বর্ধমান জেলা

জঞ্জাল মুক্ত শহর হতে চায় গুসকারা

জ্যোতিপ্রকাশ মুখার্জি,
রাজ্য সরকারের নয়া উদ্যোগ ‘জঞ্জাল মুক্ত’ শহর গড়ে তোলা। শহরের যত্রতত্র গৃহস্থালির পচনশীল ও অপচনশীল আবর্জনা ফেলে দেওয়ার জন্য পরিবেশ দূষণ ঘটে। তার হাত থেকে শহরের পরিবেশকে রক্ষা করার জন্য সম্প্রতি রাজ্য সরকার বাড়ি বাড়ি নীল ও সবুজ রঙের দু’ধরনের বালতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগে সাড়া দিয়ে পূর্ব বর্ধমানের গুসকরা পৌরসভা গত ৭ ই জানুয়ারি বারোয়ারি তলায় এক আলোচনা সভার আয়োজন করে। বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে মহিলারা সহ শহরের বহু গণ্যমান্য বিশিষ্ট ব্যক্তি সভায় উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন পুর প্রশাসক মণ্ডলীর চেয়ারপার্সন গীতারাণী ঘোষ ও অন্যতম সদস্য তথা শহর তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি কুশল মুখার্জ্জী, জেলা যুব তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক দেবব্রত শ্যাম সহ পুরসভার কর্মীরা।
পুরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর দেবাশীষ গোস্বামী কিভাবে বালতি ব্যবহার করতে হবে তা উপস্থিত নাগরিকদের সামনে ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন – নীল বালতিতে পচনশীল অর্থাৎ শাক-সবজির খোসা ইত্যাদি ও সবুজ বালতিতে অপচনশীল দ্রব্য অর্থাৎ প্লাসটিক ইত্যাদি ফেলতে হবে। আপাতত একদিন অন্তর পুরসভার গাড়ি এসে সেই দ্রব্য সংগ্রহ করবে।
জানা যাচ্ছে প্রত্যেক বাড়িতে ‘হোল্ডিং’ পিছু দুটি করে বালতি দেওয়া হবে। পরে একই হোল্ডিং -এ একাধিক বাড়ি থাকলে তাদেরও দুটি করে বালতি দেওয়া হবে। এরজন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রায় দশ হাজার হোল্ডিং এর জন্য একুশ হাজার বালতি দেওয়া হয়েছে। জানা যাচ্ছে অতিরিক্ত বালতি পুরসভা নিজের তহবিল থেকে কিনবে। কবে কোন ওয়ার্ডে বালতি বিতরণ করা হবে সেই তালিকা দেবব্রত বাবু ঘোষণা করেন। জঞ্জাল সংগ্রহ করার জন্য প্রায় পনেরোটি গাড়ি আনা হয়েছে।
কুশল বাবু বললেন – আমাদের লক্ষ্য জঞ্জাল মুক্ত শহর গড়ে তোলা। এরজন্য তিনি শহরবাসীদের সঙ্গে সঙ্গে শহরে নিত্য আগত মানুষদের সহযোগিতা প্রার্থনা করেন। তিনি আরও বলেন – আপাতত এই জঞ্জাল রটন্তী তলা সংলগ্ন কুনুর নদীর তীরে জমা করা হবে। ভবিষ্যতে এগুলি ‘রিসাইক্লিং’ এর মাধ্যমে জৈব সার তৈরির পরিকল্পনা চলছে।
পুরসভার এই উদ্যোগকে সাধারণ মানুষ দু’হাত তুলে স্বাগত জানালেও আগামী দিনে শহর থেকে ভ্যাট তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তে অনেকেই অখুশি। তাদের মতে এক্ষেত্রে বাজার বা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যত্রতত্র জঞ্জাল পড়ে থাকতে পারে। এরফলে পুরসভার উদ্দেশ্য বিঘ্নিত হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *