প্রশাসন

নোবেলবিজয়ীর জমি বিতর্কে কি বললো বিশ্বভারতী?

খায়রুল আনাম (সম্পাদক সাপ্তাহিক বীরভূমের কথা )

 অমর্ত্য সেনের জমি বিতর্কে মুখ খুললো বিশ্বভারতী  কর্তৃপক্ষ
           
বিশ্বভারতীর প্রাক্তনী নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেনের শান্তিনিকেতনের পৈতৃক  বাড়ির মধ্যে বিশ্বভারতীর জায়গা রয়েছে এবং তিনি বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর সঙ্গে ফোনে  কথা বলার সময় বৈষয়িক বিষয় নিয়ে কথা বলেছিলেন বলে দাবী করা হয়েছিলো বিশ্বভারতীর পক্ষ থেকে। আর তা নিয়ে তীব্র বিতর্ক দেখা দেয়। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যাপাধ্যায় গত ২৯ ডিসেম্বর বোলপুরে একটি পদযাত্রা করে পরে একটি পথসভাও করেন। সেখানে তিনি বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ অমর্ত্য সেনের পৈতৃক ভিটের মধ্যে বিশ্বভারতীর জমি রয়েছে বলে যে দাবী করা হয়েছে, তা নিয়ে তীব্র ভাষায় বিশ্বভারতীকে আক্রমণ করে গিয়েছিলেন। তা নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয় বিভিন্ন মহলে। বিশেষজ্ঞদের অভিমত ছিলো, এ ব্যাপারে কোনও বিতর্ক তৈরী না করে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের  ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরকে দিয়ে  মাপজোক করলেই বিষয়টির সহজেই  নিষ্পত্তি  হতে পারে।        বিষয়টি নিয়ে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ এতদিন নীরব থাকার পর,  শনিবার ১৬ জানুয়ারি শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সভাকক্ষে  একটি সাংবাদিক সম্মেলন করে তাঁদের মতামত তুলে ধরেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন  বিশ্বভারতীর  জনসংযোগ আধিকারিক অনির্বাণ সরকার, বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত কর্মসচিব তথা বিশ্বভারতীর সম্পত্তি আধিকারিক  অশোক মাহাতো,  পাঠভবন অধ্যাক্ষা বোধিরূপা সিনহা প্রমুখ। এদিন বিশ্বভারতীর পক্ষ থেকে বলা হয় যে, ২০১৯ সালের  জুন- জুলাই  মাসে বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী  দিল্লি থেকে  এয়ার ইণ্ডিয়ার  এআই ০০২০ ফ্লাইটে  কলকাতায় ফেরার পর এয়ারপোর্ট থেকে গাড়িতে আসার সময়  অমর্ত্য সেন  তাঁর পরিচিত অরবিন্দ নামে একজনের  ৯৪৩৪৩৪৮৪৩৫ নম্বর ফোন থেকে  তাঁকে ফোন করে তাঁর সাথে কথা বলেন। সেই সময়ই তিনি  তাঁর শান্তিনিকেতনের পৈতৃক ‘প্রতীচী’ বাড়ির  দু’ধারে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা  অবৈধ দোকানগুলি ভেঙে দেওয়ার জন্য  সমালোচনা করেন এবং  এজন্য নানা  রকম প্রশ্ন তুলতে থাকেন।  তাঁর যুক্তির সপক্ষে তিনি বলতে থাকেন, এই দোকানগুলি রবীন্দ্রনাথের সময় থেকে সেখানে আছে এবং তারাও বিশ্বভারতীর অংশবিশেষ। দোকানগুলি তুলে দেওয়া হলে  সম্ভাব্য  কী কী সমস্যা হতে পারে তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে  তিনি বলেন,  সহজে সব্জি বা আনাজপাতি  কেনা বা  ধরা যাক  তাঁর মেয়ের টায়ার  পাংচার  হয়ে গেলে  তা সহজে  সারিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে  তাঁর সমস্যা হবে। সেইসাথে এদিন আরও বলা হয় যে,  বিশ্বভারতী তার ন্যায্য জমি পুনরুদ্ধার  করেছে।  বিশ্বভারতীর  ১১৩০ একর জমির মধ্যে  প্রায় ৭৭ একর জমি ইতিমধ্যেই বেআইনিভাবে দখল হয়ে গিয়েছে। বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ তাঁদের বেদখল হওয়া সেইসব জমিই পুনরুদ্ধার করতে চাইছে। এক্ষেত্রে কোনও ব্যক্তি বিশেষের প্রশ্ন নয়, বেদখল হওয়া জমি আইনিভাবেই বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ নিজেদের দখলে আনতে চাইছে। এখানে বহু বিশিষ্টজনেরই জমি রয়েছে। সবার ক্ষেত্রেই একই নিয়ম প্রযোজ্য হওয়াটাই স্বাভাবিক। আর অমর্ত্য সেনের যে ফোন কল নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে, তা এই যন্ত্রপ্রযুক্তির যুগে  কে কাকে ফোন করেছিলেন তা সহজেই জানা যায় এবং  সেভাবেই  এই তর্কের  চূড়ান্ত মিমাংসাও হতে পারে  এবং  তাঁর বিরুদ্ধে জমি দখলের  যে অভিযোগ  বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়  করেছে  তারও সহজ নিষ্পত্তি হতে পারে যদি  পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতর  থেকে  সার্ভেয়ার এসে  ওই জমির মাপ  নেওয়া হয়। এই বিতণ্ডার স্থায়ী  মীমাংসার জন্য যত দ্রুত সম্ভব  তা করার জন্য এদিন বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আবেদনও জানানো হয় ।। 
 ছবি: সাংবাদিক সম্মেলন।                                         

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *