হাইকোর্ট সংবাদ

আমফান দুর্নীতি নিয়ে ক্যাগ তদন্তের নির্দেশ কে চ্যালেঞ্জ জানালো রাজ্য

মোল্লা জসিমউদ্দিন টিপু,


বুধবার দুপুরে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টি বি রাধাকৃষ্ণনের ডিভিশন বেঞ্চে আমফানে ক্যাগের নির্দেশটির পুনবিবেচনার আর্জি জানালেন রাজ্যের এডভোকেট জেনারেল। এই লিখিত আর্জি গ্রহণ করেছে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। চলতি সপ্তাহে এই মামলার শুনানি হতে পারে বলে জানা গেছে। গতবছর ১ ডিসেম্বর কলকাতা হাইকোর্টের এই ডিভিশন বেঞ্চ আমফানে ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ বিলিতে হাজার কোটি টাকার কেন্দ্রীয় অনুদানের অনিয়মের অভিযোগ পেয়ে ক্যাগ কে তদন্তভার দিয়েছিল।ওই বছর ৪ ডিসেম্বর রাজ্য সরকারের পক্ষে এডভোকেট জেনারেল মৌখিকভাবে এই নির্দেশ টির পুনবিবেচনার আর্জি জানালে তা সাথেসাথেই খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট। পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের তরফে। এই নির্দেশ জারির তিনমাসের মধ্যেই লিখিতভাবে রায়ের পুনবিবেচনার আর্জি জানালো রাজ্য।ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে আমফান দুর্নীতিতে রাজ্যের শাসক দল যাতে কেন্দ্রীয় সংস্থা ক্যাগের রিপোর্টে না ফাঁসে সেজন্যই এই আপিল ( পুনবিবেচনার আর্জি)  টি রাখলো।তিনটি ক্ষতিগ্রস্ত জেলায় ( উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা এবং পূর্ব মেদিনীপুর)  ৬০ টির বেশি বিধানসভা আসন রয়েছে। তাই বিরোধীদের অভিযোগ আদালতে একপ্রকার মান্যতা পাওয়ায় বিপাকে শাসক দল তৃণমূল। গতবছরের ১ ডিসেম্বর কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে ঘটে যাওয়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমফানের ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত মামলাটি উঠেছিল। সেখানে ক্ষতিপূরণে অনিয়মের তদন্তে ক্যাগ কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তিন মাসের মধ্যেই রিপোর্ট তলব করেছিল কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। কন্ট্রোলার  এন্ড অডিটর জেনারেল ( ক্যাগ)  কে তদন্তের অভিমুখ ঠিক করে দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। ‘আমফানে ক্ষতিগ্রস্তরা ত্রাণ পেয়েছে কিনা? না পেলে কেন পাইনি? কাদের মাধ্যমে ত্রাণ বিলি করা হয়েছে? প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা ত্রাণ না পেলে তার দায় কার? ‘ এই বিধ বিষয়গুলি কে গুরত্ব দিয়ে ক্যাগ কে তদন্তভার তুলে দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। তবে হাইকোর্ট এও জানিয়েছিল যে, ক্যাগের তদন্ত চলাকালীন ত্রাণ বিলি পর্ব চলবে। ইতিমধ্যেই এই মামলায় রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের প্রধান সচিবের রিপোর্ট চেয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। আমফান দুর্নীতি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে পাঁচটি মত মামলা চলছে। সেখানে রাজ্যের আইনজীবীরা অধিকাংশ শুনানিতে গড়হাজির যেমন হয়েছিলেন। ঠিক তেমনি রাজ্যের কাছে তলব করা রিপোর্ট কিংবা হলফনামা দাখিলে গড়িমসি দেখা গেছে বলে মামলাকারী আইনজীবীদের দাবি। দীর্ঘসূত্রতায় এই মামলার ক্যাগের কাছে রিপোর্ট তলব নির্দেশিকায় তদন্তে অনেকটাই গতি পেয়েছিল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। মাস খানেক আগে,   কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টি.বি. রাধাকৃষ্ণনের ডিভিশন বেঞ্চে আমফান সম্পর্কিত এক জনস্বার্থ মামলার শুনানি ঘটেছিল। সেখানে আমফানে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা পাবলিক ডোমেইনে প্রকাশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি বিস্তারিত তথ্য সহ রিপোর্ট আকারে হলফনামা পেশে ৭ দিনের সময়সীমা দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট।পরে এই সময়সীমা কিছুটা বাড়িয়ে নেয় রাজ্য। উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাপী মারণ ভাইরাস করোনা সংক্রমণের মধ্যেই পশ্চিমবাংলায় আমফান নামক প্রাকৃতিক দুর্যোগ নেমে এসেছিল।মূলত পূর্ব মেদিনীপুর,  উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলাজুড়ে আমফানের ভয়াবহতা ছিল বেশি। বসতবাড়ি থেকে চাষের জমি। রাস্তাঘাট – বিদ্যুৎ পরিষেবা সম্পূর্ণ বিপর্যয় হয়। কলকাতার মত মহানগর আমফান পরবর্তী দু সপ্তাহ জনজীবন ব্যাহত ছিল। জল থেকে বিদ্যুৎ পরিষেবা সম্পূর্ণ রুপে বন্ধ ছিল। যা কলকাতায় কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঘটেনি। এহেন প্রাকৃতিক দুর্যোগে কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্য সরকারের পাশে হাজার কোটি আর্থিক অনুদান মঞ্জুর করে। ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য বিডিও থেকে এসডিও অফিসে হাজার হাজার ক্ষতিগ্রস্ত আবেদন জমা দিয়েছিল। বাস্তবিক ক্ষেত্রে দেখা যায়, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের একাংশ সরকারি ক্ষতিপূরণ পায়। সিংহভাগ ক্ষতিগ্রস্তদের বদলে ভুয়ো আবেদনকারীদের আমফানের ক্ষতিপূরণ পায় বলে অভিযোগ উঠে। পাকা বাড়িওয়ালা ব্যক্তিরা শাসক দলের স্থানীয় নেতাদের মদতে এইবিধ দুর্নীতি ঘটায় বলে দাবি। যার পরিপেক্ষিতে পূর্ব মেদনীপুরে তৃনমূলের দশক শতক নেতা দলীয়ভাবে শোকজ পেয়ে বহিস্কৃত হয়। ঠিক এইরকম পরিস্থিতিতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং ব্লকে আমফানে ক্ষতিগ্রস্ত খায়রুল আলম সেখ নামে এক চাষি কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে জনস্বার্থ মামলাটি দাখিল করেছিলেন। মামলাকারীর পক্ষে আইনজীবী নুর ইসলাম সেখ – শমীক বাগচি সম্প্রতি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টি বি রাধাকৃষ্ণনের ডিভিশন বেঞ্চে রাজ্য সরকারের আমফানে দুর্নীতি নিয়ে নানান তথ্য তুলে ধরেছিলেন। ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্যের পক্ষে এডভোকেট জেনারেলের কাছে আমফান নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছিল। আমফানে রাজ্য সরকার কি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ক্ষতিগ্রস্তরা কতজন ত্রাণ পেয়েছেন?  সর্বমোট আবেদনকারী ক্ষতিগ্রস্ত কতজন?  এইবিধ তথ্য রিপোর্ট আকারে ৭ দিনের মধ্যেই হলফনামা দাখিলের নির্দেশ জারি করেছিল কলকাতা হাইকোর্ট। পরে রাজ্য কিছুটা সময়সীমা বাড়িয়ে নেয়। পাশাপাশি আমফানে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা পাবলিক ডোমেইনে প্রকাশ করার আদেশনামা ছিল । কলকাতা হাইকোর্টের এহেন আমফান নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করার পরেই রাজ্য প্রশাসনে এসেছিল সক্রিয়তা। সম্প্রতি রাজ্যপাল আমফান সহ নানান দুর্যোগে কেন্দ্রীয় আর্থিক অনুদান নিয়ে রিপোর্ট তলব করেছিলেন রাজ্য প্রশাসনের কাছে। যা নিয়ে রাজ্য বনাম রাজভবনের ঠান্ডা লড়াইও দেখা যায়। ঠিক এইরকম পরিস্থিতিতে আমফান নিয়ে রাজ্যের বিস্তারিত রিপোর্ট কলকাতা হাইকোর্টে জমা না পড়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছিল ডিভিশন বেঞ্চ ।কলকাতা হাইকোর্টের তরফে রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের প্রধান সচিবের সশরীরে হাজিরা তলব করা হয়েছিল রিপোর্ট পেশে গাফিলতির কারন জানতে।এই পরিস্থিতিতে গতবছরের ১ ডিসেম্বর হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে আমফানে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ বিলির অনিয়মের তদন্তে ক্যাগ কে তিন মাসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। আমফানে ক্ষতিগ্রস্তরা ত্রাণ পেয়েছে কিনা? না পেলে কেন পাইনি? কাদের মাধ্যমে ত্রাণ বিলি পর্ব চলেছে? প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা ক্ষতিপূরন না প্বলে তার দায় কার? এইবিধ নানান তথ্যসমৃদ্ধ রিপোর্ট তলবে তদন্তভার ক্যাগ কে দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। অভিযোগ, কেন্দ্রীয় অনুদানের প্রায় হাজার কোটি টাকার অনিয়ম ঘটেছে আমফান পরবর্তী ক্ষতিগ্রস্থদের ক্ষতিপূরণ বন্টনে।  চলতি সপ্তাহে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টি বি রাধাকৃষ্ণনের ডিভিশন বেঞ্চে রাজ্যের দাখিল করা ক্যাগ নিয়ে পুনবিবেচনার আর্জি নিয়ে শুনানি হতে পারে বলে জানা গেছে।                                                                                                                                                                                                                                                                                             

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *