ক্রীড়া সংস্কৃতি

জাতীয় সঙ্গীত পরিবর্তনের দাবি ও আমাদের রাজনৈতিক বোঝাপড়া

জাতীয় সংগীত পরির্বনের দাবি ও আমাদের রাজনৈতিকতা বোঝাপড়া

মীনাক্ষী ভট্টাচার্য

আবেগ অনেক সময় আমাদের ভুল পথে চালিত করে, আমাদের রাজনৈতিক বোঝাপড়া গুলোকে গুলিয়ে দেয়। সুভ্র‍্যমানিয়াম স্বামী দাবি তুললেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখলেন- ভারতের রাষ্ট্রীয় সঙ্গীত পরিবর্তন করতে হবে৷ বাঙালির প্রাণের ঠাকুর রবি ঠাকুরের লেখা “জন গণ মন” পরিবর্তনের দাবি করলেন তিনি, এ জিনিস বড়ই ক্ষোভের, কষ্টের৷ বিশ্বিভারতীর ছাত্রী হিসাবে সাথে সাথে গর্জে উঠলাম, প্রতিবাদ করলাম। বিশ্বভারতীর অংশ হিসাবে, বাঙালি হিসাবে প্রতিবাদে মুখর হওয়াই স্বাভাবিক।

কিন্তু এবার আবেগ থেকে নিজেকে বের করে কয়েকটা সহজ কথা বোঝা জরুরী। সুভ্র‍্যমানিয়াম স্বামী কখন এই রাষ্ট্রীয় সঙ্গীত পরিবর্তনের দাবি তুললেন? সময়টা খেয়াল করুন। বাংলার বিধানসভা নির্বাচন দুয়ারে, একটা রাজনৈতিক দল তার গায়ে লাগা “বহিরাগত”, “বাঙালি বিরোধী” ট্যাগ ঝাড়তে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে। আগামী ২০ তারিখ বিশ্বভারতী আসছেন রাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সম্ভবত সমাবর্তনে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখবেন পদাধিকার বলে বিশ্বভারতীর আচার্য্য তথা রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী। ইতিমধ্যেই তাঁর মধ্যে রবীন্দ্র প্রেমী, বাঙালি প্রেমী সাজার মিথ্যে চেষ্টা দেখছি, দাড়িও রেখেছেন রবি ঠাকুরের ধাঁচে।

সুভ্যমানিয়াম স্বামী বাঙালির মধ্যে উৎকন্ঠা, ক্ষোভের জন্ম দিলেন। এবার সেই ক্ষতে মলম লাগাবেন মোদী-শাহ। বার্তা দেবেন, “জন গণ মন” পরিবর্তন করা হবে না, তারা রবীন্দ্র প্রেমী। সাথে সাথে মোদি হয়ে উঠবেন বাঙালির মসিহা। সংবাদমাধ্যম তারস্বরে ঢাকঢোল পেটাবে, মোদিকে রবীন্দ্র প্রেমী, বাঙালির বন্ধু হিসাবে দেখানো হবে। অর্থাৎ “সর্প হইয়া দংশাও, ওঝা হইয়া ঝাড়ো”। মনে হবে যেন, মোদি রবি ঠাকুরকে এই যাত্রায় রক্ষা করলেন, তিনি বাঙালির ত্রাতা।

অদ্ভুত! রবি ঠাকুর ছিলেন, আছেন, থাকবেন। তাঁর সৃষ্টি অমর, ” জন গণ মন” ভারতের রাষ্ট্রীয় সঙ্গীত ছিল, কোনো সমস্যাই ছিল না। তার দলের নেতা সেটা নিয়ে কথা বললেন, পরিবর্তনের দাবি তুললেন। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাঙালির কাছে হিরো হয়ে যাবে কেউ কেউ। এই সহজ রাজনৈতিক চাল বোঝা জরুরী। আমাদের এই ফাঁদে পা দিলে চলবে না। আমরা জানি, কাদের আদর্শ সম্পূর্ণ রূপে রবি ঠাকুরের আদর্শ বিরোধী, আমরা জানি কারা রবি ঠাকুরের শত্রু। আমরা জানি কারা NCERT সিলেবাস থেকে রবি ঠাকুরের নাম বাদ দিয়েছে, আমরা জানি ত্রিপুরাতে রবীন্দ্রনাথের মূর্তি কারা ভেঙেছে, আমরা জানি পাটনায় রবীন্দ্র চকের নাম বদলে “অটল চক” কারা করেছে। তারা একদিকে প্রতি সেকেন্ডে রবি ঠাকুরকে মুছে ফেলতে চেষ্টা চালাচ্ছে, অন্যদিকে ভোটের আগে রবি ঠাকুরকে বেচছে। আমরা এটা হতে দিতে পারি না৷

আমাদের সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে। লেখায় ত্রুটি থাকলে মার্জনা করবেন। ক্ষুদ্র রাজনৈতিক বুদ্ধিতে এটাই মনে হল। একটু ভেবে দেখুন, কয়েকটা মিনিট সময় দিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *