রাজনীতি

বর্ধমানের খোকন দাস কে ‘বড়নেতা’ বললেন প্রাক্তন মন্ত্রী

সুরজ প্রসাদ ,

এবারে আর বেসুরে নয়; দলের মধ্যে তার বিরোধী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েই বক্তব্য রাখলেন পূর্ব বর্ধমানের তৃণমূল নেতা খোকন দাস। মূলত বহিস্কৃত সিপিএম নেতা আইনুল হক বিজেপি থেকে দলে যোগ দেবার পর তার ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে। একের পর সভায় আইনুল হক সহ দলের শহর সভাপতি ; একাধিক প্রাক্তন কাউন্সিলর সহ দলের কিছু নেতার বিরুদ্ধে গরম গরম বক্তব্য রাখেন গোটা ডিসেম্বর জুড়ে। জেলা সভাপতিও ছাড় পাননি। এমনকি একটি সভায় এমন চলতে থাকলে দল ছাড়ার ইঙ্গিত দেন খোকন। একদিকে খোকন দাসের গোষ্ঠী আর অন্যদিকে; শহর সভাপতি আর যুব জেলা সভাপতি আলাদা শিবির স্পষ্ট হয়ে ওঠে।দু-তরফই আলাদা কর্মসূচি করেন।আজও করেছেন।অন্য গোষ্ঠীর কর্মসূচিতে দেখা যাচ্ছে আইনুল হক কে। এই প্রাক্তন পুরপতির বিরুদ্ধে একের পর এক শব্দবোমা ফাটিয়েছেন খোকন। আজ খোকন গোষ্ঠীর সমর্থকেরা বঙ্গধ্বনি যাত্রার শেষ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। রীতিমতো বড় জমায়েত করে শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা দেখা যায়। বেধে যায় যানজট। গাড়িঘোড়া আটকে পড়ে।কার্জনগেটের মুখে মঞ্চ বেধে একের পর এক তোপ দাগেন খোকন। তার সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বিধায়ক রবিরঞ্জন চট্টোপাধ্যায় ; জেলা আই এন টি টি ইঊ সি সভাপতি ইফতিকার আহমেদ, সহ কয়েকজন প্রাক্তন কাউন্সিলর ও নেতা। আজ অবশ্য কারো নাম নেন নি খোকন।কিন্তু সুর যথেষ্টই চড়া ছিল দলের এই সাধারণ সম্পাদকের। তিনি বলেন; ‘আমাদের শত্রুরা বলছে খোকন বিজেপি হয়ে গেছে। অভিষেক নাকি তাকে পাত্তা দেয় না। সে আর কোনোও কর্মসূচি করতে পারবেনা। রবিবাবু নাকি অসুস্থ। আজকের সভা প্রমাণ করছে মানুষ কার সাথে। একধাপ এগিয়ে তিনি বলেন ;তাকে সরিয়ে দেবার চেষ্টা চলছে। যাতে শহরজুড়ে তোলাবাজি করা যায়। দলের দখল নেওয়া যায়। ৯৮ সালে মাত্র দুজন দলে ছিলেন। তার একজন এই খোকন। পরে অনেকে এসেছেন। একসাথে যারা লড়েছেন।এই সভায় তাদের অনেকে এসেছেন।অন্যদিকে রবিরঞ্জনবাবু যিনি কলকাতার বাসিন্দা; আজকের সভায় ছিলেন। তিনিও উদারচিত্তে খোকনের প্রশংসা করেনি।তিনি বলেন খোকনই বড় নেতা।তার সাথেই মানুষ আছেন। কিছুদিন আগেও শহরের অবিসংবাদী নেতা ছিলেন খোকন। পুরসভা সহ শহরের ‘উন্নয়নের’ রাশ ছিল এই প্রাক্তন এম সি আই সি র হাতেই।একসময় দলের জেলা যুব সভাপতিও ছিলেন।আইনুল হক দলে যোগ দেবার পর থেকেই পরিস্থিতি পালটায়। তার আগে যে বিভাজনের রেখা সূক্ষ ছিল শহরেরে নানা কর্মসূচিতে তা প্রকট হয়ে পড়ে। একদিকে খোকনের অনুগামীরা; বাকিরা অন্যদিকে এই দুই শিবিরে ভাগ হয়ে যায় দল।আজ বঙ্গধ্বনির শেষ কর্মসূচিও তার বাইরে রইলো না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *