প্রশাসন

বর্ধমান স্টেশনের পুরাতন সেতুটি শুধুমাত্র পথচারীদের জন্য

সুরজ প্রসাদ,

বর্ধমানে পুরনো ও নতুন রেল ওভারব্রীজ পরিদর্শনে এলেন পূর্ব রেলের ডি.আর. এম। এদিন ডি আর এম শ্রী এস কে দাস তার সহকর্মীদের নিয়ে বর্ধমানে পরিদর্শনে আসেন। একটি ইন্সপেকশন কারে চেপে তারা বর্ধমান জংশনে আসেন। এখানে এসে প্রথমে ১ নং প্লাটফর্মে আসেন তিনি। তারপর চলে যান ভারতের মধ্যে অন্যতম আকর্ষণীয় নতুন রেল ওভারব্রীজ পরিদর্শনে। এখানে তিনি খুঁটিয়ে সব দেখেন।দেখেন ব্রীজ ; অ্যাপ্রোচ রোড। দেখেন ট্রাফিকের ব্যবস্থা। সেখান থেকেই শতাব্দীপ্রাচীন পুরনো ওভারব্রীজটি দেখেন। এরপর চলে যান জেলাশাসকের দপ্তরে। সেখানে জেলাশাসক এনাউর রহমানের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকের শেষে জানান; নতুন ওভারব্রীজ দিয়ে এখন প্রায় সব গাড়িই চলছে। এতে জনসাধারণের বিরাট সুবিধা হয়েছে।এছাড়া তিনি জানান পুরনো ব্রীজ আপাতত থাকছে। তা ভেঙে ফেলা হচ্ছেনা এখন। তবে তা দিয়ে কেবল পথচারীরাই চলবেন।গাড়িঘোড়া কেবল নতুন ব্রিজ দিয়েই যাচ্ছে এবং যাবে। পুরনো ব্রীজে বেশি ভার দেওয়া যাবেনা। তবে বিকল্প কী ব্যবস্থা করা যায় তা ভাবা হচ্ছে। তারপর পুরনো ব্রিজ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে রেল। আরো জানান; নতুন ব্রিজের অ্যাপ্রোচ রোডের দায়িত্ব তারা রাজ্য সরকারের হাতে তুলে দিতে চান। এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তারপর এই রাস্তাগুলির রক্ষণাবেক্ষণ রাজ্য সরকারই করবেন।অন্যদিকে জেলাশাসক এনাউর রহমান জানান এটি একটি সমন্বয় মিটিং।জানুয়ারিতে প্রথম সপ্তাহে নতুন ব্রিজের এপ্রোচ রোডের দায়িত্বভার হস্তান্তর নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পি ডব্লুউ ডি ও সভায় ছিল। তিনি জানান পথচারি আর বয়স্ক মানুষের অসুবিধার কথা তুলে ধরা হয়েছে। পুরনো ব্রীজ ভাঙা হচ্ছেনা। বিকল্প যতদিন না হয় রেল ওই ব্রীজের রক্ষণাবেক্ষণ করবে।কেবল পথচারীরা ও সাইকেল আরোহীরাই ওটি ব্যবহার করছেন। প্রসঙ্গত এই পুরনো ওভারব্রীজ ভাঙার চর্চা শুরু হতেই বেশ কিছুদিন আগে আন্দোলনে নামেন শহরের নাগরিকদের একাংশ। শহরের একংাশে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হবার আশংকা হয়। এই দাবিতে আন্দোলন করে এস ইউ সি আই ; সি পি এম। আন্দোলনে নাম্র বিজেপি আর শাসক দল তৃণমূল আর আর তার শ্রমিক সংগঠন।বর্ধমানের নতুন ওভারব্রীজ একটি স্টেট অফ আর্ট ব্রিজ। এর উদ্বোধন নিয়ে কেন্দ্র আর রাজ্যে জোর তরজা লেগে যায়। শেষ পর্যন্ত দুর-নিয়ন্ত্রকের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী এর উদ্বোধন করেন। রেল ও তারপর ব্রিজ খুলে দেয়।ধাপে ধাপে বাইক সহ ছোটবড় সব গাড়িই এখানে চলতে শুরু করে। চার লেনের এই অত্যাধুনিক ব্রিজ পূর্ব বর্ধমানের কালনা কাটোয়া সহ রাজ্যের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের নতুন যোগসুত্র। প্রায় ১১০ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি এই ঝুলন্ত ব্রিজ তৈরি করা হচ্ছে। ভারতবর্ষ তথা ভারতীয় রেলের ইতিহাসে রেল লাইনের উপরে এটাই দীর্ঘতম ঝুলন্ত ব্রিজ। মুম্বইয়ের বান্দ্রা ওরলি সি লিঙ্কে যে ঝুলন্ত ব্রিজ রয়েছে, তা বর্ধমানের নতুন ব্রিজের তুলনায় অনেকটাই ছোট। রেল লাইন থেকে সেতুর উচ্চতা প্রায় সাড়ে ছয় মিটার। ব্রিজের দু’পাশে দুটি পিলার থেকে ব্রিজটিকে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেতুটি নির্মাণে কয়েকবছরের সময়সীমা লেগেছিল। বর্ধমান কাটোয়া পুরনো রেল ওভারব্রিজটি ক্রমশই ভগ্নপ্রায় হয়ে পড়ছিল।এটি ছিল একশো বছরের পুরনো একটি ব্রিজ। নতুন সময়ে বেড়ে চলা ট্রাফিকের ক্রমবর্ধমান ভার বইতে ক্রমশ জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছিল এই ব্রিজ। তাই নানা পথ পেরিয়ে এই নতুন ব্রিজ তৈরি হওয়ায় খুশি হন নাগরিকেরা।বর্ধমানের মুকুটে যুক্ত হয় নতুন পালক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *