ক্রীড়া সংস্কৃতি

বাঁকুড়ার জয়পুরে অনুস্কা চিত্রশিল্পী হতে চায়

জ্যোতিপ্রকাশ মুখার্জি,


বয়স খুব বেশি হলে তিন। বাবা-মার একমাত্র আদরের সন্তান বার্বি তখন চক-পেনসিল নিয়ে বাবার সঙ্গে ছবি আঁকার প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠে। বাবাতো, তাই মেয়ের কাছে হারার মধ্যেই খুঁজে নিতেন জেতার আনন্দ। কিন্তু কচি হাতের ব্যাগ, চেয়ার, ঘর, দুল ইত্যাদি আঁকা দেখে চমকে ওঠে বাবা। তিন বছর বয়সেই অঙ্কন শিল্পী লক্ষীকান্ত কুণ্ডুকে মেয়ের অঙ্কন শিল্পী হিসাবে নিয়োগ করা হয়। সেই শুরু।
বাঁকুড়ার জয়পুর ব্লকের গালিয়া অঞ্চলের ছাত্রমোড় গ্রামের অনুপম মণ্ডল ও সুপর্ণা মণ্ডলের একমাত্র মেয়ে অনুষ্কা (বার্বি)। বছর বারোর অনুষ্কা একটি ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়ের ছাত্রী। মেধাবী ছাত্রী হিসাবে যেমন এলাকায় সুনাম আছে তেমনি এই অল্প বয়সেই অঙ্কন শিল্পী হিসাবেও এলাকার বিভিন্ন প্রান্তে সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যেই জেলা এবং জেলার বাইরে কুড়িটির বেশি প্রতিযোগিতায় সে অংশগ্রহণ করেছে এবং অধিকাংশ স্হানেই প্রথম স্হান অধিকার করে শিল্প রসিক মানুষদের প্রশংসা কুড়িয়ে নিয়েছে। তার আঁকা মেসি, জগদ্ধাত্রী ঠাকুর বা বাঘের চিত্র দেখে অনেকেই বিষ্ময়ে হতবাক হয়েছে। অনুষ্কার বর্তমান অঙ্কন শিক্ষক গণপতি পালও ছাত্রীর জন্য গর্ববোধ করেন।
পোট্রেট আঁকতে ভালবাসলেও গ্রাম্য প্রকৃতির নানা রঙ ধরা পড়ে তার তুলিতে। আঁকার সঙ্গে সঙ্গে অনুষ্কা ব্যাডমিণ্টন ও দাবা খেলতে ভালবাসে। এখানেও তার খেলার সঙ্গী বাবা।
অনুপম বাবুর আছে একটা গিফটের দোকান এবং সুপর্ণা দেবীর বিউটি পার্লার। সীমিত আয়ের মধ্যেই একমাত্র মেয়ের প্রথাগত শিক্ষার পাশাপাশি অঙ্কন শিক্ষার দিকেও যথাসাধ্য লক্ষ্য রাখেন। তাদের দু’জনেরই ইচ্ছে ভবিষ্যতে মেয়ে যেন বড় শিল্পীর সঙ্গে সঙ্গে সত্যিকারের মানুষ হয়।
‘বড় হয়ে কি হতে চাও’- প্রশ্ন করতেই লাজুক অনুষ্কা লজ্জায় মুখ লুকালো বাবার বুকে। অবশেষে উত্তর – শিল্পী হতে চাই।
সুপর্ণা দেবী বললেন – তিন বছরের ঐটুকু মেয়ে যখন বাবার সঙ্গে ঘর, দুল বা চেয়ারের ছবি আঁকত তখন সেটা বাপ-মেয়ের স্বাভাবিক পাগলামি ভাবতাম। কিন্তু বুঝতে পারিনি পরবর্তী কালে এই মেয়েই আমার এত সুন্দর সুন্দর ছবি আঁকবে, বিশিষ্টদের কাছে প্রশংসিত হবে। এরজন্য সম্পূর্ণ কৃতিত্ব আমার স্বামীর। কথা বলতে বলতে চোখের কোণ ভিজে ওঠে সুপর্ণা দেবীর।
অনুষ্কার পরিচয় গোপন রেখে তার আঁকা ছবি দেখিয়ে কিছু জানতে চাওয়া হয় বিশিষ্ট শিল্পী তথা অঙ্কন শিক্ষক রামদাস মণ্ডলের কাছে। গভীর ভাবে পর্যবেক্ষণ করে তিনি বললেন – এই শিল্পীর ভবিষ্যত উজ্জ্বল। একই সুর শোনা গেল আর এক শিল্পী সোমনাথ চ্যাটার্জ্জীর কণ্ঠে। একাধিক বার রাজ্যস্তরে পুরষ্কৃত সোমনাথ বাবু বললেন – খুব সুন্দর এঁকেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *