ক্রীড়া সংস্কৃতি

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দুস্থদের আহারের আয়োজন বর্ধমান শহরে

নীহারিকা মুখার্জি ,

      হিন্দু শাস্ত্রানুযায়ী মৃত ব্যক্তির আত্মার শান্তির জন্য শ্রাদ্ধ-শান্তি সহ আত্মীয় স্বজন ও প্রতিবেশিদের ভোজনের ব্যবস্হা করা হয়। কিন্তু পিতার মৃত্যু-বার্ষিকীতে একটু অন্য রকম ভাবনা করে পূর্ব বর্ধমানের নবাবহাট সংলগ্ন বীরপুরের বাসিন্দা অকিঞ্চন দত্ত। দুই বছর আগে বাবা-মার একমাত্র সন্তান অকিঞ্চন তার বাবা রঞ্জিত দওকে হারায়। প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী বাড়িতে পালন করলেও দ্বিতীয় বার্ষিকীতে সে দুস্থদের খাওয়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় এবং মায়ের উৎসাহে গত ২৭ শে ডিসেম্বর বর্ধমান স্টেশন সংলগ্ন এলাকার প্রায় ৫০ জন দুস্থ মানুষের মুখে অন্ন তুলে দেয়। সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় বর্ধমানের স্বেচ্ছাসেবী সংস্হা  'বিশ্বজিৎ ফাউন্ডেশন'। অকিঞ্চনের উপস্থিতিতে  সংস্হার সদস্য প্রহ্লাদ, রুপমা, শোভন, সঞ্জু , তাপস প্রমুখরা প্যাকেটজাত খাবার দুস্থদের হাতে তুলে দেয়।
    পেশায় কৃষক অকিঞ্চন বললেন - বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে দেখি অনেকেই তাদের বাড়ির বিভিন্ন উৎসব চার দেওয়ালের বাইরে দুস্থদের সঙ্গে পালন করছে। আমারও ইচ্ছে হয় বাবার দ্বিতীয় মৃত্যু বার্ষিকীতে বর্ধমান স্টেশন সংলগ্ন দুস্থদের খাওয়ানোর। কিন্তু কিভাবে সেটা করব ভাবতে গিয়ে বিশ্বজিৎ ফাউন্ডেশনের কথা জানতে পারি। শেষে সংস্হার সক্রিয় সহযোগিতায় এবং নিজের আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী ৫০ জনের মুখে অন্ন তুলে দিই। সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য তিনি সংস্হার সদস্যদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। 
    সংস্হার অন্যতম সদস্য রূপমা ব্যানার্জ্জী বললেন- অকিঞ্চন বাবুর মত অনেকেরই ইচ্ছা থাকলেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার অভাবে  সবসময় সেটা সম্ভব হয় না। তাদের পাশে আমাদের সংস্হা সবসময়  আছে।

 151 12,89,834

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *