পুলিশ

শিশু মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ভাতারে

আমিরুল ইসলাম,

চিকিৎসার গাফেলতিতে শিশু মৃত্যুর অভিযোগ উঠল ভাতার স্টেট জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে । ব্যাপক উত্তেজনা।

পূর্ব বর্ধমান জেলার ভাতার স্টেট জেনারেল হসপিটালে আজ একটি শিশুটির মৃত্যুর পর ব্যাপক উত্তেজনা শুরু হয়। খবর পেয়ে তড়িঘড়ি ভাতাড় থানার পুলিশবাহিনী চলে আসে । ফলে কোনও প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি । তবে মৃত শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে এনিয়ে ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে । বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন ভাতার ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক সংঘমিত্রা ভৌমিক।
জানা গেছে,গত সোমবার সকাল ৭ টা নাগাদ প্রসব বেদনা নিয়ে ভাতাড় স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন ভাতাড় থানার আড়া গ্রামের গৃহবধূ পূর্ণিমা দাস । ওদিনই সকাল ৯ টা নাগাদ তিনি একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন । এটিই ছিল তাঁর প্রথম সন্তান । আড়াই কেজি ওজনের ওই শিশুটির জন্মানোর পর কোনও শারিরীক সমস্যা ছিল না বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে ।
পূর্ণিমাদেবীর স্বামী সুশান্ত দাস বলেন, ‘গতকাল রাতে আমি বাড়ি চলে যাই । রাতে হাসপাতালে স্ত্রীর কাছে আমার পিসি ছিলেন । আজ আমার স্ত্রীকে ছেড়ে দেওয়ার কথা ছিল । তাই এদিন খুব সকালে আমি হাসপাতালে চলে আসি । কিন্তু এসে দেখি আমার ছেলের শ্বাসকষ্ট হচ্ছে, চোখে পিচুটি কাটছে । তখন নার্সদের কাছে বলি । কিন্তু নার্সরা জানান সাড়ে আটটা, নটা নাগাদ ডাক্তারবাবু এসে দেখবেন । এদিকে আমার ছেলের শ্বাসকষ্ট বাড়ছে দেখে নার্সদের বারবার অনুরোধ করি যাতে তাঁরা এসে আমার ছেলের চিকিৎসা করেন । তারই মধ্যে নার্সরা বলেন গরম জল এনে বাচ্ছার চোখ দুটো পরিস্কার করে দিতে । নার্সদের কথামত আমি তাই করি । তারপর ৭ টা নাগাদ ছেলের তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হয় । এই দেখে ছেলেকে কোলে নিয়ে আমি নার্সদের কাছে যাই । তখন নার্সরা জানায় আমার ছেলে মারা গেছে ।”
মৃত্যুর খবর ছড়াতেই ব্যাপক উত্তেজনা শুরু হয় হসপিটাল চত্বরে।
এই বিষয়ে ভাতার ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক সংঘমিত্রা ভৌমিক বলেন, ” অভিযোগ পেয়েছি । বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে । এনিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছেও জানিয়েছি ।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *