প্রশাসন

পাথর কয়লার টাকা কোথায় যায় তা বের হবে,আশাবাদী রাজ্যপাল

সুরজ প্রসাদ,

বর্ধমানে সফর সেরে গেলেন রাজ্যপাল জগদীশ ধনখড়।সোমবার তিনি পূর্ব বর্ধমান জেলার দুটি ঐতিহ্যশালী মন্দিরে পুজো দেন।তিনি ১০৮ মন্দিরে পুজো দেন।সস্ত্রীক পুজো দেন সর্বমঙ্গলা মন্দিরেও।তিনি বলেনঃ”আজকে ১০৮ মন্দিরে পুজো দিলাম।আজকের দিনটা আমার ও আমার স্ত্রীর কাছে বিশেষদিন।আমি খুব উৎসাহ পাচ্ছি। পশ্চিমবঙ্গের একটা সুনাম আছে।২১ সাল সবার কাছে ভালো হোক।বিধানসভা নির্বাচনে যেন হিংসা না হয় এই আশা করি।’ এরপর বর্ধমান সার্কিট হাউসে তিনি দীর্ঘক্ষণ সাংবাদিক বৈঠক করেন। তিনি তার বক্তব্যে রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন,খুব খুশি হয়েছি আজ ।প্রথম যেবার এসেছিলাম এখানে তৎকালীন জেলাশাসক বিজয় ভারতী এসেছিলেন।দুটো মিষ্টি খেয়েছিলাম।জগদীপ ধনকার ব্যক্তি নন।তাকে অসম্মান মানে সিস্টেমের অপমান।ডায়মন্ডহারবারে রাজ্যপালকে গার্ড অফ অনার দেওয়া হয়নি।স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে উত্তর চেয়েছি।সংবিধান রক্ষার শপথ ও জনতার সেবা করার শপথ নিয়েছি।।সবচেয়ে বেশি আন্দামান নিকোবরে বাঙ্গালীরা বন্দী ছিলেন।বটুকেশ্বর দত্ত এখানকার সন্তান।জালিওয়ানাবাগের ঘটনায় কবিগুরু উপাধি ত্যাগ করেছিলেন। আজ কিছু লোক সংবিধানের আত্মাকে মানেন না। বহিরাগত বলা হয় অন্য রাজ্য থেকে এলে।এর নিন্দা করছি।আমার সংকেত মুখ্যমন্ত্রীর দিকে। এই কার্যকলাপ আমাকে দুঃখ দেয়। এই বাংলার বিবেকানন্দ গোটা দুনিয়াকে অভিভূত করেছিলেন।সব দিক থেকে এগিয়ে এই এলাকা।দেশের অখণ্ডতাকে লঘু করার প্রয়াস চলেছে। রাজ্যকে কেন্দ্র আমফানে সাহায্য করেছে।সেই ত্রাণ বিলি করাতেও অনিয়ম হয়েছে।পাকা বাড়ির মালিক ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। এতেও চুরি? দুর্গত মানুষের সহায়তায় বেনিয়ম? এই ধরণের ভুলের তদন্ত হওয়া উচিত। মহামারীর সময়েও ঠিক কাজ হয়নি।ভুলের উপর আবরণ দেওয়া হচ্ছে।

আজ অবধি যে প্রশ্ন করেছিলাম তা নিয়ে কোনো রিপোর্ট পাইনি।এই রিপোর্ট চাওয়া উচিত মিডিয়ার।সিণ্ডিকেট রাজ চলছে। আইনের রাজনীতিকরণ হচ্ছে।একজন সরকারি ব্যক্তি রাজনেতিক কাজ করতে পারেন না। সংবাদমাধ্যম চুপ করে থাকলে খারাপ লাগে।রাস্তার হাল কি আপনার জানেন।এখানে গণবন্টন ব্যবস্থারও রাজনীতিকরণ হয়েছে। প্যাড পার্টি কি? শুনে চকিত হয়েছি।দুই প্রতিনিধিদল আমাকে এ বিষয়ে জানায়। কেন্দ্রের বিধি এখানে কার্যকর হয়নি।কার্যত সমান্তরাল সরকার চলছে।বালি; পাথর কয়লায় স্লিপ চলছে।এটা সিণ্ডিকেটের বাজে উদাহরণ। এটা মাফিয় গিরি।এই টাকা; এই রসিদের টাকা কোথায় যায় সব বেরোবে। আইনের হাত লম্বা নয়; যারা ভাবেন তারা অচিরেই বুঝতে পারবেন।নিচের তলার পুলিশ চাপের জন্য একাজ করতে বাধ্য হন।কঠোর পরিশ্রম করেও তাদের চাপে পড়তে হয়। দুর্নীতি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে।কিষাণরা গোটা দেশে সরাসরি ১৪ হাজার টাকা পান। বাংলার ৭০ লাখ চাষি এই সহায়তা পাননি।৯৮০০ কোটি টাকা পাননি এ রাজ্যের মানুষই।মিডিয়া কেন তোলেনি এ প্রসঙ্গ? এটা একটা অনুদান। ব্যারাকপুর কমিশনারেটে কি হয়েছে? কোর্টে যাবার জন্য সেখানে নোটিশ দেওয়া হচ্ছে।আমি ডি জি কে ডেকেছিলাম।এটা রাজ্যে আইনের না থাকার সমান।এই সংকেত আসছে যে; এখানে ভোটে হিংসা হবে।কোনো হিংসা না হওয়া উচিত।নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হুওয়া উচিত।

আইনের শাসন যাতে চলে দেখা আমার দায়িত্ব। দুটো ঐতিহাসিক মন্দিরে গেছিলাম।রাজ্যবাসীর জন্য সুখের প্রার্থনা করেছি।।তিনি এদিন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য তার সাথে দেখা না করার প্রসঙ্গে বলেন তিনিই আসেন নি। তিনি এদিন বলেন দু চারজন ছাড়া বাকি উপাচার্যরা আমার সাথে যোগাযোগ রাখেন। উপাচার্যদের সমস্যা আমি বুঝি।পার্থ চ্যাটার্জির অসাধারণ ক্ষমতা আছে উপাচার্যসহ গোটা শিক্ষাব্যবস্থাকে কুক্ষিগত করে রাখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *