ক্রীড়া সংস্কৃতি

বর্ধমান শহরে প্রীতিভোজে রক্তদান শিবির

সুরজ প্রসাদ ,

প্রীতিভোজে রক্তদানের আয়োজন। শুনতে খানিকটা খটকা লাগলেও।ঘটনা একেবারে সত্যি। করোনা ভাইরাস ও টানা লকডাউনের কারণে রক্ত সংকট প্রকট হয়েছে। কোভিড আবহে সেই ভাবে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা সম্ভবও হয় নি। বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কেও রক্তের অপ্রতুল।
হাতেগোনা কয়েকটি শিবির হয়।যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম।
তাই সেখ সহিদুল রহমান ও রকিয়া সুলতানা সাতপাঁচ না ভেবে একেবারে বিয়ে বাড়িতেই আয়োজন করে বসেন রক্তদান শিবিরের।

দমকল বিভাগের কর্মী সেখ সহিদুল রহমানের বাড়ি বর্ধমানের মিরছোবায়।পাত্রী রকিয়া সুলতানার বাড়ি শহরের নবাবহাট এলাকায়।
এদিন ছিল সহিদুল ও রকিয়ার রিশেপশন।
সহিদুল রহমান বলেন তিনি বহুদিন ধরে রেয়ার ব্লাড গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত আছেন। এক বোতল রক্তের জন্য মানুষ পাগলের মত ছোটাছুটি করে।অনেক সময়ে রক্ত না মেলায় মৃত্যু পর্যন্ত হয়।তাই তিনি প্রীতিভোজের দিন বাড়িতেই রক্তদানের শিবির করেন।যাতে মানুষ রক্ত দিতে এগিয়ে আসেন।মানুষের মধ্যে এখনো রক্তদান নিয়ে নানান বিভ্রান্তি আছে। আছে ভয়ভীতি।সূচ ফোটানো নিয়ে কত আতঙ্ক। তাই আমন্ত্রিতদের কাছে সেই বার্তা পোঁছে দিতেই এই আয়োজন।

রিশেপশনের দিন প্যাণ্ডেলের পাশে রক্তদানের আয়োজনে খুশী নববধূ রকিয়া সুলতানাও।তিনি বলেন স্বামীর প্রস্তাবে না করি নি।বরং তাঁর এই অভিনব উদ্যোগে আমি নিজেও সামিল হয়েছি।
সহিদুল রকিয়া নবদম্পতির এই আয়োজনে বা উদ্যোগে খুশী তাঁদের বন্ধুবান্ধব থেকে আত্মীয় পরিজন সকলেই। তারিফ করছেন এলাকার বাসিন্দারাও।রেয়ার ব্লাড গ্রুপের সদস্য মানস ব্যানার্জী বলেন এধরণের আয়োজন একেবারে নতুন।তিনিও খুব খুশি। কারণ রক্তদানের বার্তা পোঁছে দিতে পেরেছেন।এদিন পঞ্চাশ জন রক্তদাতা রক্তদান করেন শিবিরে থুড়ি বিয়ে বাড়িতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *