প্রশাসন

জয়দেব কেন্দুলির মেলা আদৌও হবে কি?

খায়রুল আনাম (বিপাশা আর্ট প্রেস)

 জয়দেব-কেন্দুলির মেলা আদৌ হবে কী ?  সভা ডেকে ক্ষোভ  প্রকাশ আশ্রম কমিটির
         
করোনা আবহে এবার বসেনি জেলা বীরভূমের আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন  শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্যবাহী পৌষমেলা। সেই প্রেক্ষিতে এবার জেলার আরও একটি খ্যাতি সম্পন্ন জয়দেব-কেন্দুলির পৌষ সংক্রান্তির মেলা আদৌ বসবে কী না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। প্রতি বছর ইলামবাজার থানা এলাকার অজয় নদ তীরবর্তী জয়দেব-কেন্দুলিতে বসে চার দিনের এই  মেলা।  আগে এই মেলা জয়দেব-কেন্দুলির আশ্রম কর্তৃপক্ষেেে দ্বারা এই মেলা পরিচালিত হলেও, বর্তমানে এই মেলা জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে হয়ে থাকে। প্রতি বছর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে  সাতই পৌষের মধ্যে জয়দেব- কেন্দুলি আশ্রম কমিটির সঙ্গে আলোচনায় বসে মেলার রূপরেখা তৈরী করা হয়ে থাকে। কিন্তু এবার সেই সময় অতিক্রান্ত হওয়া সত্বেও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এবারের মেলার ব্যাপারে কোনও  আলোচনা সভা  ডাকা তো দূরের কথা, এবারের মেলার বিষয়ে প্রশাসনিক আধিকারিকরা একেবারে নিশ্চুপ থেকে যাওয়ায়, মেলা নিয়ে বেশি মাত্রায় সংশয় দেখা দিয়েছে।   জয়দেব-কেন্দুলির  মেলার একটা অংশ বর্তমানে স্থানান্তরিত করে অজয় নদের চরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এজন্য সেখানে প্রতি বছর মেলার আগে মোড়াম বিছানো রাস্তা, অস্থায়ী শৌচাগার, পানীয় জলের পাইপ লাইনের যে সব কাজ সাতই পৌষের পরেই শুরু হয়ে যায়, তার চিহ্নমাত্র দেখা যাচ্ছে না এবার।    এই পরিস্থিতিতে সমগ্র বিষয়টি পর্যালোচনা করতে ‘জয়দেব  মেলা  আশ্রম কমিটি’র পক্ষ থেকে এখানকার অজয় নদের চরে ‘কদমখণ্ডি’ ঘাটে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সেই আলোচনা সভায় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের ভক্তজনেরা এসে মিলিত হয়ে, ঐতিহ্যবাহী  জয়দেব-কেন্দুলির মেলাকে ঘিরে ভক্তপ্রাণ মানুষজনদের যে ধর্মীয় ভাবাবেগ রয়েছে, তাকে মর্যাদা দিয়ে মেলা করার বিষয়েই মত প্রকাশ করা হয়। তাঁরা বলেন, বর্তমানে জনজীবন অনেকখানিই স্বাভাবিক হয়ে এসেছে।  রাজনৈতিক দলগুলি মিটিং, মিছিল, সমাবেশ সবই করছে।  তা’হলে জয়দেব-কেন্দুলির মেলা হতে দোষটা কোথায় ? এই মেলায় সারা রাত্রি ধরে  বাউল ও কীর্তন গানের আসর চলে। তাতে রাশ টেনে রাত্রি দশটার মধ্যে মেলা বন্ধ করে দেওয়া হলেও তাতে তাঁদের কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু মেলা হওয়াতে তাঁদের আপত্তি রয়েছে। এই মেলায় তিনশোর বেশি আখড়া আসে। যা ভক্তপ্রাণ মানুষজনদের অর্থানুকূল্যেই চলে আসছে। যেখান থেকে মেলার সময় তিনদিন ধরে মানুষ বিনামূল্যে অন্ন ও খিচুড়ি   ভোগের প্রসাদ গ্রহণ করে থাকেন। ছবি: জয়দেব- কেন্দুলিতে সভা।

 112 12,89,834

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *