প্রশাসন

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি নিয়ে রাজ্য সরকারের বিজ্ঞপ্তি ঘিরে আতঙ্ক শিক্ষকমহলে

জ্যোতিপ্রকাশ মুখার্জি


গত ২১ শে জুলাই মধ্যশিক্ষা পর্ষদের পক্ষ থেকে জারি করা এক নোটিশকে (No- 78/press/20) কেন্দ্র করে বিদ্যালয় থেকে দূরে থাকা শিক্ষকদের মধ্যে এক আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। নোটিশের মূল বক্তব্য হলো – আসন্ন একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠুভাবে চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রত্যেক দিন প্রতিটি বিদ্যালয়ে অন্তত পঞ্চাশ শতাংশ শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীকে উপস্থিত থাকতে হবে। এরজন্য সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একটি ‘ডিউটি রোস্টার’ তৈরি করবেন। যদিও এক্ষেত্রে কন্টেন্টমেণ্ট এলাকার শিক্ষকদের ছাড় দেওয়া হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের বহু শিক্ষক বাড়ি থেকে ৩০০-৪০০ কিমি: বা তার বেশি দূরে শিক্ষকতা করেন। তারা বিদ্যালয়ের কাছাকাছি বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকেন। করোনা জনিত লকডাউনের কারণে তারা নিজ নিজ বাড়ি ফিরে যান। করোনার আতঙ্কে বহু বাড়ির মালিক তাদের পুনরায় বাড়ি ভাড়া দিতে চাইছেনা। আবার গণ পরিবহন বিশেষ করে ট্রেন চলাচল না করার জন্য তাদের পক্ষে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হওয়া কষ্টকর। থাকার জায়গা এবং পরিবহন – এই দুই এর ভাবনায় দূরের শিক্ষকরা দিশেহারা।
দ:চব্বিশ পরগনার প্রদীপ কুমার পুরকায়েত, তৃষা হালদার অথবা পুরুলিয়ার মৃত্যুঞ্জয় মাহাতোরা বাড়ি থেকে প্রায় ৫৫০ কিমি: দূরে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে কর্মরত। তারা এতদিন সেখানে বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতেন। এখন বাড়ির মালিক তাদের বাড়িতে পুনরায় থাকতে দিতে দ্বিধাবোধ করছে। আবার সুযোগ বুঝে ভাড়া গাড়িগুলি অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করছে। ফলে তারা চরম সমস্যায় পড়েছে।
তৃষা দেবীর বক্তব্য – স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে আমরা নিয়মিত ক্লাস করেছি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে করোনা যেখানে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ক্রমবর্ধমান সেখানে দূরে যাওয়াটা যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ। সরস্বতী পুজোর দিন মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী আমার মত দূরের শিক্ষকদের বাড়ির কাছাকাছি বিদ্যালয়ে যদি দ্রুত বদলির ব্যবস্থা করা হয় তাহলে অন্তত আতঙ্ক কাটিয়ে নিয়মিত বিদ্যালয়ে হাজির হওয়া যাবে এবং ক্লাস করা যাবে।
নোটিশের কথা শুনে পূর্ব বর্ধমানের গলসীর অভিভাবক অরবিন্দ ঘোষ বললেন – এখন ক্লাস যখন চালু হচ্ছেনা তখন দূরের শিক্ষকদের বিপদে ফেলে লাভ কি? তাছাড়া দূর থেকে আগত শিক্ষকদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকায় করোনা ছড়াতে পারে।তার থেকে সরকার সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করে তাদের নিজ নিজ নিকটবর্তী বিদ্যালয়ে বদলির ব্যবস্থা করুক। এতে করোনা আতঙ্ক সম্পূর্ণ না কাটা পর্যন্ত দুটি শিফটে ক্লাস চালু করা সম্ভব হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক প্রধান শিক্ষক বললেন – বিদ্যালয়ের পঠন-পাঠন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে গেলে অবশ্যই স্হানীয় শিক্ষক দরকার। এখন শিক্ষা দপ্তর মানবিকতার খাতিরে শিক্ষকদের বাড়ির কাছাকাছি বিদ্যালয়ে বদলির বিষয়টি বিবেচনা করলে ছাত্র সমাজ উপকৃত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *