটি পুরাতন মামলায় সক্রিয় হয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। গতবছরের ৩০ মার্চ  এই দুটি মামলায় সক্রিয় হয় তারা। সিটি সেশন কোর্টে এই মামলার শুনানি চলছে।তবে ছত্রধর মাহাতো কে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার জন্য কলকাতা হাইকোর্টের দারস্থ হয় এনআইএ। গতবছর আগস্ট মাসে তারা এই পিটিশন টি দাখিল করে হাইকোর্টে। বেশ কয়েক টি শুনানির পর গত সোমবার প্রধান বিচারপতির এজলাসে এই মামলার শুনানিতে এনআইএর হলফনামা তলব করা হয়। যা আজ অর্থাৎ বুধবার দুপুরে জমা দেওয়ার কথা। উল্লেখ্য, কলকাতার সিটি সেশন কোর্টে এনআইএর এজলাসে   ছত্রধর  মামলা চলছে । অভিযোগ, প্রায় একযুগ আগেকার দুটি ফৌজদারি মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ  পুন তদন্তের নামে অতিসক্রিয় হয়ে উঠে। ইউএপিএ ( রাস্ট্রদ্রোহিতা)  মামলায় ফের জরুরি তলব করা হয় ছত্রধর মাহাতো কে। করোনা আবহে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে  এনআইএ এর এহেন অতিসক্রিয়তা দেখা যায়। এগারো বছর আগে অর্থাৎ ২০০৯ সালে বিগত বাম জমানায় শালবনীতে জিন্দালদের কারখানার উদঘাটন পরবর্তীতে উত্তপ্ত হয় জঙ্গলমহল। ধারাবাহিক পুলিশি সন্ত্রাসে এবং তৎকালীন শাসকদলের নেতাদের অত্যাচারে গড়ে উঠে জনসাধারণের কমিটি। সিপিএমের তরফে বারবার এই কমিটি কে মাওবাদীদের প্রকাশ্য মুখ হিসাবে অভিযোগ তোলা হত। সেসময় জঙ্গলমহলে এক বাম নেতা খুনে ছত্রধর মাহাতো সহ ৩০ জনের নাম জড়ায়। এই মামলায় নিম্ন আদালতে চার্জশিট দাখিল হয়। অপরদিকে সমসাময়িক ঝাড়গ্রাম সংলগ্ন বাঁশতলা স্টেশনে দিল্লি ভুবনেশ্বর রাজধানী এক্সপ্রেস ট্রেনের চালক ও সহকারী চালক অপহরণে অভিযোগ উঠে জনসাধারণের কমিটির বিরুদ্ধে। এই ঘটনার মামলাতেও চার্জশিট দাখিল হয় নিম্ন আদালতে। এই দুটি মামলায় প্রথম দিকে জেলা পুলিশ তদন্তকারী হিসাবে থাকলেও পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ তদন্তভার নেয়। কেননা রাস্ট্রদ্রোহিতার ( ইউএপিএ)  ধারা রুজু করা হয়। যা এই বাংলায় সর্বপ্রথম কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে কার্যকর করা হয় বলে জানা যায়। যদিও ছত্রধরের আইনজীবীরা কলকাতা হাইকোর্টে বিভিন্ন শুনানিতে ইউএপিএ ধারা রুজু করার ক্ষেত্রে যেসব বিধিনিষেধ রয়েছে তা বেশিরভাগ মানা হয়নি বলে দাবি রেখেছিলেন। গতবছর কলকাতা হাইকোর্টের রায়দানে মুক্তি পান ছত্রধর মাহাতো সহ অন্যরা। জেলমুক্তির কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ছত্রধর মাহাতোর রাজনৈতিক সক্রিয়তা দেখা যায়। এই রাজ্যের শাসক দলের রাজ্য কমিটিতে তাঁকে রাখা হয়। রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে – ‘কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপি হয়তো ভেবেছিল  হয়  ছত্রধর রাজনৈতিকভাবে নিস্ক্রিয় থাকবে নতুবা বঙ্গ গেরুয়া শিবিরে নাম লেখাবে’।  কোনটিই না করে সরাসরি ছত্রধর তৃনমূলের রাজ্য কমিটিতে  আসায় ব্যাকফুটে চলে আসে জঙ্গলমহলের বিজেপি। গতবছর এপ্রিল মাসে শেষ সপ্তাহে ছত্রধর মাহাতো সহ ২২ জন কে পুন তদন্তের জন্যে দ্রুত কলকাতায় তলব করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ।এই সমন পেয়েই কলকাতা হাইকোর্টের দারস্থ হয়েছিলেন ছত্রধর মাহাতোর আইনজীবী। সেখানে মূল আবেদন এই মামলা দুটি থেকে নিস্কৃতি পাবার উল্লেখ থাকলেও কলকাতার বদলে শালবনীতে তদন্ত প্রক্রিয়া চালাবার আবেদন টি ছিল।সেসময় করোনা আবহে সমস্ত গণপরিবহন বিশেষত যাত্রীবাহী ট্রেন বন্ধ বলা যায়। সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টের ভার্চুয়াল শুনানিতে ছত্রধরের মামলায় এনআইএ   কে শালবনীতে পুনতদন্ত  করবার নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি। এরপরই এই মামলা দুটি পুনরায় চলে আসে কলকাতার সিটি সেশন কোর্টে এনআইএর এজলাসে।সিটি সেশন কোর্টে ছত্রধর মাহাতো কে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন গ্রাহ্য না হওয়ায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ কলকাতা হাইকোর্টের দারস্থ হয়। সেখানে বুধবার দুপুরে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির এজলাসে এই মামলার শুনানি রয়েছে।                                                                                                                                                                                                                                      

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *