রাজনীতি

বিশ্বভারতীর অন্দরে শাসক দলের পতাকা, রাজনৈতিক অস্থিরতার আতঙ্কে বোলপুর

খায়রুল আনাম (সম্পাদক সাপ্তাহিক বীরভূমের কথা )

 একুশের লক্ষ্যে বোলপুরে অমিতের পরে মমতার পদযাত্রা
           
আসন্ন রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের মল্লভূমি হয়ে উঠলো কী বীরভূমের বোলপুর শহর ?  আর এক্ষেত্রে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিভূমি বোলপুর শহর আর তাঁর সাধনভূমি শান্তিনিকেতন কী ভোট পার্বণের সবচেয়ে বড় মৃগয়াভূমি?  ঘটনা পরম্পরায় এমনই মত উঠে আসছে বিভিন্ন মহল থেকে।      কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ডিসেম্বরের ২০ তারিখ শান্তিনিকেতন সফরে এসে  যতক্ষণ শান্তিনিকেতনে ছিলেন, একটি বারের জন্যও রাজনীতির বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। কিন্তু তারপরই তিনি শান্তিনিকেতনের শ্যামবাটিতে এক বাউল  শিল্পীর বাড়িতে আতিথ্য গ্রহণ করার পরেই, বোলপুর ডাকবাংলো মাঠ থেকে চৌ-রাস্তা পর্যন্ত   গাড়িতে চেপে রোড-শো করেন। যাতে রীতিমতো উপচে পড়ে ভীড়। আর সেখানেই অমিত শাহ রাজ্য সরকার ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে  তীব্র ভাষায় আক্রমণ  করে যান। আর তারপরই মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন যে, তিনি ২৮ ডিসেম্বর বোলপুরে জেলা প্রশাসনিক বৈঠকে গিয়ে পরদিন ২৯ ডিসেম্বর বোলপুর ডাববাংলো মাঠ থেকে চৌ- রাস্তা পর্যন্ত পদযাত্রা করবেন। আর তারপর থেকেই চড়তে থাকে রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ।  যার সফল বাস্তবায়ণ  ২৯ ডিসেম্বর দেখা গেল বোলপুর শহরে।     মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পদযাত্রা উপলক্ষে  তাঁর দল তৃণমূল কংগ্রেসের  পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিলো যে, মহিলা, বাউল শিল্পী, মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষজন-সহ অন্যান্যদের নিয়ে আড়াই লক্ষ  মানুষ  মমতা বন্দ্যাপাধ্যায়ের এই পযাত্রায় অংশ নিবেন।  এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদযাত্রায় তার থেকেও বেশি মানুষ শামিল হয়েছিলেন বলে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি  করা হয়।  ট্যুরিষ্টলজ মোড় থেকে জামবুনি পর্যন্ত চার কিলোমিটার পদযাত্রায় জনজোয়ারে ভেসে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখানে রবীন্দ্রনাথের মূর্তিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ঝাঁঝালো বক্তৃতায়  বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ এবং কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে নিশানা করে তাঁর ক্ষোভ উগরে দেন। বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের  শান্তিনিকেতনের ‘প্রতীচী’ বাড়ির মধ্যে তাঁদের জায়গা রয়েছে বলে যে দাবি করেছে, সেই প্রসঙ্গ উত্থাপন করে বলেন যে, এরা আজ  অমর্ত্য সেনের মতো মানুষকেও রেহাই দিচ্ছে না। এখানে কু-কথায়  রবীন্দ্রনাথকে অপমান করা হচ্ছে। তিনি অমিত শাহের নাম না করেই বলেন,  এরা  বাংলায় এলে  আদিবাসীদের বাড়িতে বসে ফাইভ স্টার হোটেল থেকে খাবার এনে  খাচ্ছে। এরা  বহিরাগতদের নিয়ে এসে গ্রামে ঢোকাচ্ছে। আর এজন্য তিনি সকলকে সাবধান করে দিয়ে বলেন, গ্রামে বহিরাগতদের দেখলেই পুলিশে খবর দিন।   বিজেপির বিরুদ্ধে  তিনি টাকা দিয়ে দল কেনার অভিযোগও আনেন। বিশ্বভারতীতে বিজেপি ঘৃণ্য, বিদ্বেষমূলক রাজনীতির  আমদানি করছে বলেও তাঁর অভিযোগ। তিনি বিজেপিকে বর্গি বলে আখ্যায়িত করে এবং বাংলার দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয় বর্গীয়র  নাম না করেই বলেন, বাংলায় বর্গি এসেছে। এদের হাত থেকে বাংলাকে বাঁচান। বিশ্বভারতীর উপাচার্যকে তিনি ‘স্ট্যাম্প   মারা বিজেপির লোক’  বলে মন্তব্য করেন।  বিজেপি  রাজ্যে ক্ষমতায় এলে নতুন বাংলা গড়ার যে কথা বলছে, তার সমালোচনা করে তিনি  বলেন,  সোনার বাংলার স্রষ্টা রবীন্দ্রনাথ। ওদের আর সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখাবার দরকার নেই  বলেও তিনি মন্তব্য করেন।  এদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদযাত্রায়  যোগ দিতে আসা মানুষজন যে ভাবে শান্তিনিকেতনে ভীড় করেছেন এবং  শান্তিনিকেতনের সর্বত্র তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকা লাগিয়েছে তাতে  বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ আতঙ্কিত বলে শান্তিনিকেতন থানায় অভিযোগ দায়ের করার সাথে সাথে তাঁদের আতঙ্ক ও উদ্বেগের কথা রাজ্য স্বরাষ্ট্র দফতর ও রাজ্যের মুখ্যসচিবকেও  জানিয়েছে বলে জানা  যাচ্ছে।।   

ছবি – বোলপুরে মমতা কে স্বাগত জানানো তোরণের

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *