প্রশাসন

বাঘের গতিবিধি হানতে তৎপর সুন্দরবন বন বিভাগ

উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়

, কুলতলি : ম্যানগ্রোভের পাশাপাশি এবার নজরদারি চলছে সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগারের গতিবিধির উপরেও।একশো দিনের কাজের কর্মসূচির উপর ভর করেই বাজিমাত করতে চাইছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা বন বিভাগ। আমপান-পরবর্তী সময়ে সুন্দরবনে বাদাবন সৃজন কর্মসূচিতে যুক্ত ‘মনরেগা’ শ্রমিকদের ম্যানগ্রোভের চারার উপর নজরদারির পাশাপাশি বাঘের গতিবিধি দেখার দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।আমপান পরবর্তী সময় থেকে সুন্দরবনের কুলতলি এলাকার নদী তীরবর্তী গ্রামেতে বাঘের আনাগোনা বেড়ে গিয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভাগীয় বনাধি কারিক (ডিএফও)মিলন মণ্ডল বলেন, আমপানের পরে রাজ্য সরকারের বনসৃজন প্রকল্পে লাগানো ম্যানগ্রোভের চারার রক্ষণা বেক্ষণ এবং নজরদারির কাজে যুক্ত করা হয়েছে জঙ্গলের উপর নিভর্রশীল এবং বাদাবন সম্পর্কে অভিজ্ঞ গ্রামবাসীদের। তিনটি দলে ভাগ হয়ে নৌকায় চড়ে বাদাবনের দেখভালের পাশা পাশি তাঁরা গ্রামের আশপাশের নদী-খাঁড়িতে বাঘের উপস্থিতির উপর নজর রাখছেন দিন রাত। কুলতুলির ভুবনেশ্বরী, দেবীপুর এবং দেউলবাড়ি এলাকার মনরেগা প্রকল্পের কর্মী দের নিয়ে তিনটি দল গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি দলে একটি করে নৌকা রয়েছে।রায়দিঘি রেঞ্জের অন্তর্গত কুলতলি এলাকার একাধিক গ্রামের ৫০ মিটারের মধ্যেই রয়েছে বাদাবন। মাঝ খানে ব্যবধান সরু নদীর। ক’বছর আগেও সেখানে বাঘ ঢুকে পড়ার ঘটনা ঘটত অহরহ। সমস্যা মেটাতে গ্রামগুলির উল্টোপাড়ের জঙ্গল বরাবর বন দফতরের উদ্যোগে নাইলনের জাল বসানো হয়েছিল। কিন্তু আমপানের জেরে সেই জালের বেড়া ভেঙে পড়তেই ঘটে বিপত্তি। ডিএফও এও বলেন, ‘আমাদের বিভাগে বসতি লাগোয়া জঙ্গল জুড়ে ৪১ কিলোমিটারের ও বেশি এলাকায় জাল বসানো হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আমপানে ৬০ শতাংশই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।এ ছাড়া গ্রামে বাঘ ঢুকে পড়লে বনকর্মীরা পৌঁছনোর আগে পর্যন্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে গড়া হয়েছে ৭টি ‘কুইক রেসপন্স টিম’।কুলতলি ব্লকের কিশোরী মোহন পুর, বিনোদপুর,মৈপীঠ নগেনাবাদ, ভুবনেশ্বরী, দেবীপুর, দেউলবাড়ি ও অম্বিকানগরের স্বেচ্ছাসেবী কিছু যুবকদের নিয়ে গড়া হয়েছে এই টিমগুলি। তাদের বাঁশের খুঁটি, জাল ও দেওয়া হয়েছে বনবিভাগের তরফে।এই
জেলার এডিএফও অনুরাগ চৌধুরী বলেন, জোয়ার-ভাটার মধ্যবর্তী সময়ে নদীতে স্রোত কম থাকে, সাধারণত সেই সময়ই বাঘ নদী পেরিয়ে গ্রামে ঢুকে পড়ে। ২০১৭-’১৯ কুলতলির গ্রামে বাঘ ঢোকার কোনো ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু আমপান পরবর্তী পর্যায়ে চার বার এমন ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে বিনোদপুরে খাঁচা পেতে একটি বাঘকে ধরে জঙ্গলে ছেড়ে আসা হয়েছে।তবে এই ভাবে নজর দারি চললে ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল বাঁচানো ও বাঘের গতিবিধির উপর সমান ভাবে নজর রাখা যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *