পুলিশ

বিদ্যালয় শিক্ষকদের কাজিয়া থামাতে হিমসিম বীরভূমের তিন থানার পুলিশ

খায়রুল আনাম (সম্পাদক সাপ্তাহিক বীরভূমের কথা )

 তিন থানার পুলিশ বিদ্যালয় শিক্ষকদের কাজিয়া থামিয়েও রেহাই পাচ্ছে না
         
করোনা আবহে বন্ধ সরকারি বিদ্যালয়গুলির স্বাভাবিক পঠন-পাঠন ব্যবস্থা। কিন্তু বিদ্যালয় শিক্ষক-শিক্ষিকাদের একাংশ  বিদ্যালয়ে পঠন-পাঠনের পরিবর্তে  বিদ্যালয়ে যে গোষ্ঠী বিবাদের  চর্চ্চা করে থাকেন, সেই  সংক্রমণ  যে বজায় রেখেছেন, তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে চর্চ্চায়  উঠে এসেছে বীরভূমের পাইকর থানার  সদাশিবপুর বিশোড়  উচ্চ বিদ্যালয়। পরিস্থিতি একটা সময় এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যাতে ওই বিদ্যালয়ের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিদ্যালয় চত্বরে হাজির হতে হয় তিনটি থানার পুলিশ বাহিনীকে। কিন্তু তাতে সাময়িক স্বস্তি মিললেও, পরিস্থিতির যে পরিবর্তন হয়নি, তা টের পাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ আধিকারিকরা।  পরিস্থিতি এমন যে, সরাসরি সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এখন আর ওই থানা ডাকতে পারছেন না অন্য থানার আধিকরিকদের। তাই এখন ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে বলে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখার কাজটুকুই শুধু করতে হচ্ছে পুলিশকে।      দীর্ঘদিন ধরে  সদাশিবপুর বিশোড়  উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক  না থাকায়, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের ভার সামলাচ্ছিলেন। সেই সময় থেকেই বিদ্যালয়ের পঠন-পাঠন এবং শৃঙ্খলার মান নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছিলো।  বিগত ফেব্রুয়ারি মাসে এই বিদ্যালয়ের  প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ  দেন  শান্তশ্রী চট্টোপাধ্যায়।  তিনি   বিদ্যালয়ের খাতাপত্র খতিয়ে দেখতে গিয়ে মিড-ডে মিল ও কন্যাশ্রী প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম  খুঁজে পান। এমন কী তিনি দেখেন যে, বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক-শিক্ষিকা  অনিয়মিতভাবে যাতায়াত করেন।  তিনি সকলকেই নিয়ম মতো বিদ্যালয়ে আসার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে জানিয়ে দেন যে,  যিনি নিয়ম মেনে যাতায়াত করবেন না,  সেদিন তাঁর খাতায় লালকালির দাগ পড়বে। এনিয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে তাঁদের এমনিই ঠাণ্ডা লড়াই শুরু হয়ে যায় যে, প্রধান শিক্ষককে অন্যত্র বদলির চেষ্টা চালানো হয়। শেষ পর্যন্ত তাঁর কাছ থেকে  ‘জোর করে ইস্তফাপত্র লিখে নেওয়া হয়’ বলে অভিযোগ ওঠে।  প্রধান শিক্ষক সমগ্র বিষয়টি গ্রামবাসীদের   জানিয়েও রাখেন। এরই মধ্যে  ১৪ ডিসেম্বর কয়েকজন ছাত্র  বিদ্যালয়ে আসে  ভর্তির বিষয়ে খোঁজখবর নিতে। সেই সময় কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষিকা গল্পে মশগুল ছিলেন। তাঁরা ওই ছাত্রদের সঙ্গে  দুর্ব্যবহার শুরু করে দেন।  এই সময় প্রধান শিক্ষক এসে জানান যে, ছাত্রদের সঙ্গে শিক্ষকদের এটা ব্যবহারের নিয়ম নয়। আর তাতেই ওই শিক্ষকরা ক্ষিপ্ত হয়ে প্রধান শিক্ষককে ধাক্কাধাক্কি শুরু  করে দেন। ছাত্ররা বাড়ি গিয়ে বিষয়টি তাঁদের অভিভাবকদের জানালে তাঁরা  বিদ্যালয়ে চলে আসেন।  বিদ্যালয়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।  খবর পেয়ে বিদ্যালয়ে এসে পৌঁছয় পাইকর থানার পুলিশ। এই খবর আশপাশের গ্রামগুলিতে ছড়িয়ে পড়তেই  কাতারে কাতারে অভিভাবকরা ও অন্যান্য মানুষ এসে বিদ্যালয়ে হাজির হন। তাঁরা বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আচরণের প্রতিবাদে সরব হন। এমন কী, তাঁরা ওইসব শিক্ষক-শিক্ষিকাদের তাঁদের হাতে তুলে দেবারও দাবি জানাতে থাকেন।  জন বিক্ষোভ  এমন জায়গায়    চলে যায় যাতে পরিস্থিতি সামাল দিতে পার্শ্ববর্তী  নলহাটি ও মুরারই থানা  থেকে বিশাল পুলিশ বাহিনী এসে পরিস্থিতি কোনক্রমে সামাল দেয়।  যদিও ঘটনার জেরে বিদ্যালয় পরিচালন সমিতির সভাপতি  হাবিবুর খান এ বিষয়ে নিশ্চুপ থেকে যান।       কিন্তু এই ঘটনার রেশ ভিতরে ভিতরে চলতে থাকে। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের একাংশ বলতে থাকেন যে, লকডাউনের সময়  প্রধান শিক্ষক তাঁদের বিদ্যালয়ে আসতে বাধ্য করেছেন। প্রধান শিক্ষক ব্যক্তিগত কারণে ইস্তফাপত্র লিখে তা তাঁর কাছ থেকে জোর করে লিখিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে প্রচার করেছেন।  যদিও প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, যদি  তিনি তা করতেন তাহলে তিনি বিদ্যালয়ে থাকতেন না। পড়ুয়া ও তাদের অভিভাবকেরা তাঁর পক্ষে এসে দাঁড়াতেন না।  তিনি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়ম ধরে ফেলার ফলেই তাঁকে এখান থেকে সরাবার জন্য এমনটা করা হচ্ছে।  এদিকে এই পরিস্থিতির মধ্যেই বিদ্যালয়ের  ১৫ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা পাইকর থানায় গিয়ে  অভিযোগ দায়ের করলেন যে, বর্তমান প্রধান শিক্ষকের সময়ে তাঁরা ‘বিদ্যালয়ে নিজেদের নিরাপদ’ মনে করছেন না। ঘটনার জেরে বিদ্যালয় এবং এলাকার পরিস্থিতি নতুন করে তেতে উঠবে বলেই মনে করা হচ্ছে।। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *