ক্রীড়া সংস্কৃতি

দমদমের বড়দিন উৎসব পালনে ‘আদরবাসা’

জ্যোতিপ্রকাশ মুখার্জি


ইচ্ছে থাকলে সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো যায় গত কয়েক বছর ধরে বারবার তার প্রমাণ রেখে চলেছে দমদমের শরৎ বসু রোডের শরৎ কলোনির “আদরবাসা”।
পেশায় আই.সি.ডি.এস কর্মী অর্পিতা ইন্দ্র, গৃহশিক্ষিকা প্রবীণা জয়তী ইন্দ্র ও একটা জুয়েলারি দোকানের কর্মী মধুমিতা সেনের আদরের ছোঁয়া পেল এলাকার প্রায় ৭০ জন অসহায় ছেলেমেয়ে। ২৫ শে ডিসেম্বর বিরাটির মহাজাতি মাঠ প্রাঙ্গনে ঐসব ছেলেমেয়েদের হাতে তুলে দেওয়া হলো শীতের কম্বল, টুপি, মাস্ক, কেক, জয়নগরের মোয়া, কলা, কমলা লেবু, ডিম সিদ্ধ, স্যানিটাইজার, আদরবাসার ব্যাচ সহ বড়দিনের বিশেষ আকর্ষণ সান্তাক্লজ টুপি। এর আগে আদরবাসার প্রায় সমস্ত সদস্যদের উপস্থিতিতে ‘আদরবাসা’ চিহ্নিত কেক কাটা হয় এবং একটু একটু করে সবার মধ্যে বিলি করা হয়। বড়দিনের কেক থেকে বঞ্চিত হয়নি সেই চার-পাঁচটি কুকুর আদরবাসার পক্ষ থেকে যাদের দু’বেলা খাবার দেওয়া হয়।
জয়তী দেবী বললেন- আমাদের সীমিত আয়ের মধ্যে দিয়ে আমরা দুঃস্থদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি। ধীরে ধীরে স্হানীয় কয়েকজন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। তবে এবার সুদূর আমেরিকা থেকে দেবদূতের মত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন তাড়ানা, সাবাস, নিক্কন অনলাইন ড্যান্স ইন্সটিউটের মত প্রবাসী গ্রুপ সহ মধুমিতা দত্ত ইন্দ্র, অরিজিৎ দত্ত, দেবশ্রী মণ্ডল, কোয়েল পোদ্দার, শতরূপা মণ্ডল, নীলয় ভৌমিক, তারকনাথ মুখার্জ্জী, জয়শ্রী মণ্ডলের মত ব্যক্তিরা। মূলত তাদের জন্যই আমরা অনেক বেশি ছেলেমেয়ের পাশে দাঁড়াতে পারলাম। আদরবাসার পক্ষ থেকে জয়তী দেবী তাদেরকে এক আকাশ আদরবাসা ও সহস্র কোটি শুভেচ্ছা জানালেন।
হোয়াটস অ্যাপে সুদূর আমেরিকা থেকে মধুমিতা দেবী বললেন – আদতে আমি দমদমের মেয়ে। আমার এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়ে আমি গর্বিত। সুযোগ পেলে আবার ওদের পাশে দাঁড়াব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *