ক্রীড়া সংস্কৃতি

সারেঙ্গায় আদিবাসী উৎসব

সাধন মন্ডল ,

আদিবাসী মূলনিবাসী মঞ্চের উদ্যোগে আঠারোতম আদিবাসী ভাষা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হলো সারেঙ্গার বাগজাতা মোড়ে। অনুষ্ঠানের শুরুতে আদিবাসী প্রথায় ধামসা মাদলের তালে নৃত্যানুষ্ঠানের মধ্যদিয়েই অতিথিদের নিয়ে যাওয়া হয় অল চিকি লিপির স্রষ্টা পন্ডিত রঘুনাথ মুর্মুর মূর্তির সামনে। সেখানে পন্ডিত রঘুনাথ মুর্মু ও অলচিকি লিপির মূল প্রচারক সারেঙ্গার ভূমিপুত্র সুপ্রকাশ মুর্মুর মূর্তিতে মাল্যদান করা হয়। মূর্তিতে মাল্যদান করেন বাঁকুড়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি মৃত্যুঞ্জয় মুর্মু, রাইপুর বিধানসভার বিধায়ক বীরেন্দ্রনাথ টুডু, খাতড়া মহকুমা শাসক রবিরঞ্জন,, খাতড়া মহকুমা পুলিশ আধিকারিক কাশীনাথ মিস্ত্রি, সারেঙ্গা সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক ফাহিম আলম, সারেঙ্গা থানার আইসি, সারেঙ্গা ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সুব্রত মিশ্র,চিলতোড় অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি কল্যান প্রসাদ মিশ্র, আদিবাসী মূলনিবাসী মঞ্চের রাজ্য সভাপতি প্রসেনজিৎ মন্ডল, কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রবীনাথ মান্ডি সহ বিশিষ্টরা। মাল্যদান এরপর মূলমঞ্চে আদিবাসী ভাষায় রবীন্দ্রসঙ্গীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন বিশিষ্ট শিক্ষিকা শ্রাবণী প্রধান ও সম্প্রদায়। ভাষা দিবসের তাৎপর্য বিশ্লেষণ করে বক্তব্য রাখেন বাঁকুড়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি মৃত্যুঞ্জয় মুর্মু, রাইপুর বিধানসভার বিধায়ক বীরেন্দ্রনাথ টুডু, আদিবাসী মূলনিবাসী কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রবিনাথ মাণ্ডি প্রমূখ। বক্তব্য রাখতে গিয়ে সভাধিপতি মৃত্যুঞ্জয় মুর্মু বলেন দীর্ঘ লড়াই আন্দোলনের পর ২০০৩ সালে আমাদের আদিবাসী ভাষাকে অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ আমাদের লড়াই আন্দোলনের ফসল। একে রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের সকলের। একমাত্র আমাদের রাজ্যে আদিবাসী ভাষায় পঠন পাঠন এর ব্যবস্থা আছে যা প্রথম শ্রেণী থেকে স্নাতক স্তর পর্যন্ত খুব সম্প্রতি রাজ্যে আদিবাসী ভাষার শিক্ষক নিয়োগ করা হবে বলেও সভাধিপতি জানান। আদিবাসীদের উন্নয়নে মা মাটি মানুষের সরকার মমতাময়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বদ্ধপরিকর। তিনি সমস্ত শ্রেনীর মানুষের জন্য ষাটটিরও বেশি উন্নয়ন মূলক কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। আদিবাসীদের জন্য বেশ কয়েকটি প্রকল্প রয়েছে তার মধ্যে জয় জোহার প্রকল্প টি আদিবাসীদের মধ্যে সাড়া জাগিয়েছে। ষাট বছরের উর্ধ্বে বয়স্ক বৃদ্ধ বৃদ্ধারা প্রতিমাসে হাজার টাকা করে মাসিক ভাতা পাচ্ছেন। যা সারা ভারতবর্ষের মধ্যে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। তাই আগামী দিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে তৃতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে দেখতে চান এলাকার মানুষ বলে তিনি দাবি করেন। ভাষা দিবসের তাৎপর্য নিয়ে রাইপুর বিধানসভার বিধায়ক বীরেন্দ্রনাথ টুডু বলেন আমরা আমাদের আদিবাসী ভাষা কে নিয়ে গর্ব অনুভব করি। স্বাধীনতা আন্দোলনে আদিবাসীদের ভূমিকা ছিল সবচেয়ে বড়। চাঁদ ভৈরব, সিধু কানুর কথা উল্লেখ করে তাদের শ্রদ্ধা জানান বিধায়ক। আজকের ভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে বিধায়ক এর সহযোগিতায় এলাকার দুইশ জন দুঃস্থ মানুষের হাতে শীতবস্ত্র ও এলাকার প্রায় 300 জন স্কুলপড়ুয়া হাতে খাতা ও কলম তুলে দেওয়া হয়। এ প্রসঙ্গে আদিবাসী মূলনিবাসী মঞ্চের রাজ্য কমিটি সভাপতি প্রসেনজিৎ মন্ডল বলেন আমরা ভাষা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করার কথা বললে বিধায়ক তার সমস্ত রকম সহযোগিতার আশ্বাস দেন।তারই সহযোগিতায় আজকের এই অনুষ্ঠান। কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রবীনাথ মান্ডি বলেন দীর্ঘ লড়াই আন্দোলনের ফসল আদিবাসী ভাষাকে অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা। 2003 সালের আজকের দিনে তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকার আমাদের ভাষা কে মর্যাদা দিয়ে অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। সেদিন থেকেই আজকের দিনটি আমরা আদিবাসী ভাষা দিবস হিসেবে পালন করে আসছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *