প্রশাসন

মহাত্মা গান্ধীর ৭৫ তম শুভাগমন দিবস পালন সুতাহাটায়

মনোজ সামন্ত,

, অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার অহিংস স্বাধীনতা আন্দোলনের সাথে সুতাহাটার গুরুত্ব অপরিসীম। ১৯৩৬ সালে সুতাহাটার গান্ধীবাদী নেতা কুমার চন্দ্র জানা স্বাধীনতা আন্দোলনের পীঠস্থান ‘গান্ধী আশ্রম’ নির্মাণ করেন। সুতাহাটার যে সব মানুষ অহিংসার পথে দেশমাতৃকার মুক্তির আরাধনা করতেন তাদের সাধনার জায়গা ছিলো  হলদিয়া সংলগ্ন বাসুদেবপুর গান্ধী আশ্রম। এখানে জাতীয় বিদ্যালয়ের কাজ, খাদির কাপড় তৈরী, মহিলা বাহিনীর কাজ সহ বহুমুখী সমাজ সংস্কারের কাজের সূচনা হতো এখান থেকে।গান্ধীবাদী নেতা কুমার বাবুর ইচ্ছে ছিলো জাতির জনক বাপুজি কে একবার সুতাহাটার মাটিতে আনার। সেই সুযোগ এলো ১৯৪৫ সালের ২৯শে ডিসেম্বর। গান্ধীজী মহিশাদলে আসবেন শুনে কুমার বাবু বাপুজির আপ্ত সহায়ক এর সঙ্গে যোগাযোগ করে সুতাহাটার পুণ্যভূমিতে গান্ধীজী কে আনার ব্যবস্থা করেছিলেন। সুতাহাটার মানুষদের নিয়ে কুমার বাবু ক্যানেল পাড়ের রাস্তা তৈরী করলেন গান্ধী আশ্রম পর্যন্ত।গত ২৯ ডিসেম্বর  সেই গান্ধী শুভাগমন দিবসের ৭৫তম বর্ষের স্মরণ  অনুষ্ঠান হলো গান্ধী আশ্রামে।কুমার বাবুর ভাবশিষ্য প্রাক্তন শিক্ষক  সুরেন্দ্র নাথ প্রধানের পৌরহিত্যে উপস্থিত ছিলেন সুতাহাটার কৃতি সন্তানরা। ছিলেন পদার্থ বিদ্যার বিশিষ্ঠ গবেষক দেবনারায়ণ জানা,শিক্ষারত্ন  শ্রী দীপ নারায়ণ জানা, ডক্টর শ্রী তপন কুমার জানা,শ্রী সুকুমার শেঠ, শিক্ষক ও কবি শিশির কুমার বাগ।হলদিয়া পৌরসভার পক্ষে পৌর পারিষদ শ্রী নারায়ণচন্দ্র প্রামানিক, স্থানীয় কাউন্সিলার প্রদীপ কুমার দাস, শ্রীমতী প্রতিমা বেতাল ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন শ্রী দুলাল চন্দ্র সামন্ত সম্পাদক ও গান্ধী আশ্রমের নব রূপকার।অনুষ্ঠানে আশ্রমের বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজ, অহিংস মন্দির নির্মাণ সহ গান্ধী কুটিরে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের একটি সংগ্রহসালা নির্মাণের জন্য অতিথিরা জোরালো মত পোষণ করেন। আগামী দুদিন ধরে যোগা , অঙ্কন প্রতিযোগিতা, আবৃত্তি কর্মশালা,ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। গান্ধী আশ্রম ট্রাস্ট কমিটি ও হলদিয়া সমাজ কল্যাণ পর্ষদের যৌথ উদ্যোগে দুদিন ধরে উৎসব মুখর থাকবে অহিংস স্বাধীনতা অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার পিঠস্থান সুতাহাটার বাসুদেবপুর গান্ধী আশ্রম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *