প্রশাসন

বিশ্বভারতীর শতবর্ষে ভার্চুয়াল বক্তব্য পেশে আচার্য তথা প্রধানমন্ত্রী

খায়রুল আনাম (সম্পাদক আয়না টেলি নিউজ ),

 বিশ্বভারতীর শতবর্ষে আজ ভার্চুয়াল বক্তব্য আচার্য প্রধানমন্ত্রীর
     
করোনা আবহ ছন্দপতন ঘটিয়ে দিয়েছে বিশ্ব মানব জীবনে। সেই আবহের কারণে এবার বসলো না ঐতিহ্যবাহী শান্তিনিকেতনের পৌষমেলা। তবে, বিশ্বভারতীর রীতি মেনে যথারীতি পালিত হচ্ছে পৌষ উৎসব। ১৮৯১ সালে গুরুদেব রবীন্দ্রনাথের হাত ধরে শান্তিনিকেতনে প্রতিষ্ঠা হয় উপাসনা গৃহ বা কাঁচ মন্দির। সেদিন  ৭ পৌষ এখানে সূচনা হয়  পৌষ উৎসবের।  ১৮৯৪ সালের ৭ পৌষ  উপাসনা গৃহের সামনের মাঠে বসে  প্রথম পৌষমেলা। ১৯৬১ সাল থেকে পৌষমেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে শান্তিনিকেতনের পূর্বপল্লির মাঠে। বোলপুর-ভূবনডাঙা এলাকায় এই মাঠ হওয়ার সুবাদে স্থানীয়ভাবে এটি ভুবনডাঙার মেলা নামেও পরিচিতি পায়।  পৌষমেলার প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে  এই  মেলা ধারাবাহিকভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে এলেও, ১৯৪৩ সালে বাংলার মন্বন্তর বা দুর্ভিক্ষের কারণে এবং ১৯৪৬ সালে দেশের স্বাধীনতা আন্দোলন কালে যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে, তারই পরিপ্রেক্ষিতে বন্ধ রাখা হয় শান্তিনিকেতনের পৌষমেলা। ১৯৪১ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মহাপ্রয়াণ ঘটে গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের। সে বার পৌষমেলা হলেও তাতে কোনও জৌলুস ছিলো না। আর সেই প্রেক্ষিতে এবার করোনাকালে তৃতীয় বারের জন্য বন্ধ থাকলো পৌষমেলা।        পৌষমেলা বন্ধ থাকলেও রীতি মেনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে পৌষ উৎসব। এবার বিশ্বভারতীর শতবর্ষ।  গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ  বিশ্বছারতী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ১৯২১ সালে।  স্বাধীনতার পরে ১৯৫১ সালে বিশ্বভারতী কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতি পায়।   অধিকাংশ সময়ই দেশের প্রধানমন্ত্রী বিশ্বভারতীর আচার্য হিসেবে থেকেছেন।  বর্তমানে বিশ্বভারতীর আচার্য হিসেবে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদি।  এবার বিশ্বভারতীর শতবর্ষ।  বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ করোনা বিধি মেনে শতবর্ষ উৎসব পালন করছে। শতবর্ষ পালন উপলক্ষে বিশ্বভারতীর আচার্য হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদিকে শান্তিনিকেতনে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণও জানানো হয়েছিলো।  আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। তবে, এঁঁরা কেউ-ই উপস্থিত  থাকছেন না। তবে, আচার্য তথা প্রধানমন্ত্রী  সশরীরে উপস্থিত না থাকলেও  আজ ৮ পৌষ, ২৪ ডিসেম্বর বিশ্বভারতীর শতবর্ষে   ভার্চুয়াল বক্তব্য রাখবেন আচার্য তথা প্রধানমন্ত্রী।  অবশ্য অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত থাকছেন বিশ্বভারতীর রেক্টর তথা রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর ও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী  রমেশ পোখরিয়াল। প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে বিশ্বভারতীতে এই বার্তা পৌঁছানোর পরই শান্তিনিকেতনের আম্রকুঞ্জে  এজন্য জায়েন্ট স্ক্রিন লাগানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।   করোনা আবহে বিশ্বভারতীর বিভিন্ন  বিভাগ বন্ধ থাকার কারণে ঐতিহ্যবাহী আম্রকুঞ্জে  সকাল দশটায় কয়েকটি বিভাগের বিভাগীয় প্রধানদের হাতে বিশ্বভারতীর রীতি মেনে সপ্তপর্ণী, নিদর্শনপত্র  তুলে দেওয়া হবে। আচার্য হিসেবে ভার্চুয়াল মাধ্যমে বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি এই পদ্ধতিতে  শান্তিনিকেতনের প্রথানুযায়ী  রবীন্দ্র সঙ্গীত ও নৃত্যানুষ্ঠান দেখতে আগ্রহী হওয়ায় সেই ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে বিশ্বভারতীর পক্ষ থেকে ।। 

 88 12,89,834

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *