প্রশাসন

বার্ড ফ্লু আতঙ্কে পরিযায়ী পাখি ও পোলট্রি ফার্মে নজরদারি

খায়রুল আনাম (বিপাশা আর্ট প্রেস )

 বার্ড ফ্লু আতঙ্কে পরিযায়ী পাখি ও পোলট্রি ফার্মে নজরদারি
       
 বিশ্বজোড়া আতঙ্কের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি দিতে করোনা ভ্যাকসিন কোভিশিল্ড যখন হাতের নাগালে আসছে তখন,  তার সাথে নতুন করে আতঙ্ক নিয়ে আসছে  অ্যাভিয়েঞ্জা ইনফ্লুয়েঞ্জা  বা  বার্ড ফ্লু। আর এ ক্ষেত্রে বীরভূম জেলা প্রশাসনকে সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হচ্ছে।  কেননা,  কয়েক বছর আগে বার্ড ফ্লুর যে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল, তাতে সবার আগে উঠে এসেছিল বীরভূমের মাড়গ্রামের নাম।  দেশের মধ্যে সর্ব বৃহৎ গ্রাম হিসেবে পরিচিত এই মাড়গ্রাম। সেই সময় এই মাড়গ্রামই বার্ড ফ্লুর ‘গ্রাউণ্ড জিরো’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল। তারপর বার্ড ফ্লু ছড়িয়ে পড়েছিল গোটা রাজ্যে। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত  থেকেই বার্ড ফ্লুর  খবর আসতে শুরু করেছে।  তবে, এ রাজ্যে এখনও পর্যন্ত বার্ড ফ্লুর কোনও খবর পাওয়া না গেলেও, এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে তৎপরতা শুরু করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন।  প্রাণীসম্পদ বিকাশ দফতরও স্বীকার করছে যে, এ রাজ্যে এখনও পর্যন্ত বার্ড ফ্লুর কোনও নমুনা দেখা না গেলেও সব জেলাকেই সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। প্রতি নিয়ত পোল্ট্রি ফার্মগুলিতে মুরগির রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষা করার কাজও শুরু করে দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে জৈব সুরক্ষা বলয় মেনে চলারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   কেন্দ্রীয় সরকারও এ ব্যাপারে রাজ্যে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে।      জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যাচ্ছে, জেলার শান্তিনিকেতনের বল্লভপুর অভয়ারণ্যের ঝিল, তিলপাড়া ব্যারেজ জলাধার, বক্রেশ্বর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের নীল নির্জন জলাধার, খয়রাশোলের হিংলো জলাধারে শীতের মরশুমে প্রতি বছরের মতো এবারও বহু প্রজাতির  শীতকালীন পরিযায়ী   পাখিরা এসে ভীড় করেছে।  জেলার আরও বেশ কয়েকটি জলা এলাকাতেও অল্পবিস্তর পরিযায়ী পাখি এই সময় আসে। তারাও এসেছে।  শীতের এই সময়টায়  ইউরোপ, রাশিয়া, মানস সরোবর, আমেরিকা, তিব্বত, মঙ্গোলিয়া  বিভিন্ন জায়গা থেকে এইসব পরিযায়ী পাখিরা ঝাঁকেঝাঁকে এসে ভীড় জমায়। এইসব পরিযায়ী পাখিদের কলতানে এইসব জলাশয়গুলি মুখরিত হয়ে উঠেছে। বহু মানুষ তা দেখতে ভীড়ও করছেন ওইসব জায়গায়।  এই মরশুমে এরা এখানে প্রজনন ঘটিয়ে তারপর সেই বাচ্চাদের নিয়ে শীত শেষে আবার উড়ে যায় ভিন্ন ঠিকানায়-আগামী শীতের মরশুমে আগমন আকাঙ্খা জাগিয়ে।   বার্ড ফ্লুর আতঙ্কে এইসব পরিযায়ী  পাখিরা বার্ড ফ্লুর জীবাণু বাহকের কারণ হয়ে উঠছে কী না, তা খতিয়ে দেখতে বন দফতরের পক্ষ থেকে জলাশয়গুলিতে আগত পরিযায়ী পাখিদের  উপরে বিশেষভাবে নজর রাখাও শুরু হয়েছে।  পরিযায়ী পাখিরা যাতে সুরক্ষিতভাবে  বিচরণ করে, আগামীতে আবার উড়ে আসার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রেখে নিরাপদে পাখা মেলে উড়ে  ফিরতে পারে, সেই প্রচেষ্টাই এখন চালাচ্ছে বন দফতর ।।  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *