প্রশাসন

বিশ্বভারতী ঘিরে রাজ্য – কেন্দ্র সংঘাত ক্রমশ বাড়ছে

খায়রুল আনাম (সম্পাদক সাপ্তাহিক বীরভূমের কথা )

 মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরেই বিশ্বভারতীকে দেওয়া রাস্তার দখল নিলো  রাজ্য সরকার
   
বিশ্বভারতীর সঙ্গে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বেশ কিছুদিন থেকেই যে দ্বন্দ্ব চলছে, তারই পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্য সরকার বিশ্বভারতীকে হস্তান্তর করা রাস্তা ফিরিয়ে নিচ্ছে বলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২৮ ডিসেম্বর বোলপুরে জেলা প্রশাসনিক বৈঠকে  জানিয়ে দিয়েছিলেন। এ ব্যাপারে তিনি বৈঠকে উপস্থিত  রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে  নির্দেশও দেন। এমন কী তিনি বিশ্বভারতীর যত্রতত্র  পাঁচিল নির্মাণ  কতটা আইন মেনে হয়েছে,  তা দেখারও নির্দেশ দেন।   শান্তিনিকেতনের ডাকঘর মোড় থেকে শ্রীনিকেতনের কালীসায়র মোড় পর্যন্ত তিন কিলোমিটার এই পাকা রাস্তাটি গিয়ে মিশেছে বোলপুর-সিউড়ি সড়কের সাথে। এই রাস্তার পাশেই রয়েছে উপাসনা গৃহ বা কাচ মন্দির,  শান্তিনিকেতন গৃহ,  ছাতিমতলা, রবীন্দ্র ভবন, কলাভবন, সঙ্গীত ভবনের মতো ঐতিহ্যময় প্রাঙ্গনগুলি।  এই রাস্তার পাশেই রয়েছে প্রখ্যাত ভাস্করাচার্য রামকিঙ্কর বেইজের বিশ্বখ্যাত বেশকিছু ভাস্কর্য।   যেগুলি মূলত সাধারণ বালি, সিমেন্ট আর খোয়াইয়ের কাঁকড় দিয়ে তৈরী।  এই এলাকার বাড়িগুলিও ইট, সুড়কির মিশ্রণে নির্মিত। এই রাস্তা দিয়ে অজস্র যানবাহন চলাচলের ফলে   এইসব স্থাপত্য  ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বলে বলা হয়। ২০১২ সাল থেকে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ ওই রাস্তা নিজেদের হাতে নেবার দাবি জানিয়ে আসার পরে, স্বপন দত্ত বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য থাকাকালীন ২০১৭ সালে রাজ্য সরকার ওই রাস্তা বিশ্বভারতীকে হস্তান্তর করে। এরপরই বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ ওই রাস্তায় যানবাহন ও সাধারণের চলাচলে নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরী করছে বলে শান্তিনিকেতনের বাসিন্দাদের একাংশের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়। ইতিমধ্যে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে শান্তিনিকেতনের বেশ কিছু বাসিন্দা এ ব্যাপারে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখে সমস্যার সমাধানের জন্য তাঁর হস্তক্ষেপের আবেদন জানান। আর তারই পরিপ্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী বিশ্বভারতীকে দেওয়া রাস্তা তাঁরা ফিরিয়ে নিচ্ছেন বলে ২৮ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসনিক বৈঠকে ঘোষণা করেন। তারপরই জেলা প্রশাসনের দিক থেকে শুরু হয়ে যায় দৌড়ঝাঁপ।  পিডব্লুউডি রাস্তা ফিরিয়ে নিয়ে তা জানিয়ে দেয় জেলাশাসককে।   আর তারপরেই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই রাস্তা  ‘পজেশন’   বা দখল নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু  হয়ে যায়। ইংরেজি নববর্ষের দিনই জেলাশাসক  বিজয় ভারতী, জেলা পুলিশ সুপার শ্যাম সিংহ-সহ  বহু শান্তিনিকেতনবাসীর উপস্থিতিতে শান্তিনিকেতনে উপাসনা গৃহ বা কাচ মন্দিরের সামনে পিডব্লুউডির বোর্ডের আবরণ উন্মোচন  এবং ” আমাদের শান্তিনিকেতন”  গানের মধ্য দিয়ে এই রাস্তাটি রাজ্য দখলে নেয়। এদিনই বোলপুর পুরসভা এলাকার সুরশ্রী পল্লী হয়ে যে রাস্তাটি দূরদর্শন কেন্দ্র ও আকাশবাণী ভবনের সামনে দিয়ে গিয়ে শান্তিনিকেতন পৌষমেলা মাঠের রাস্তার সঙ্গে মিশেছে, সেই এলাকাটি বিশ্বভরতীর হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ তা পাঁচিল তুলে বন্ধ করে দেওয়ার কাজ করছিলো। জেলাশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারের  গোচরে তা আনা হলে, তাঁরা ওই পাঁচিল নির্মাণের ‘ওয়ার্ক অর্ডার’ দেখতে চান। কিন্ত নির্মাণ কাজের সাথে যুক্ত নির্মাণ কর্মীরা তা দেখাতে  না পারায় ওই নির্মাণ  কাজ বন্ধ রাখার কথাও জানিয়ে দেওয়া হয় ।। 
 ছবি : রাস্তা উদ্বোধন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *